Main Menu

নিমিষেই মুছে গেল জীবনের স্বপ্ন

‘অভিনয়’ এক যুবকের নাম। পুরো নাম অভিনয় বৈদ্য। বয়স ২০ পেরিয়ে ২১ পড়েছে। গত বছর এসএসসি পাস করেছে। বাবা অভিনাস বৈদ্য বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার কলসকাঠি গ্রামের মিষ্টি তৈরির কারিগর। সেখানেই বড় হয় অভিনয় বৈদ্য। আরো খবর হলো, মাত্র এক মাস আগে বিয়ে করেছে সে। নতুন বউকে ঘিরে তার অনেক স্বপ্ন। 

বিয়ের সময় মেয়ের বাবাকে অভিনয় বৈদ্যের বাবা কথা দিয়ে ছিল ছেলে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে কাজে যোগ দিয়ে এসে বউ উঠিয়ে নেবে। মাত্র চার দিন আগে অভিনয় বৈদ্য কাজে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জের সস্তাপুর এলাকায় আসে। সেখানে চাচাতো ভাই সঞ্জয় তার জন্য কাজও ঠিক করে রাখে। শনিবার মোবাইলে নতুন বউকে কাজে যোগদানের খবর জানাতে বাসার ছাদে উঠে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় অভিনয় বৈদ্য। এক মাসেই সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলতে হয় অভিনয় বৈদ্যের স্ত্রীর। সন্তানহারা হয়ে যায় তারা বাবা-মা। 
অভিনয়ের চাচাতো ভাই সঞ্জয় জানান, চারদিন হয় সে নারায়ণগঞ্জে আসে। এরপর তাকে সস্তাপুর মীনার বাড়ির দুতলার মেস থাকার জন্য রেখে আসি। এ মেসে আমাদের গ্রামের অনেকই থাকে। আমরা তার জন্য কাজও ঠিক করে রেখেছি। সে কথাই অভিনয় বাবা-মাকে বলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে স্পষ্ট হয়ে মারা যায়। 

বাড়িওয়ালা মীনা জানান, বিদ্যুতের তার ছাদের অল্প উঁচুতে। ছাদে যাতে কেহ না যেতে পারে সেজন্য ছোট একটি দেয়ালও সিঁড়ির দরজায় লাগিয়ে দেয়া হয়। ওই ছেলেটা অসাবধানতা বসত ছাদে উঠে এ দুর্ঘটনায় পড়ে। অভিনয় বৈদ্যের মতো আরেক স্বপ্নের অপমৃত্যু হয় সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরী বাড়ি মাঝিপাড়া এলাকায় শনিবার। মাত্র ৬ মাস আগে ভালোবেসে ওই এলাকার আলী হোসেনের মেয়ে কেয়া আক্তারকে (১৮) বিয়ে করে গার্মেন্ট কর্মী সুজন (১৯)। সুজনের স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। তার সে ইচ্ছা নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে। শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরী বাড়ি মাঝিপাড়া এলাকায় সুজন মিয়ার নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

সুজনের পরিবারে অভিযোগ বিয়ের পর স্ত্রী কেয়ার পরকীয়া ধরা পড়ে সুজনের কাছে। এ নিয়ে বাগি¦তণ্ডার পর ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে মারা গেছে সুজন। লাশ উদ্ধারের পর থেকে পলাতক রয়েছে স্ত্রী কেয়া ও তার মা আমেনা, বাবা আলী হোসেন। 

সুজনের বাবা আবুল কালাম নয়া দিগন্তকে জানান, সুজন কোন নেশা করত না। অথচ মৃত্যুর সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমাদের বিশ্বাস সুজনের স্ত্রী কেয়ার সাথে অন্য কারো অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাই কেয়া ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়াইয়ে তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম, তারা আমাদের অভিযোগ নেয়নি। 
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, আমার ধারণা এটা আত্মহত্যা। তবে এ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বাকিটা বলা যাবে। যদি হত্যা হয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা: আসাদুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পুরোপুরি বলা যাবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT