Main Menu

২১ ফেব্রয়ারী এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের চেতনা

ইতিহাসের যুগ-সন্ধিক্ষণে যাঁরা নিজেদের সময়োপযোগী এবং বলিষ্ঠ অবদান রেখে গেছেন তাঁদের অনেকেই হয়তো বিস্মৃতির অন্তরালে তলিয়ে গেছেন কিম্বা জীবন-যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে আছেন। তাঁদের জানাই শ্রদ্ধাজ্ঞলী এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

 

দিন আসে দিন যায়। মাস আসে মাস পেরিয়ে যায়। আসে বছর তা'ও চলে যায়। মিশে যায় অনন্তকালের মধ্যে। কিন্তু জাতির জীবনে এমন দু'একটি দিন আসে যা' নিজ মহিমায় প্রজ্জ্বোল।এমনি একটি মহিমোজ্জ্বল দিন একুশে ফেব্রুয়ারী।

 

এই দিনে লক্ষ বাঙ্গালীর কন্ঠে যে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছিলো ১৯৭১ এর মার্চে তা'ই স্বাধীনতা সংগ্রামে রুপ পরিগ্রহ করেছিলো।

 

ধনতান্ত্রিকতার বদলে গনতান্ত্রিকতার উন্মেষ একটি প্রত্যক্ষ সংগ্রামে উজ্জীবিত হয়েছিলো। প্রয়োজন ছিলো সকল প্রাণের প্রদীপে প্রদীপ্ত একজন সূর্য সেনাপতির। আবির্ভূত হলেন সেই মহামানব - শেখ মুজিবুর রহমান। একটি নাম, একটি চেতনা, একটি সৃষ্টিমুখর সংগ্রাম। তিনি এলেন জাতির কান্ডারী হয়ে। জাতীয়তাবাদের নৌকাটির হাল ধরলেন। 

 

১৯৭১-এ সাড়ে সাত কোটি মানুষের ভাষ্যকর শেখ মুজিব যাঁর অনুপস্হিতিতে বাংলার মানুষ সেদিন তাদের প্রিয় নেতা এবং বন্ধুর বানীকে প্রমূর্ত করে তোলার দূর্জয় সাধনায় আত্মবলি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলো। একজন শেখ মুজিব যাঁর পেছনে দাঁড়ালো পুরো দেশ।

 

বাহান্বের বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের চেতনায় স্বাধীনতা এবং মুক্তির সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হলো রক্তাক্ত ইতিহাস - ৫৪, ৫৬, ৫৮, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০ এবং ৭১ এর রুধিরাক্ত ধারায় এসে যার মহামিলন ঘটলো।

 

৫২ থেকে ৭১ কত রক্ত ঝরলো? বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রামে-গন্জে রক্তের প্লাবন ছুটেছিলো, সবুজ দূর্বাদল উষ্ন রক্তে মেখে বিবর্ন হয়েছিলো।সুজ্বলা নদী রক্তের বুঁদবুঁদ নিয়ে লালে লাল হয়েছিলো। লালে লাল হয়েছিলো বাংলার পথ-ঘাট, জন-পথ, বন এবং প্রান্তর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাখো শহীদের রক্তে রন্জিত হয়ে বাংলাদেশের পূর্বদিগন্তে যে সূর্য উদিত হলো নবোদিত সূর্যের লাল রশ্মিতে তা' ছিলো অকুলান।

 

বঙ্গবন্ধুর আজন্ম-স্বপ্ন-লালিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিস্ঠিত হলো। শুরু হলো মুক্তির সংগ্রাম। বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচীর মাধ্যমে সে সংগ্রাম চলতে লাগলো। ৭১ এর পরাজিত শক্তি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রাম সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দেয়।

 

১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং নিরন্তর সংগ্রামে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামীলীগের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত কর্মসূচী বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম আজ বাস্তবায়নের পথে। বঙ্গবন্ধুর স্বাপ্নিক বাংলাদেশ আজ বাস্তবে দৃশ্যমান।

 

স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির দক্ষ এবং যোগ্য নেতৃত্ব শেখ হাসিনা যেমন দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তেমনি তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশের স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করে জাতির কলংক লেপন করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনায়ন ছিলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার অনন্য দৃষ্টান্ত যা’ বাংলার ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে আলোচিত হতে থাকবে।

 

২০১৯ এ এসে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ হিসেবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমনে শেখ হাসিনার সরকারের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশকে শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবেন একথা এখন প্রায় সকলেই বিশ্বাস করেন। তা’হলে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তথা একটি উন্নত দেশ হবে তা’ বোধ হয় আর স্বপ্ন নয়।

 

২১ ফেব্রয়ারী আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সমগ্র বিশ্ব উজ্জাপন করে। পুরো বিশ্ব তখন বাঙ্গালীদের ভাষা আন্দলনের ইতিহাস স্মরণ করে। আমাদের ভাষা শহীদদের বিরত্বগাঁথা বর্ননা করেন। এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৬ সালের শেখ হাসিনা সরকারের একক অবদান রয়েছে। আমরা যারা প্রবাসে থেকে উন্নত রাষ্ট্রসমূহের রাজনীতিকদের কাছ থেকে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি নিয়ে প্রশংসা শুনি তখন গর্বে আমাদের বুক ফুঁলে যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আজ এই দিবসটি নানান আনুষ্ঠানিকতায় উজ্জাপিত হয়ে থাকে।

 

২০১৯ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তির সংগ্রামকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরো শাণিত করে তাঁর ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার শপথ নিবো। তবে ভাষা আন্দলন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ব্যতীত উন্নয়নের রাজনীতির ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকবে বলে বিশ্লেষকগন মনে করেন।

 

জয়বাংলা জয় বঙ্গঁবন্ধু।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT