Main Menu

চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেস এবং গনতন্ত্র

 মোঃ শফিকুল আলম:আমেরিকার সাথে ট্রেইড ওয়ারে ক্রমশ: অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবমান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ চায়নার বাৎসরিক রাজনীতি বিশ্লেষন অধিবেশন আজ শুরু হয়েছে। সঙ্গত কারনেই বিশ্বের দৃষ্টি এখন চায়নার দিকে নিবিষ্ট। অপরদিকে পুরো পশ্চিমা গনতন্ত্র চাইনিজ টেকনোলজীর ব্যবহার থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখছে বা রাখার চেষ্টা করছে।

 

দি ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেস সাধারনত: পাক্ষিক বৈঠকে বসে পলিসি অনুমোদন করে থাকে। কিন্তু যেসমস্ত পলিসি মূলত: কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চতর স্তরে কঠিন পরীক্ষা শেষে অনুমোদিত হয়ে আসে কংগ্রেস তা’ই অনুমোদন করে থাকে। কংগ্রেস গত বছর চাইনিজ সংবিধানে একটি বড় পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। আর তা’ হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চতর স্তরের চাহিদানুযায়ী সংবিধান থেকে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ তুলে দেয়া। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট আমরন প্রসিডেন্ট থাকবেন। এতে করে প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং তাঁর ক্ষমতার গ্রিপ নিরংকুশ করেছেন।

 

এবছর কংগ্রেস বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করবে যার কারনে পুরো বিশ্ব অতি আগ্রহ নিয়ে আজকের শুরু হওয়া কংগ্রেসের দিকে নজর রাখছে। অনেকের ধারনা এবছরের চাইনিজ বিনিয়োগ আইন দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে চাইনিজ সংরক্ষনমূলক আইনের সমালোচনা রয়েছে সেখানে সিগনিফিক্যান্ট পরিবর্তন নিশ্চিত করে বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগকে প্রশমিত করে প্রনীত হতে পারে। সে কারনেই পশ্চিমা বিশ্ব চাইনিজ বিনিয়োগ আইন পরিবর্তনের ওপর ঘনিষ্ট নজর রাখছে।

 

অভ্যন্তরীণভাবে তাদের ফিসকেল পলিসির অংশ হিসিবে অর্থনৈতিক মন্দা রোধে বা অর্থনীতিকে প্রনোদনা দেয়ার জন্য ২৭৪ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স-কাট্ পলিসি গ্রহন করেছে। ট্যাক্স-কাট্ পলিসি প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং বেকারত্ব দূরীকরনে সহায়তা করবে।

 

কংগ্রেস অধিবেশনের সূচনা দিনে চাইনিজ প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ক রিপোর্ট পেশ করে থাকেন যা’ আইন প্রনয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

 

পশ্চিমা গনমাধ্যমের সংবাদ কর্মীগন চায়না-সময় সকাল ৩টা থেকে ওয়ার্ক রিপোর্টের কপি সংগ্রহ করার জন্য লাইন ধরে আছেন। এই রিপোর্টে চায়নার প্রত্যাশিত জিডিপির হার এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা বাজেটের বর্ননা থাকবে। সে কারনেই এই রিপোর্ট পশ্চিমা বিশ্বের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর পেশকৃত রিপোর্ট গত মাসে প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং কর্তৃক পরিক্ষীত এবং অনুমোদিত হয়েছে। অতপর কমিউনিস্ট পার্টি পলিটব্যুরোও অনুমোদন দিয়েছে।

 

কংগ্রেস মুখপাত্র গতকাল প্রেস কনফারেন্সে দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির সংকেত দিয়ে তা’ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও বললেন। গত ২০১৮ সালে চায়নার প্রতিরক্ষা বাজেট ছিলো জিডিপির ১.৩% এবং ২০১৫ পর্যন্ত সিঙ্গেল ডিজিট হারে সীমাবদ্ধ ছিলো। মুখপাত্র উন্নত বিশ্বে এই বাজেট সাধারনত: জিডিপির ২% এর বেশি হয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন।

 

চাইনিজ সরকার সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর এবছর গুরত্বারোপ করবে। বিশেষ করে পিপল’স লিবারেশন আর্মির সাবেক সৈনিকরা যারা ওয়েলফেয়ার পেমেন্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ এবং অসন্তুষ্ট এবং গত বছরের পুরো সময় ধরে প্রদিবাদ করে আসছিলেন তাদের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে ওয়ার্ক রিপোর্টে পিপল’স লিবারেশন আর্মির ৩ লক্ষ সদস্য যারা তাদের চাকুরী হারিয়েছেন তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয় উল্লেখ করেছেন।

 

প্রেস কনফারেন্সে কংগ্রেস মুখপাত্র বিদেশ-বিনিয়াগ আইনে চায়নায় যারা বিনিয়োগ করবে এই আইনে তাদের বিনিয়োগ রক্ষায় গ্যারান্টি দেয়া হবে বলে জানান। এবং এই আইনে বিদেশী বিনিয়োগে আগ্রহীগন আইনের স্পষ্টতা এবং নির্দিষ্টতার কারনে অনেক আইনি সুবিধা ভোগ করবে। যে সমস্ত সেক্টর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে সেখানে সকল দেশের বিনিয়োগকারীগন বিনিয়োগ করতে পারবে।

 

গত বছর প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং এর সমাপ্তি সেসনে ভাষনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস সেশন শেষ হয় এবং সরকারের ওপর প্রেসিডেন্টের সর্বময় ক্ষমতা এবং প্রাধান্য প্রমানিত হয়।

 

কংগ্রেস দু’সপ্তাহের সেশন শেষে প্রেসিডেন্ট এবং পলিটব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত আইন পাশ করে আইনের বৈধতা দিবে। প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং শীঘ্রই ইউএস প্রসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত করতে পারেন এবং ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের রিপোর্ট মতে আগামী ২৭ মার্চ দু’নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলোমান ট্যারিফ ওয়ারের সমাপ্তি হবে বলে ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল মনে করে।

 

চাইনিজ গনতন্ত্রের রাবার স্ট্যাম্প লেজিসলেচার বা আইন পরিষদ এবং ইহার উপদেস্টা পরিষদের সভা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন সেশনে শেষ হবে।

 

অপরদিকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য নয় তাদের সংগঠন চাইনিজ পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স যাদের মধ্যে ব্যবসায়িক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মিলন রয়েছে এরকম প্রায় ২,০০০ ডেলিগেটের সভা গত রবিবার শুরু হয়েছে। সাবেক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর চীফ মার্গারেট চ্যান ডেলিগেট হিসেবে রয়েছেন বলে চাইনিজ পত্রিকাগুলো বেশ হাইলাইট করেছে।

 

সিপিপিসিসি (CPPCC-Chinese People’s Political Consultative Conference) চেয়ারম্যান ওয়াং ইয়াং যিনি একই সাথে কমিউনিস্ট পার্টি পলিটব্যুরোরও সদস্য তিনি ডেলিগেটদের স্মরণ করিয়ে দেন এবং একই সাথে সতর্ক করে দেন যে চায়নার লক্ষ্য হচ্ছে একটি আধুনিক উন্নত দেশে রূপান্তর। এক্ষেত্রে চায়নার সামনে অনেকগুলো ঝুঁকি এবং চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হবে।

 

এই দু’টি সভা যুগপৎ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে চাইনিজ স্টেট মিডিয়ায় অনেক প্রপাগান্ডা রয়েছে। এবং ট্যুইটারে বিদ্রুপাত্তক গানের ভিডিও তৈরী হয়েছে। যদিও চাইনিজ কর্তৃপক্ষ এই স্পর্শকাতর সময়ে সেই গানের ভিডিও এবং প্রপাগান্ডা ব্লক করে দিয়েছে।

 

অপরদিকে স্টেট নিউজ এজেন্সী জিনহুয়া ‘একজন আমেরিকানের চোখে চায়নার গনতন্ত্র’ শিরোনামে একটি ভিডিও তৈরী করেছে। এই ভিডিওতে একজন আমেরিকানকে বলতে দেখা যায়, “ এটি সর্বজন স্বীকার্য যে চায়নার সফলতা হচ্ছে চাইনিজ সিস্টেমে গনতন্ত্র যা’ চায়নার স্থিতিশীলতার ভিত্তি এবং শক্তিশালী দেশ হওয়ারও ভিত্তি।” অবশ্য সেই আমেরিকান চাইনিজ স্টেট নিউজ এজেন্সী জিনহুয়ায় কর্মরত রয়েছেন।

 

চায়না অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সিস্টেমকে গনতান্ত্রিক বলে আসছে। এবং তাদের গনতন্ত্র সম্পর্কে পশ্চিমা অবজারভারদের ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে জি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে বলেন তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে চায়নাকে আধুনিক উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করা, চায়নাকে একটি সোস্যালিষ্ট ন্যাশন এবং একই সাথে একটি গনতান্ত্রিক দেশে পরিনত করা। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই বক্তব্যে বেশ উদ্বেলিত হয়ে তাঁর ভূয়শী প্রশংসা করেছিলেন।

 

কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে চায়নায় বহুদলীয় গনতন্ত্র অনেকটা সুদূর পরাহত।এমনকি চাইনিজ আইনসভা কোনো আইন প্রনয়ন বা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখেনা। সমস্ত পলিসি নির্ধারণ করে থাকে কমিউনিস্ট পার্টি।

 

অবশ্য কংগ্রেসের অধিবেশনকে সামনে রেখে চাইনিজ শেয়ার মার্কেট বেশ চাঙ্গা হয়েছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT