Main Menu

কোনো সমঝোতা এবং চুক্তিতে না পৌঁছেই ট্রাম্প এবং কিমের হ্যানয় বৈঠক ভেঙ্গে গেলো

মোঃ শফিকুল আলম: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন নির্ধারিত মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহন না করেই হঠাৎ করে তাঁদের হ্যানয় বৈঠক সংক্ষিপ্ত করেন। উত্তর কোরিয়ার আনবিক অস্ত্র নিবারন এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ তৈরী হওয়ায় এই বৈঠক সফলতা পায়নি।

 

দুই নেতা এবং তাঁদের প্রতিনিধিদল অপ্রত্যাশিতভাবে মধ্যাহ্ন ভোজ এবং চুক্তি অনুষ্ঠান বাতিল করেন। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ব্যাপারে দুই নেতার প্রতিনিধিদল ঐকমতে পৌঁছুতে পারেননি।

 

এরই মধ্যে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অনেকটা কিম জং উনকে ডিফেন্ড করলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে Otto Frederick Warmbier একজন আমেরিকান ছাত্র রাশিয়া হয়ে উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলো। আমেরিকার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের একটি পোষ্টার চুরি করার দায়ে উত্তর কোরীয় এক নায়কন্ত্রিক সরকার তাকে গ্রেফতার করে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। Otto’র বাবা-মা’র আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৬-তে ট্রাম্প প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকার চাপে ২০১৭’র জুনে দীর্ঘদিন কোমায় থাকা Otto-কে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু জুনের ১৯ তারিখে Otto মারাত্মকভাবে ব্রেইন ড্যামেইজ হওয়ার কারনে মৃত্যু বরন করে। Otto’র ওপর কোরীয় রেজিম যে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছিলো সেই সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বললেন কিম হয়তো Otto-কে নির্যাতন করে ব্রেইন ড্যামেজ করার ব্যাপারটি জানতেননা।

 

কিম বল্লেন তিনি নীতিগতভাবে আনবিক অস্ত্র নিবারনে রাজি ছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তি হবে এই মর্মে বলেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প বল্লেন যে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং চুক্তি করা সম্ভব হয়নি কারন কিমকে কিছু প্রয়োজনীয় শর্ত পূর্ন করতে হবে। তাঁর ভাষ্যানুযায়ী জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ায় আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে যদি পিয়ংইয়ং একটি মাত্র নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি বন্ধ করে দেয় যেখানে আর্সেনাইল মিসাইল তৈরী হয়।

 

ট্রাম্প আরো বলেন যে আমাদের কাছে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো বিকল্প গ্রহন করা যাবেনা। তাঁর মতে এমন সময় রয়েছে যখন শুধু সামনে চলতে হয় এবং এটি সেরকম সময়। এর কয়েক ঘন্টা পরে উত্তর কোরিয়ার বিদেশ মন্ত্রী বলেন আমরা শুধু আংশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন করেছিলাম এবং বিনিময়ে ধাপে ধাপে আমাদের আনবিক শক্তির সমৃদ্ধি কমিয়ে আনার এবং সর্বশেষ সম্পূর্ণ নিবারন করতে চেয়েছিলাম। তার জন্য একটি ফ্রেইম ওয়ার্ক তৈরী করা যেতো। আমরা ক্রমশ: পুরোপুরি অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিতে বলছিলাম যা’ উত্তর কোরিয়ার সাধারন মানুষের অর্থনৈতিক এবং নিত্যকার জীবন যাপন ব্যাহত করছে। অবশেষে বিদেশ মন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে সত্য স্বীকার করলেন।

 

উত্তর কোরিয়ার বিদেশ মন্ত্রী অবশ্য তাঁরা আর কি-কি করতে পারেন তার বিষদ বলেননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন উত্তর কোরিয়া সকল আনবিক অস্ত্র এবং সরন্জাম উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে চায়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আমেরিকান নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞদেরকে বিভিন্ন সাইট সুপারভাইজ করার অনুমতি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

 

চ্রাম্পের আকস্মিক মত পরিবর্তন এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা এক ধরনের কুটনৈতিক ব্যর্থতা বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গত বছরের গ্রীষ্মে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প এবং কিমের বৈঠক থেকে একটি প্রত্যাশা তৈরী হয়েছিলো যে দ্বিতীয় সম্মেলনে একটি আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখা যাবে। কিন্তু জনাব ট্রাম্পের ভিয়েতনাম অভিমুখে ২০ ঘন্টার সফর এবং সম্মেলন ফলাফল শূন্য।

 

ট্রাম্প-কিম বৈঠকে চুক্তি না হওয়ায় এশিয়ার পুঁজিবাজারে কম্পন তৈরী হয়েছে। দক্ষিন কোরিয়ার পুঁজিবাজার খাঁড়াখাড়ি ০১.৮% নেমে গেছে। জাপানের পুঁজি বাজারে অন্তত ২২৫টি কম্পানির শেয়ার ০.৮% নীচে নেমে গেছে।

 

ভিয়েতনাম ত্যাগের পূর্বে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন কিম এবং তিনি এমনকি তৃতীয় সম্মেলনের ব্যাপারে সম্মত হননি। তবে ট্রাম্প বলেন তাঁরা উভয়ে এখনও ইতিবাচক রয়েছেন। ট্রাম্প আরো বলেন এটি আলোচনার পথ থেকে বেড়িয়ে যাওয়া নয়। কিমের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং উষ্ন পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। এ উষ্ণতা এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকবে।

 

ট্রাম্প একথাও বলেন যে কিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে মিসাইল পরীক্ষা বা কোনো ধরনের আনবিক অস্ত্রের পরীক্ষা লান্চ করবেননা। এমনকি কিম ইয়ংবিয়ন সায়েনিটিফিক রিসার্চ কম্পেলেক্স বন্ধ করে দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। এই সাইটটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান নিউক্লিয়ার রিএ্যাক্টর যেখানে আনবিক বোমা তৈরীর প্রধান উপাদান প্লুটোনিয়াম তৈরী হয়। কিন্তু কিম অন্যান্য গোপন রিএ্যাক্টর বিশেষ করে যেখানে ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত করা হয় তা’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেননি। কিন্তু ট্রাম্প আলোচনার অন্যতম বিষয় অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে কথা বলেননি। তবে ট্রাম্প বলেন মূলত: উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার বিপরীতে তাদের আনবিক অস্ত্রের বড় একটি অংশ ডেস্ট্রয় করতে রাজী আছে। কিন্তু ট্রাম্পের মতে এই মুহূর্তে সকল অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া সম্ভব নয়। সেক্রেটারী অব দি স্টেট মাইক পম্পিও অনেকটা অস্ফুট স্বরে বলেছেন দু’দেশের আলোচকগণ নিশ্চয়ই একটি সমঝোতায় পৌঁছুতে পারবে কিন্তু আলোচনা চলবে এরকম কোনো দৃঢ়তা ব্যক্ত করেননি। পম্পিও আরো বলেন, “ আমরা ৩৬ ঘন্টা পূর্বের থেকে আজ অনেকটা কাছে ছিলাম, আবার দু’এক মাস আগের থেকে অবশ্যই অনেকটা কাছাকাছি ছিলাম। সুতরাং প্রকৃত পক্ষেই সম্পর্ক এগিয়েছে বলতে পারি। তবে হয়তো প্রত্যেকেই প্রত্যাশা করেছিলো যে আমরা ঐকমতে পৌঁছাবো কিন্তু সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষের কোনো জটিল বিষয়ে সম্মত হওয়া কঠিন তবে অসম্ভব নয়।”

 

তবে এটি বোধগম্য যে দু’পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছানোতে অনেক দূরে ছিলো। বিশেষ কিছু পয়েন্টে বিশেষ করে কোরীয়ান পেনিনসুলায় সম্পূর্ণরূপে আনবিক অস্ত্র উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপার। অপরদিকে উত্তর কোরিয়া থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার ব্যাপার। বিশেষ করে আনবিক বোমা তৈরীর মূল উপাদান উৎপাদন হয় এমন কারখানা বন্ধের বিনিময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবরোধ তুলতে ইউএসএ রাজি হয়েছিলো। কিন্তু সম্পূর্ণ অবরোধ তুলে নেয়া জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যেহেতু অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।

 

ট্রাম্প অবশ্য সমঝোতায় পৌঁছতে তাড়াহুড়া না করার পক্ষে। তিনি বলেন কিমের সংগে তিনি যথাযথ সমঝোতায় পৌঁছতে চান। অপর পক্ষে কিমও নীতিগতভাবে ডিনিউক্লিয়ারাইজেশনের পক্ষে। ইউএসএ দু’দেশের রাজধানীতে লিয়াজন অফিস খোলার ব্যাপারে একমত। ওয়াশিংটনের পিয়ংইয়ং-এ কোনো কুটনৈতিক অফিস নাই। উত্তর কোরীয় নেতা কিমও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কথা বললেন এবং ভবিষ্যতে কোনো একটা ভালো ডিল সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT