Main Menu

সকালের মতো হলো না দিনের শেষটা

দিনের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ভালো কেটেছিল প্রথম সেশন পুরোটাই। ছন্দপতনের শুরু দ্বিতীয় সেশন থেকে। যা বহাল থাকল একদম দিন শেষ পর্যন্ত। যার ফলে স্বাগতিকদের চেয়ে বেশ পিছিয়েই প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ দল।

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ দল অলআউট হয়েছে ২৩৪ রানে। তামিম ইকবালের ব্যাট থেকেই এসেছে ১২৬ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষের আগে ২৮ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৮৬ রান করে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড।

 

স্বাগতিকদের দুই ওপেনার জিত রাভাল এবং টম লাথামকে শুরুতে খানিক পরীক্ষার মুখে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। নিজের অভিষেক ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন এবাদত হোসেন চৌধুরী। স্লিপে দাঁড়িয়ে রাভালের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন সৌম্য সরকার।

সেই রাভালই দিন শেষে অপরাজিত ৮৯ বলে ৫১ রান করে। নিজের ফিফটির অপেক্ষায় রয়েছেন লাথাম। তিনি অপরাজিত ৭৯ বল থেকে ৩৫ রান করে। দ্বিতীয় দিন সকালে ১০ উইকেট অক্ষত নিয়ে ১৪৮ রান পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামবে কিউইরা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনি জুটিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল এবং সাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় উইকেটে যা বজায় রাখেন মুমিনুল হক এবং তামিম ইকবাল। তবু শেষ নয় উইকেটে মাত্র ১১৩ রান করে ২৩৪ রানেই থেমে গিয়েছে দলের ইনিংস।

পুরো দল মিলে দুই সেশনের একটি বেশি সময় ব্যাট করে খেলেছে ৩৫৬টি বল, রান করেছে ২৩৪। যেখানে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল একাই ১২৬ বল থেকে করেছেন ১২৬ রান। অর্থাৎ বাকিদের সংগ্রহ মাত্র ১০৮ রান। তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী সাদমান ব্যতীত বাকি সবাই নিজের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন বলা চলে।

Tamim

ওয়ানডে সিরিজটা ভালো কাটেনি, তিন ম্যাচে করেছিলেন মোটে ১০ রান। সেই তামিমই টেস্ট সিরিজের প্রথম ইনিংসে করলেন পুরো ওয়ানডে সিরিজের প্রায় ১৩ গুণ রান। হ্যামিল্টনের সবুজ গালিচায় ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর নেইল ওয়াগনারের গতি সামলে খেলেছেন দাপুটে ১২৬ রানের ইনিংস।

ম্যাচের আগেই নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সবুজ ফাঁদ প্রস্তুত করেছে স্বাগতিকরা। সে ফাঁদে ফেলতে টস জয়টাও ভালোভাবেই সারেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আমন্ত্রণ জানান তামিম-সাদমানকে ব্যাটিংয়ে নামার।

ব্যাটিং স্টান্স, ফ্রন্ট ফুট ডিফেন্স কিংবা হুক শটটা অবিকল তামিমের মতো করেই খেলেন তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক। প্রথমবারের মতো যখন নামলেন তামিমের সঙ্গে ব্যাটিং করতে তখন ক্ষণিকের জন্য বিভ্রান্তিই তৈরি হলো 'দুই' তামিমকে দেখে।

বড় তামিম এবং ছোট সাদমান মিলে বোল্ট-সাউদির প্রথম স্পেলটা সামলেছেন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। তামিম একপাশ থেকে সাজিয়েছেন স্ট্রোকের ফুলঝুরি আর সাদমানের দৃঢ় ব্যাট থেকে বিরতি দিয়ে দিয়ে এসেছে দারুণ কিছু শট। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশ পায় ৫৭ রান, তাও মাত্র ১০.২ ওভারেই।

বোল্টের যে ডেলিভারিতে আউট হন সাদমান, তাতে আউট হতে পারতেন বিশ্বের যেকোনো ব্যাটসম্যানই। যা মাত্রই দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস খেলতে নামা সাদমানের জন্য ছিলো ভয়ঙ্করের চেয়েও বেশি কিছু! তীক্ষ্ণ লেট সুইংয়ে বল সোজা আঘাত হানে অফস্টাম্পে। অপমৃত্যু ঘটে সাদমানের ৩২ বলে ২৪ রানের ইনিংসের। তামিম তখন অপরাজিত ৩০ বলে ৩৩ রান করে।

সাদমান ফেরার পর নিজের হাফসেঞ্চুরি করতে তামিম খরচ করেন মাত্র ৭ বল। ইনিংসের তেরোতম ওভারে বোল্টকে টানা তিন চার মেরে মাত্র ৩৭ বলে পৌঁছে যান নিজের ২৬তম হাফসেঞ্চুরিতে। যা পরে রূপ নেয় ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরিতে। বোল্টের সে ওভারে আরও এক চার মারেন তামিম।

Tamim

উদ্বোধনী জুটির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংটা মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়েও চালিয়ে যান তামিম। মনে হচ্ছিলো লাঞ্চ ব্রেকের আগেই হয়তো সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যাবেন দেশসেরা এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু নেইল ওয়াগনার আক্রমণে আসার পর খানিক বিরতি নেন তামিম, খেলতে শুরু করেন দেখেশুনে।

লাঞ্চ ব্রেকের ঠিক আগের ওভারে মুমিনুল হক উইকেটের পেছনে ধরা পড়লে ভাঙে ৬৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। যেখানে তিনে নামা মুমিনুলের অবদান কেবল ১২ রান। তামিমের ব্যাটের রান তখন ৮২ বলে ৮৫ রান। ২৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান করে লাঞ্চ ব্রেকে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করতে বেশি সময় নেননি তামিম। ওয়াগনারকে বাউন্ডারি মেরে মাত্র ১০০ বলেই ক্যারিয়ারের নবম, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম এবং বিদেশের মাটিতে চতুর্থ সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান তামিম। কিন্তু অপরপ্রান্তে যথাযথ সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন মিঠুন।

৩৫তম ওভারে দলীয় ১৪৭ রানের মাথায় ফেরেন ৩৫ বলে ৮ রান করা মিঠুন। দুই ওভার পর সাজঘরের পথ ধরেন ৬ বলে ১ রান করা সৌম্য সরকারও। একা বনে যান তামিম, তবু থামাননি আক্রমণ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গড়েন ৩১ রানের জুটি, যেখানে তার একার রানই ২২।

টিম সাউদির করা ৪০তম ওভারে হাঁকান ইনিংসের একমাত্র ছক্কা। সে ওভারেই বাউন্ডারি মারেন আরও দুইটি। কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হওয়ার মাশুলই যেন দেন তামিম। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের নিরীহ দর্শন এক ডেলিভারিতে ব্যাট হাঁকিয়ে গালিতে ধরা পড়েন তিনি। থেমে যায় ১২৮ বলে ২১ চার ও ১ ছক্কায় খেলা ১২৬ রানের ইনিংসটি।

Tamim

এরপর বেশিক্ষণ থাকা হয়নি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরও। ওয়াগনারের বুক বরাবর ধেয়ে আসা শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগ বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলের সংগ্রামী ইনিংসে ৫ চারের মারে ২২ রান করেন তিনি। অধিনায়কের আউটের পরই মূলত শেষ হয়ে যায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা।

যে আশা আরও কমে যায় চা বিরতির ঠিক আগের ওভারের প্রথম বলেই মেহেদি মিরাজ ছক্কা হাঁকিয়ে দ্বিতীয় বলেই শর্ট লেগের হাতে ধরা পড়লে। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে রীতিমত ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ। সকালের উজ্বল সূর্য্যটা যেন ম্লান হতে শুরু করে বিকেল নামার আগেই।

চা বিরতির পর আর ঠিক চার ওভার খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। আবু জায়েদ রাহী ২ এবং খালেদ আহমেদ ০ রানে ফিরে গেলে দশম উইকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন লিটন। কিন্তু বেশিক্ষণ তা চালিয়ে নিতে পারেননি তিনি। ওয়াগনারের বলে হুক করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়ে যান। আউট হওয়ার আগে ৫৮ বলে ৪টি চারের মারে ২৯ রান করেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করেন ওয়াগনার। এছাড়া টিম সাউদি ৩টি এবং ১টি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোট ও গ্র্যান্ডহোম।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT