Main Menu

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংকট গভীরতর হচ্ছে

মোঃ শফিকুল আলম: পাকিস্তান এয়ারফোর্স দাবী করছে তারা ভারতীয় দু’টি বিমান তাদের আকাশ সীমায় গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে একটি বিমান তাদের সীমানায় পতিত হয়েছে এবং অন্যটি ভারতীয় সীমানায় পতিত হয়েছে। পাকিস্তান সীমানায় পতিত বিমানের পাইলট আহতাবস্থায় গ্রেফতার হয়েছে। ভারত তাদের একটি বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে এবং আটককৃত পাইলটের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দাবী করেছে।

 

সংঘর্ষ অনিবার্য হয় ঠিক ভারত কর্তৃক গত বুধবার যখন পাকিস্তানের আকাশ সীমায় টেররিস্ট গ্রুপ জয়েশ-ই-মোহাম্মাদ (জেইএম) এর ঘাঁটিতে বিমান হামলা হয়। এটি মূলত: ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তানি সীমায় পাকিস্তানের ভাষায় বহি:দেশের আক্রমন। ভারত অবশ্য বলেছে সন্ত্রাসী গ্রুপ যারা এবছরের মধ্য ফেব্রুয়ারীতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সুইসাইড বম্বিং করে তাদের ৪০ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছে তাদের ওপর এই আক্রমন, পাকিস্তানের ওপর নয়। পাকিস্তান যেহেতু সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে সব সময়ই তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছে তাই ভারত তাদের জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসী গ্রুপের ওপর আক্রমনের অধিকার রাখে।

 

কিন্তু পাকিস্তান এই আক্রমনকে একটি দেশের আকাশ সীমা লংঘন করে আরেকটি দেশের বিমান হামলা বহি:শত্রুর আক্রমন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তার জবাবে তারা ভারতীয় দু’টি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবী করেছে। এমনকি কাশ্মীর সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যে মর্টার বিনিময় হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

 

ভারত এবং পাকিস্তান উভয় পক্ষই কাশ্মীরের একেকটি অংশ নিয়ন্ত্রন করে আসছে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে। কিন্তু দু’দেশই পুরো কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রন চায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুদ্ধের ভয়াবহতা কোনো পক্ষই পূর্ব থেকে পরিমাপ করতে পারবেনা। তাই তিনি দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। উস্কানি চলতে থাকলে পরিস্থিতি তাঁর (ইমরান খান) এবং নরেন্দ্র মোদি উভয়ের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও ইমরান খান অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

গতকাল যেমন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল আজিজ গফুর ভারতীয় দু’টি বিমান ভূপাতিত করার দাবী করেন তেমনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র রাভিস কুমার তাদের একটি বিমান এবং একজন পাইলটের মিসিং স্বীকার করে নিয়ে ভারতীয় একটি জেট পাকিস্তানি সীমানায় ভূপাতিত করারও দাবী করেন। পাকিস্তান অবশ্য আটককৃত ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার আভিনন্দন এর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

 

ভারত আটককৃত পাইলট আভিনন্দনের ভিডিও প্রকাশকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লংঘন, বিধি বহির্ভূত এবং অসৌজন্যমূলক আচরন হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানি কুটনীতিককে ডেকে ভারত বলেছে তাদের জিম্মায় থাকাবস্থায় যেনো আটককৃত পাইলটের ওপর কোনো অসৌজনযমূলক আচরন না করা হয় এবং অনতি বিলম্বে ভারত পাইলট আভিনন্দনের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা করে।

 

গতকাল বুধবার পাকিস্তান একটা সময় তাদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ভারত অনেকগুলো ফ্লাইটের উড্ডয়ন বন্ধ রাখে এবং পরবর্তীতে অবশ্য চালু করে।

 

মে মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে। ১৯৮০ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিদ্রোহ শুরুর পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারী জয়শ-ই-মোহাম্মাদ নামক সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে এই প্রথম সর্বোচ্চ ৪০ জন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারায়। ভারত এই আক্রমনে পাকিস্তান সরকারের হাত ছিলো বলে প্রথম থেকেই বলে আসছে। অপরদিকে পাকিস্তান তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উচ্চস্বরে বলে আসছে।

 

পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রনালয় বলছে তারা শুধু তাদের আকাশ সীমায় বেসামরিক স্থাপনায় ভারতীয় আক্রমন প্রতিহত করছে এবং তারা তাদের সাধারন মানুষের জানমাল রক্ষা করছে। একই সাথে তারা ভারতীয় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এড়িয়ে চলছে। তারা ভারতীয় বাহিনীকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে দায়ী করছে।

 

অপরদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রনালয় বলছে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘোষনাপূর্বক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আক্রমন করেছে। এটি তারা তাদের আত্মরক্ষার জন্য করেছে। যেহেতু পাকিস্তান তাদের দেশের ভেতরে এই সন্ত্রাসবাদের লালন করছে এবং ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা। তারা বলেছে যে তারা ঘটনার বিস্তৃতিতি চায়না যদি না পাকিস্তান তা’ করতে বাধ্য করে।

 

বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে উভয় পক্ষকে শান্ত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার আহ্বান করেছেন। ইউএস সেক্রেটারী অব দি স্টেট মাইক পম্পিও উভয় পক্ষের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রেখে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান করেছেন।

 

১৯৪৭ সালের পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে এবং অসংখ্য বিচ্ছিন্ন লড়াই হয়েছে। প্রায় অধিকাংশ সময়ে ভারত পাল্টা আক্রমন থেকে বিরত থেকেছে। কিন্তু লন্ডন কিংস কলেজের অধ্যাপক হার্শ ভি প্যান্টের ধারনা ভারতে নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪ ফেব্রুয়ারী’র সন্ত্রাসী হামলার জবাবে প্রতি আক্রমনে ভারতের জনগন মোদীর ওপর নতুন করে আস্থা স্থাপন করবে এবং মোদী আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। সেক্ষেত্রে ভারতকে আরো কঠিন অবস্থানে দেখা যেতে পারে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT