Main Menu

ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য বেড়েই চলছে, আকার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশি নাজমা খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১১ বছর বয়সে। তিনি ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং তখন থেকেই বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপন করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রোনক্স নামক স্থানে বেড়ে উঠা নাজমা খানের হিজাব নিয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার মত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তথাপি তিনি হিজাব সম্পর্কে আলোকিত দিকের খোঁজ পেয়েছেন। তিনি অনুভব করেন যে, ফ্যাশন শিল্পে হিজাবের প্রাধান্য দিন দিন বেড়ে চলছে যার আকার ২০১৯ সালে ৪৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

নাজমা খান বলেন, ‘বিশ্বের ফ্যাশন শিল্পে বর্তমানে মুসলিম ফ্যাশন একটি লাভজনক শিল্প হতে পারে বিশেষত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং তুরস্কের মত দেশের জন্য যেখানকার মানুষজন পশ্চিমা ধাঁচে পোশাক পরিধান করতে আগ্রহী। ২০১০ তুরস্কের সংবাদপত্র মিলিয়েত একটি হিসাব প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায় যে, বিশ্বের ইসলামিক বস্ত্র বাজার বছরে ২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের থেকেও বেশী।’

 

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ বিশ্ব হিজাব দিবস পালন করা হয়, যা বিশ্বের মিলিয়ন মুসলিম নারীর প্রতি স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ যারা হিজাব পরিধান করে এবং শালীন জীবন যাপন করেন।

এটি একই সাথে মুসলিম এবং অমুসলিম সকল নারীদের আমন্ত্রণ জানায় এর অভিজ্ঞতা নিতে যারা সাধারণত হিজাব পরিধান করেন না। নাজমা খান বিশ্বাস করেন এর মাধ্যমে ‘ধর্মীয় সহনশীলতা এবং বোঝাপড়া তৈরি হবে।’

মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরিধান করে এবং কিভাবে হিজাব বিশ্বের ফ্যাশন শিল্পের একটি অংশ হয়ে উঠছে তার তিনটি ব্যাখ্যা দেয়া হলো:

১। নিজের আত্মপরিচয় প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাইতলিন কিলিয়ান ব্যাখ্যা করে বলেন যে, পবিত্র কুরআন নারীদের ঘোমটা পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে নাকি দেয় নি এ বিষয়ে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন সূত্র দেয়া হয় যে, নবী মুহাম্মদ(সা.) এর স্ত্রীগণ ঘোমটা বা পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে পুরো মুখমণ্ডল কি শুধুমাত্র নবী (সা.) এর স্ত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল নাকি এটি সকল মুসলিম নারীর জন্য প্রযোজ্য তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কিলিয়ান যুক্তি দিয়ে বলেন যে, হিজাব নিজের আত্মপরিচয় তুলে ধরার জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যেসব দেশে ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড কলোনি করেছিল সেইসব দেশের মুসলিম নারীদেরকে তারা হিজাব পরিহার করে ইউরোপিয়ান নারীদের মত হওয়ার জন্য উৎসাহ দিত। তবে উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের জন্য হিজাব তাদের জাতীয় পরিচয়ের বাহক এবং একেবারেই পশ্চিমের বিরুদ্ধে যায়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কিছু নারী হিজাব পরিধান করেন তাদের জাতিগত পরিচয় তুলে ধরার জন্য। এটি বেশি দেখা যায় ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে, যেখানে ইসলামোফোবিয়া দিন দিন বেড়েই চলছে।’

২। শালীনতা সকল স্থানে একই নয়
হিজাব এবং ইসলামিক পোশাক বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইষ্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন এবং ধর্ম বিভাগের অধ্যাপক লিজ বুচার ইরান, ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্কে গবেষণা করে দেখতে পেয়েছেন যে, ইসলামি পোশাক ইসলাম সম্পর্কে কিছু জনপ্রিয় প্রথাগত ধ্যানধারণার দ্বারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, শালীনতার ধারণা বিশ্বের সকল স্থানে এক রকম নয় এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

উদাহরণ স্বরূপ, তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল ইন্দোনেশিয়ার নারীগণ ৩০ বছর পূর্বেও মাথা ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরিধান করতেন না। এ বিষয়টি তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানকার কর্তৃপক্ষ মুসলিম নারীদের এসকল পোশাক পরিধান করতে অনুৎসাহিত করতো কারণ হিসেবে তারা এগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করত।

তার মতে, বর্তমানে স্থানীয় ফ্যাশনে শালীন পোশাকের আবির্ভাব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তুরস্কের স্থানীয় ফ্যাশন হচ্ছে পোশাকগুলো শরীরের সাথে আঁট সাঁট করে পরিধান করা, যাতে পুরো বুক ঢেকে যায় আর নিচের দিকে অনেকটা খোলামেলা থাকে এবং তা সম্পূর্ণ চুল ঢেকে রাখে।’

৩। ইসলামিক ফ্যাশন শিল্প
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফাইগেহে শেইরাজি সমৃদ্ধ হতে যাওয়া ইসলামিক ফ্যাশন শিল্প সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। নাইকি নামের যুক্তরাষ্ট্রের অতি পরিচিত স্পোর্টস কোম্পানিটি বর্তমানে স্পোর্টস হিজাব নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, নাইকিই প্রথম কোনো ব্রান্ড নয় যারা বাজারে হিজাব নিয়ে এসেছে।

সূত্র: wisconsinmuslimjournal.org এর জ্যৈষ্ঠ আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং ইথিকস সম্পাদক কল্পনা জেইনের কলাম থেকে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT