Main Menu

ডাকসু নির্বাচন, ছাত্রলীগসহ অপরাপর ছাত্রসংগঠনসমূহ, গনমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমসমূহের প্রতিক্রিয়া

মোঃ শফিকুল আলম: দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো ডাকসু নির্বাচন। সামরিক সরকার বা যাকে আমরা স্বৈরাচারী সরকার হিসেবে অবিহিত করে দেড় দশক আন্দলন সংগ্রাম করেছি। অনেক ছাত্র গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছে। এই দেড় দশকে স্বৈরাচার সমর্থক কোনো ছাত্র সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠা পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের পুরো অধিকার ভোগ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদে ৮০’র দশকে জাসদ ছাত্রলীগ, পরবর্তীতে বাসদ ছাত্রলীগ শীর্ষ পদসমূহে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের জাতীয় রাজনৈতিক দল বিএনপির থেকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করেছিলো। জেনারেল এরশাদের ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পায়নি অদ্যাবদি। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ (এরশাদ ক্ষমতাসীন সময়ে) নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদসহ হলসংসদসমূহে মেজরিটিতে নির্বাচিত হয়েছিলো।

 

ডাকসুতে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনোকালেই বিঘ্নিত হয়নি। একমাত্র স্বাধীনতার পর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান শেষে ব্যালটবাক্স ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু তাতে ফলাফল বদলানো যায়নি। কিন্তু সেটি যে আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে হয়েছিলো সে কলংকের দাগ ছাত্রলীগ যেমন যুগযুগ ধরে বহন করছে এবং করতে থাকবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর কোনো সরকার মূলত: ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেয়নি গত ২৮ বছর। কারন ডাকসু মানে দেশের সচেতন ছাত্রসমাজের বা দেশের বিবেকবান অংশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এর সাথে সংযুক্ত হয় শিক্ষক সমাজ এবং দেশের শ্রমিক সমাজ। আন্দলন ঠেকানো সম্ভব হয়না। সবাই জানতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিবেকের বাইরে কাজ করেনা। কোনো কিছুতে তাদের থামানো যায়না। থামাতে গেলে আন্দলনের মাত্রা গুনন প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি পায়।

 

কিন্তু আওয়ামীলীগ তৃতীয় মেয়াদের জন্য সরকারে থাকা যখন নিশ্চিত করতে সক্ষম হলো এবং অনুভব করলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের বিজয় নিশ্চিত করতে পারবে তখনই কেবল এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচন কমিশন, সরকারের সকল প্রশাসন যতটা সুচারুরূপে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত কলা গাছ, কঁচু গাছসহ সবাইকে বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত করে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর এবং প্রচন্ড ক্ষমতাধর সরকার উপহার দিতে পেরেছে অপেক্ষাকৃত দূর্বল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান আক্তারুজ্জামান পুরোপুরি সেই পথ অবলম্বন করতে গিয়ে কিছুটা হোঁচট খেয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থ হননি।

 

সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নানান মন্তব্য রয়েছে। অনেক সময় মনে হচ্ছে চীফ নির্বাচন কমিশনারের মতো তারা মনের অজান্তেই বলে ফেলছেন নির্বাচনটি যথাযথভাবে হয়নি। ভোটচুরি হয়েছে। মুখ ফসকে যেমনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাতে ভোট চুরির সত্যতা স্বীকার করলেন তেমনি ছাত্রলীগের একটা অংশ বলছে তাদের ভিপি প্রার্থীকে প্রশাসন হারিয়ে দিয়ে নুরুকে জিতিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ছাত্রলীগ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের উত্থাপিত নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টা স্বীকার করে নিচ্ছে।

 

কুয়েতমৈত্রী হলে যা’ ঘটলো তার দায় এবং কলংক যেমন যুগযুগ ধরে ছাত্রলীগকে বহন করতে হবে তেমনি জনাব আক্তরুজ্জামান এবং তাঁর সহযোগী শিক্ষকবৃন্দ সকল মন্দ কাজের উদাহরন হিসেবে যুগযুগ ধরে স্মরিত হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে কলংকিত করার দায়ে তাঁরা দীর্ঘকাল ঘৃনিত হতে থাকবেন।

 

আওয়ামীলীগ আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকছে। ডাকসুতে নির্বাচিত হলেও থাকছে না হলেও থাকছে। ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবি সংগঠনসমূহের নির্বাচনে নির্বাচিত হলেও থাকছে। না হলেও থাকছে। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসমূহে নির্বাচিত হলেও থাকছে। না হলেও থাকছে। তা’হলে নির্বাচন ব্যবস্থাটিকে অকার্যকর করার ঐতিহাসিক দায় কেনো নিচ্ছে তা’ কিছুতেই বোধগম্য নয়। কেনো সর্বত্র দখলদারিত্বের রাজনীতি আওয়ামীলীগ শুরু করলো? বিরোধীদলগুলোর বর্জনের মুখে কি কারনে দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে? দলীয় প্রতীকবিহীন করে এই নির্বাচনটিকে অর্থবহ করার মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাটিকে একটি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে জোর করে উন্নয়ন দিয়ে অন্তত মানুষের মন জয় করা যাবেনা। উন্নয়নের ফল ভোগ করবেন কিন্তু সুযোগমত ভোটাধিকার হননের দায়ে প্রতিশোধ গ্রহন করবে।

 

ডাকসু নির্বাচন দিয়ে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি বোঝার এবং মূল্যায়নের চেষ্টা করা উচিত। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ সমর্থকরা যদি বুঝে থাকেন যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যায়গায় শিবির সমর্থক কেউ ভিপি হতে পারে তা’হলে কিন্তু জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারে- না-কি? বিষয়টি তা’ নয়। আপনাদের মূলযায়নের ভুল। শিবিরকে যদি আলাদা প্যানেলে নির্বাচন করতে দেয়া হতো তা’হলে তারা সুষ্ঠু ভোটে নামমাত্র ভোট পেতো। জাতীয় নির্বাচনে যদি জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতো একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলোনা। এই আপনারা অমূলক ভুল মূল্যায়ন এবং অনিয়ম করে এবং জোর করে জেতার চেষ্টা করে রাজনৈতিক কারনে জামায়াত শিবিরকে হাইলাইটস করছেন। জাতীয় পর্যায় থেকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একই অবস্থা তৈরী করেছেন। কারন জাতীয় রাজনীতির লেজুরবৃত্তি হচ্ছে এর মূল কারন।

 

আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ এখন আর সুষ্ঠু নীতিমালায় পরিচালিত হচ্ছেনা। চারিদিকে জয়জয়কার এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি চলছে। সংগঠনকে একটি অর্ডারে নিয়ে আসতে না পারলে হরিলুটের দায় কিন্ত কেউ এড়াতে পারবেননা। সুখের পায়রা বলুন বা জনাব কাদেরের ভাষায় কাউয়া বলুন এরা কেউ থাকবেনা। ক্ষমতাও চিরস্থায়ী ব্যাপার নয়। রাজনীতির নিয়মে রাজনীতি করুন। সংগঠনের নিয়মে সংগঠন গড়ুন। অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন। ন্যায়ত ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করুন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT