Main Menu

আমেরিকা ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া তখন অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় জ্বলছে

মোঃ শফিকুল আলম:পশ্চিম মধ্য আমেরিকা ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে; পৃথিবীর আরেক প্রান্তে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়া তখন অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় জ্বলছে

শিকাগোতে সরকারীভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে আজ (৩০/০১/২০১৯) ব্যাপক তুষারপাত হবে এবং এযাবতকালে সবচাইতে ঠান্ডা দিন হিসেবে আজকের দিনটি অতিবাহিত হবে।শিকাগো নগরীর তাপমাত্রা আজ বুধবার সন্ধ্যায় মাইনাস ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস রয়েছে যা’ ফোরকাষ্ট অনুযায়ী মাইনাস ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ৬৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছুবে। শিকাগো নগরীতে ওয়ার্মিং সেন্টার খোলা হয়েছে। পশ্চিম মধ্য আমেরিকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। কারন উত্তরমেরুর আর্কটিক রিজিয়ন থেকে বিরল শৈত্যপ্রবাহ ধেয়ে আসছে।

 

একই সময়ে প্লানেটের অন্য প্রান্ত অস্ট্রেলিয়ায় অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় বন-জঙ্গলে আগুনের বহ্নিশিখা জ্বলছে। আগুনের বন্যতার সাথে ফায়ার-ফাইটারগন পেরে উঠছেনা। তাসমানিয়া আগুনের লেলিহান শিখায় প্রজ্জ্বলনমান। অধিক মাত্রায় এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহৃত হওয়ায় পাওয়ার গ্রীডে বিদ্যুৎ সন্চালন বন্ধ হয়ে ব্যাপকভাবে পাওয়ার ফেইলিউর হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রামের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম চলাচল বন্ধ রেখেছে। যেহেতু ট্রাম বিদ্যুতে পরিচালিত। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে কর্তৃপক্ষ বৈঠক করছেন। লেবার আইনানুযায়ী তাপমাত্রা ১১৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট ক্রস করলে লেবাররা কাজ করবেননা। তাপমাত্রা গত সপ্তাহে দক্ষিন অস্ট্রেলিয়ার এ্যাডালাইডে ১১৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট অতিক্রম করেছিলো। কুইনসল্যান্ড বন্যায় ভেসে গেছে।

 

বৃটেনও জমে যাচ্ছে। ম্যানচেষ্টার থেকে লিভারপুল বরফ এবং তুষারপাতের কারনে দু’শটির ওপর স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলাচল বন্ধ রয়েছে বা গ্রাউন্ড ফ্লাইট চলছে।

আবহাওয়ায় চরম অবস্থা বিরাজমান। সব জায়গায় সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে অতীতে আমরা যা’ দেখেছি তার থেকে খারাপ কিছু দেখতে হবে। এমনকি নিকট অতীতে।

গত বছর নরওয়ে থেকে আলজিরিয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ছিলো রেকর্ড পরিমান।২০১৮ সাল প্রায় পুরো সময় অস্ট্রেলিয়াতে খড়া ছিলো। এরকমও বলা হয় কিন্ডার গার্ডেনে পড়ছে যে শিশুটি কোনো কোনো এলাকায় সে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি দেখে নাই। ২০১৮ তে ক্যালিফোর্নিয়া ভয়াবহ বুশফায়ার দেখেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বুশফায়ারে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের সবচাইতে বড় ইউটিলিটি কোম্পানি প্যাসিফিক গ্যাস এ্যান্ড ইলেকট্রিক এই সপ্তাহে নিজেদেরকে দেউলিয়া ঘোষনার আবেদন জানিয়েছে।

 

এটা কি ক্লাইমেট চেইন্জ নয়? বিশ্ব নেতৃত্ব কি বুঝতে সমর্থ্য হচ্ছেন না? চরম তাপদাহ এবং খড়া যে ক্লাইমেট চেন্জের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ সে ব্যাপারে সকল পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ঐতমত রয়েছেন। বাতাসে যদি অধিক মাত্রায় গ্রীনহাউজ গ্যাস নি:সরন হয় তবে তাপমাত্রা চরম অবস্থায় পৌঁছাবে এটাই স্বাভাবিক। বিজ্ঞানীরা মনে করেন উত্তপ্ত প্লানেট চরম আবহাওয়া তৈরী করে।

 

পৃথিবীর জীবনকালে সংখ্যাতাত্বিক বিশ্লেষন কি বলে? বিগত আট লক্ষ বছরের তুলনায় এখন পরিবেশে কার্বনডাই অক্সাইডের মজুদ সর্বাধিক। ফলে গড় তাপমাত্রা অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়ার্ল্ড মেটরোলোজিকাল অর্গানাইজেশনের তথ্যানুযায়ী গত চার বছর পৃথিবী সবচাইতে বেশি উত্তপ্ত ছিলো এবং একই সাথে গত ২২ বছরের মধ্যে পৃথিবী ২০ টি ওয়ার্মেস্ট বছর কাটিয়েছে। গত বেশ কয়েকটা বছর ধারাবাহিকভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

অন্যদিকে এই সপ্তাহে আমেরিকায় নিম্ন তাপমাত্রা, হিসেব অনুযায়ী যখন একটু ওয়ার্মার উইন্টার হওয়ার কথা সেখানে চরম বৈপরীত্য লক্ষনীয়। গবেষকগন বলেন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনেই এটা হয়েছে কারন আর্কটিক রিজিয়নের একপ্রান্তে তাপের ফলে বরফ প্রবাহ উত্তর মেরু থেকে দক্ষিন বিষুব রেখায় আমেরিকার দিকে ধাবমান হওয়ায় আমেরিকার তাপমাত্রায় নিম্নগামিতা তৈরী হয়েছে।

 

যদি ক্লাইমেট চেইন্জ এজেন্ডা বাইরে রেখে বিশ্ব নেতৃত্ব ভাবতে থাকেন তবে স্ব স্ব দেশের মানুষকে সহজ-আক্রম্য রাখা হবে। সহজেই অসংখ্য জান-মালের ক্ষতি হবে। কারন আমেরিকার শিকাগো সিটি দু’দশক আগে উচ্চ তাপমাত্রায় আঘাতগ্রস্ত হয়েছিলো ১৯৯৫ সালে। পাঁচ দিনের তাপদাহ হত্যা করেছিলো শত শত মানুষকে। বিশেষ করে যারা নিভৃতে একাকী বাস করেন তারা অধিক মাত্রায় মৃত্যুবরন করেছিলেন। সেই সময়ে শিকাগো সিটি সামারের হিট থেকে বাঁচার জন্য হিট এ্যাকশন প্লান তৈরী করলো। গাছপালায় নগরী শোভিত করা হলো। বিভিন্ন জায়গায় কুলিং সেন্টার খোলা হলো।

এখন শিকাগো নগরীর জনগন ঠান্ডার প্রকোপে রয়েছে। সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে আজ বুধবার তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত এই লেখা চলাকালীন (আমেরিকায় বুধবার সন্ধ্যা) তাপমাত্রা মাইনাস ২৪ ডিগ্রী অনুমিত এবং শেষ দিকে মাইনাস ৪১ ডিগ্রী এমনকি মাইনাস ৬৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছুতে পারে। ১৯৮৫ সালে অবশ্য একবার মাইনাস ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়েছিলো।

 

এক্সট্রিম টেম্পারেচার এই সব সমস্যা তৈরী করছে বলেই পরিবেশ বিজ্ঞানিরা মনে করেন। গত ১৮ বছরে আমেরিকায় হিট রেকর্ড কোল্ড রেকর্ডের দ্বিগুন। এক গবেষনায় বলা হয়েছে আগামী ২০৮০ সালের মধ্যে আমেরিকায় হিট-স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচগুন বৃদ্ধি পাবে। অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশ ফিলিপিনস এ এ হার হবে ১২ গুন বেশি। চরম তাপমাত্রা দক্ষিন এশিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্বাস্হ্য ঝুঁকিতে ফেলছে এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে সহায়তা করছে। অতি তাপমাত্রা ফসলের পুষ্টিমান কমিয়ে দিচ্ছে ক্রমশ:।

 

এ বছরের শুরুতেই তাপ উত্তর এবং দক্ষিন উভয় গোলার্ধের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে যা’ নিয়ন্ত্রনই হবে বর্তমান বিশ্বনেতৃত্বের চ্যালেন্জ। আলাস্কায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হওয়ায় ডগরেইস বন্ধ করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ বাড়ীঘরে এয়ার কন্ডিশনার নেই। কারন তাপমাত্রা অসহনীয় মাত্রায় যায়না। সেখানেও তাপমাত্রা ৮৭ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছেছে। ১৯২৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪০ সালে একবার ৯১ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছা ব্যতীত আর কখনো তাপমাত্রা এ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 

আমরা হয়তো ভাবছি ফোরকাষ্টারগন যা’ বলছেন তা’ শুধু অনুমান মাত্র। এখন আমরা দেখছি এবং ফলও ভোগ করছি। অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে পরিবেশকে বন্য আচরনে বাধ্য করলে পৃথিবী জীবাশ্মে পরিনত হতে পারে। পরিবেশ আমরা যে যেখানে যতটুকুন দূষিত করছি আমাদের উচিত হবে ঠিক ততটুকুন নিজ খরচে পরিষ্কার করা। নিজে বাঁচার জন্য নিজের পরিবেশ ভারসাম্যপূর্ণ রাখুন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT