Main Menu

বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের এক আলোক বর্তিকা; ড. আফরোজা পারভীন

ড. রতন কুন্ডু : আমাদের মহাদেশে নারীরা বিশেষভাবে নিগৃহীত ও সুযোগ বঞ্চিত। অতি সম্প্রতি হেফাজত আন্দোলনের পুরোধা মাওলানা সাফি হুজুর একটি সমাবেশে নারীদের অনুর্ধ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তার এই অভিমত যে শুধুমাত্র তার আমি তা মনে করিনা। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রগতিশীল উন্নত বিশ্বেও মধ্যপ্রাচ্যের এক হুজুর নারীকে মাংসের সাথে তুলনা করেছেন এবং তাদেরকে আচ্ছাদিত করে না রাখলে শিয়াল কুকুরের লোলুপ জিহ্বা সম্বরণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য আর সাফি হুজুরের নারীকে তেঁতুলের সাথে তুলনা করা বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নারীদের অকার্যকর করে গৃহবন্দী করে রাখা পুরুষ শাসিত সমাজের একটি মূল এজেন্ডা। এক নেপথ্যে যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

 

১. ভুল ধর্মীয় বিশ্লেষণ ও উদাহরণ

২. সামাজিক কানুন ও তার অপব্যবহার 

৩. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ; অর্থাৎ দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার 

৪. প্রকৃতিগত ভাবে নারীর দুর্বলতা ও সব কাজে সমান পারদর্শিতার অভাব 

 

এ ছাড়াও আছে আরো অনেক কারণ যা লিঙ্গ প্রভেদ অথবা সেক্স ডিস্ক্রিমিনেশনের নিয়ামক। অতি সম্প্রতি সৌদি আরবে নারীদের যান বাহন চালানোর অধিকার ও চাকুরী বা অন্য কাজ করার অধিকার দিয়েছে। তার পরেও মাসিক ঋতূ হওয়ার কারণে নারীদের মসজিদ কিংবা কোনো কোনো মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ইসলামী দেশগুলোতে নারীদের ভোটাধিকার পর্যন্ত নেই। নারীদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য আমাদের উপমহাদেশ সহ সারা বিশ্বে অনেকেই নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন বা এখনো করছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জোয়ান অফ আর্ক, এলিজাবেথ স্ট্যান্টন, লুক্রেশিয়া মট, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শিবনাথ শাস্ত্রী, কৃষ্ণভাবিনী দাস, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত, মহাস্বেতা দেবী, দিলারা হাসেম, পূরবী বড়ুয়া, সেলিনা হোসেন সহ আরো অনেকে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন তা বিগত দুই শতকের নারীবাদী আন্দোলনকে ছাপিয়ে দিয়েছে। একটি মডারেট ইসলামী দেশে নারীর সার্বিক যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তার দাবীদার এককভাবে তিনি। উপমহাদেশের নারী উন্নয়নের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। 

 

আমি এখন আরেকজন রমণীর কথা বলবো যিনি বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে বিগত প্রায় তিন যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি হলেন নারী উন্নয়ন শক্তি নামের একটি সংগঠনের ফাউন্ডার, কর্ণধার ও মূল চালিকা শক্তি। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি ১৯৯২ সাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে এই সগঠনটি ১৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ নারীকে সাপোর্ট দিচ্ছে। তিনি তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানবিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের পর জেন্ডার পলিসির উপরে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও পরবর্তীতে নারী ব্যবস্থাপনার উপর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি সি তে একটি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। তিনি বর্তমানে ১১৬ টি এনজিও নেটওয়ার্কের সংগঠন ভলান্টারী হেলথ সার্ভিসেস সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি এর আগে এই সংগঠনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। বিভিন্ন কনফারেন্স, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে যোগ দিতে তিনি বিশ্বের প্রায় তিরিশটির মতো দেশ ভ্রমণ করেছেন ও নারী উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়াও তিনি সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার ও উকিলদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। দেশের সব টিভি চ্যানেলে তাঁর জীবনী, সাক্ষাৎকার ও কর্মকান্ড সম্পর্কে সম্প্রচার হয়েছে। তার গবেষণামূলক লিখিত বইয়ের সংখ্যা ১৪ টি। এ ছাড়াও তিনি দেশের সব নামকরা প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াতে নিয়মিত নিবন্ধ লিখে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ব্রুনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। আমরা এই মহিয়সী নারীর কর্মকান্ডের উত্তরোত্তর বিস্তৃতিতে তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তাঁর মতো আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT