Main Menu

ক্যাম্পেলটাউন সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

মোঃ শফিকুল আলম: ২১ ফেব্রয়ারী ১৯৫২ বাঙ্গালী তাদের বুকের তাঁজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শুধু মাতৃভাষা বাংলাই প্রতিষ্ঠিত করেনি; মূলত: এই দিন বাঙ্গালী তাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা এবং মুক্তির সংগ্রামের বীজ বপন করেছিলো যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এর স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ অত:পর ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তদান, দু’লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতদানের বিনিময়ে আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙ্গালী জাতি প্রতিবছর এই দিনটিতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ২১ এর ভাষা শহীদদের স্মরণ করে থাকে।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইইনোস্ক বাঙ্গালীর মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠায় রক্তদানের ইতিহাসকে মহিমান্বিত করে ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করে। তখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি সমগ্র বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে পুরো বিশ্ব বাঙ্গালীর মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার বিরচিত ইতিহাস স্ব-স্ব দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে। বাঙ্গালীর স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস গর্বিত স্বরে উচ্চারিত হয়।

প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব প্রকাশ রয়েছে, ব্যন্জনা রয়েছে যা’ অনেক সময় অন্য ভাষায় ব্যক্ত হয়না। একটি ভাষায় প্রকাশিত আবেগ অধিকাংশ সময় অন্য ভাষায় অনুবাদ করে যথাযথভাবে ব্যক্ত করা সম্ভব হয়না। নিজের ভাষার চর্চা ব্যতিত হয়না সংস্কৃতির বিকাশ। এই থিম থেকেই মূলত: ইউনোস্ক এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করে প্রত্যেকটি জাতির নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতির বিকাশ সংরক্ষন এবং বিকাশের চেষ্টা করছে।

অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য ভাষা এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে বৈচিত্রপূর্ণ একটি দেশ। অস্ট্রেলিয়ায় পৃথিবীর দু’শটি দেশ থেকে আসা মানুষ অসংখ্য ভাষা এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি চমৎকার দেশ! অস্ট্রেলিয়া বরং এই সকল দেশের ভাষা-সংস্কৃতিকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদেরকে উন্নত সংস্কৃতির দেশ মনে করে।

প্রতি বছর তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশ কমিউনিটির সকল আয়োজনে স্থানীয় কাউন্সিলর, মেয়র, স্টেট এমপি, ফেডারেল এমপি উপস্থিত হয়ে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি, বাংলা প্রতিষ্ঠায় বাঙ্গালীর রক্তদান ইত্যাদি বলতে পেরে তারা অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির সকলকে প্রেরনা দিয়ে থাকেন এবং একই সংগে নিজেরাও গর্বিত হয়ে থাকেন।

এই সকল আয়োজন মূলত: বাঙ্গালী কমিউনিটি আয়োজন করে এবং তারা অংশগ্রহন করেন। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো ক্যাম্পেলটাউন সিটি কাউন্সিল আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী কাউন্সিল সবুজ চত্বরে নিজস্ব আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করলেন। মেয়র জর্জ অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করে চমত্কারভাবে আমাদের ভাষা আন্দলনের বিরত্বগাঁথা বর্ননা করলেন। বাঙ্গালী কমিউনিটির উপস্থিত সকলের গর্বিত মুখাবয়ব আমরা একে অপরে অনুভব করলাম। স্মরন করা হলো ভাষা শহীদদের। এমনকি এবছর ২১ ফেব্রুয়ারীতে চকবাজারের অগ্নিকান্ডে নিহতদেরকেও শ্রদ্ধার সংগে স্মরন করা হলো।

অবশ্য এই মহৎ আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন ক্যাম্পেলটাউন সিটি কাউন্সিলর বাংলাদেশী বংশদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান জনাব মাসুদ চৌধুরী। তার প্রচেষ্টায়ই হয়তো এই প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের উদ্যোগে একই সংগে অস্ট্রেলিয়ান এবং বাংলাদেশী পতাকা কাউন্সিলের সামনে অর্ধনমিতকরন করা করা হয়। মাসুদ ভাইকে এই মহৎ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ না জানালে তাঁর ওপর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। ধন্যবাদ মাসুদ ভাই। আমরা সত্যিই আজ গর্বিত বোধ করেছি। আপনার সাথে সার্বক্ষণিক যিনি সহযোগিতা করেন তাঁর নাম উল্লেখ করলামনা। তিনি যেহেতু পেছনে থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন।

এই অনুষ্ঠানটিকে ফেডারেল এমপি ড: ফ্রিল্যান্ডার উপস্থিত থেকে সম্মানিত করেছেন। কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাঁকেও ধন্যবাদ।

আপনার প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্যাম্পেলটাউন এলাকায় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠাসহ বাঙ্গালীর সকল সংস্কৃতি চর্চা এবং বিকাশের একটি ভেন্যু প্রতিষ্ঠা হোক। আমরা অদূর ভবিষ্যতে সেই ভেন্যুকে বড় পরিসরে ২১ উজ্জাপনসহ সকল সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে দেখতে পাবো। ২১ এর সকল ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT