Main Menu

বিসিএস ক্যাডার লইয়া জাতি কী করিবে?

রোকসানা ইয়াসমিন রেশনা:শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা মা বাবাকে দেখে না। ফেনীর মা এর ঘটনা আবারও তার প্রমাণ দিলো। কী কষ্ট, কী লজ্জা এটা শিক্ষিত শ্রেণির জন্য, তাই না? ঘটনাটা সবার মতো আমার মনকেও খুব নাড়া দিয়ে গেলো। এই প্রসঙ্গে লিখতে বসে, বিসিএস ক্যাডার এক ভদ্র লোকের সাথে ঘটে যাওয়া কয়দিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। 
 
লাইফে প্যাঁচ গোছ আমাকে এতোটাই নাকাল করে ফেলে যে এখন নুতন কোন কাজে যেতে রীতিমতো ভয়ই লাগে। তারপরও গেলাম পাসপোর্ট অফিসে। কারণ, ইনিশিয়াল কাজ গুলো দুলাভাই সারায় দিয়েছিল। আমি এসব কাজ আবার একদম বুঝি না। আমার মা, ভাই বোন, হাজব্যান্ড সবাই অবশ্য মনে করে যে আমি কিছুই পারি না। আমাকে দিয়ে আসলে কিছুই হবে না। সত্যি বলতে কী, আমাকে দিয়ে এই পর্যন্ত কিছুই হয় নি। আমি এক গাদা ডিগ্রীধারী গবেট টাইপের একজন মানুষ। আমার প্রতি কারোর কোন প্রকার স্যাটিসফ্যাকশন দেখিনি কখনো। আমার মা এর সব থেকে অপ্রিয় সন্তান আমি। আমার ভাই বোনের অপ্রিয় বোন। হাজব্যান্ডের জাস্ট মারের ধরন দেখে বুঝি না আমাকে রাখবে কী রাখবে না, তাই পড়ে আছি টাইপের বউ। ছেলেমেয়ের জাস্টিফিকেশনের এখনো সময় আসে নি যদিও। এসব নিয়ে এতো বেশি মাথা ব্যথাও নেই এখন অবশ্য। থাকি নিজের মতো। কাজ করি নিজের মতো। এই তো। তারপরও ছেলেমেয়ে নিয়ে গেলাম পাসপোর্ট অফিসে। যথারীতি আমি ভুল জায়গায় গিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। বুঝতে বুঝতে সময় লেগে গেলো বেশ কিছুক্ষন। এরপর অন্যান্য সব কাজ সেরে বাইরে গিয়ে একটা জায়গায় লাইনে দাঁড়ালাম। কী যেনো ভেরিফিকেশন করে দিবে। সামনে পিছনে মিলে ৮/১০ জন হবে। আমি জানি না, ওখানে কারোর কোন আলাদা সিস্টেম আছে কী না আমার জানা ছিল না। আমাদের রেখে হঠাই করেই ভীতরের সরকারী রাজা বাদশাগন বললেন, লাঞ্চের টাইম হয়ে গেছে। আধা ঘন্টা পর থেকে আবার শুরু করবো। ওকে। মেনে নিলাম। ফের যখন শুরু হলো, হঠাত দেখি পিছন থেকে একজন সবাইকে পারলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে সামনে যাওয়ার জন্য জায়গা চাইলো। ছেলে ডিস্টার্ব করছিল খুব। একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, ভাইয়া লাইনে দাঁড়ান। আমরা অনেক্ষন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। উনি প্রায় গর্জে উঠে বললেন, এতো কষ্ট করে বিসিএস পাশ করেছি কী সাধারণ পাব্লিকের পিছনে লাইন দিয়ে দাঁড়াই থাকার জন্য? আমি সব সময় দুইটা শ্রেণীকে খুব সমীহ করি, এক ঢাবি’র স্টুডেন্টদের। দুই বিসিএস ক্যাডারদের। কিন্তু ওই মোমেন্টে এই রকম একটা ব্যবহার নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বললাম, আমরা সাধারণ পাব্লিক, আমাদের পিছনে দাঁড়াতে লজ্জা করছে, কিন্তু আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিতে লজ্জা করে না?
 
আমার হাজব্যান্ড একদিন দেখি তার এক কলিগকে বলছে, তোমরা নিরাপদে কখন ফিরবা তাই নিয়ে বাসার সবাই চিন্তা করে, আর আমি চিন্তার করি কোথায় কী মারামারি, গ্যাঞ্জাম, ফ্যাসাদ লাগায় বসে আছে। কারণ যেখানে যাবে একটা না একটা কিছু তো বাঁধাবেই। আমার মা ও অবশ্য তাই-ই বলতো। কথা গুলোর বাস্তব প্রয়োগ ঘটে গেলো এখানেও। এই রকম একটা প্রশ্নের জন্য উনি মনে হয় তৈরী ছিল না। খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আমার দিকে তাকাতেই ভীতর থেকে বললো, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী যারা আছেন চলে আসেন। ব্যস, হয়ে গেলো। পিছনে যে দুই তিন জন ছিল তারাও হুড়মুড় করে সামনে চলে গেলো এবং এই তিন/চার জনের কাজ শেষ হতেই আমাদের অবাক করে দিয়ে ভীতরের রাজা বাদশারা বললেন, দুইটা বেজে গেছে, আজ আর কাজ হবে না। আপ্নারা কাল আসেন। আমি রিকোয়েস্ট করলাম, বাইরের গেট বন্ধ হয়ে গেছে, আর কেউ আসবে না। আমরা জাস্ট ৪/৫ জন আছি। একটু দেখে দেন না ভাই। হবে না বলে উনারা চলে গেলেন। আমি দাঁড়িয়ে আছি, বিসিএস ক্যাডার এগিয়ে এলো আমার কাছে। নির্লজ্জের মতো বললো, “বেতন পাই আপনাদের টাকায় ঠিক আছে। কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই যে সুবিধাটা আমরাই পাই, তার প্রমাণ তো পেলেন। সুতরাং, আমাদের কিছু বলতে হলে, একটু জেনে বুঝে বলবেন।“ আমি তো ভোদাই বনে গেলাম আরো। মনে মনে ভাবলাম, “এই বিসিএস ক্যাডার লইয়া জাতী কী করিবে”?
 
এটা তো তরতাজা বিসিএস এর ঘটনা। সাম্প্রতিক কালের ফেনীর যে মা এর ঘটনা নিয়ে এতো তোলপাড় হচ্ছে, তা তো জানছি, পেপার পত্রিকায় পড়ে। আমি চোখের সামনে দেখেছি এক বিসিএস ক্যাডারকে। একমাত্র ছেলে, মা কে শুয়োরের বাচ্চা, হারামীর বাচ্চা ছাড়া কথা বলতো না। ওই মা ও হয়তো টয়লেট করে তার উপর শুয়ে থেকে থেকেই জীবনটা পার করে দিতো, যদি তার গ্রামের বাড়ীতে থাকা আশ্রিতরা ভালো ভাবে টেক কেয়ার না করতো। ছোট বেলায় ওই মা এর করা কষ্ট গুলোও কিছু কিছু খুব মনে আছে। 
 
আসলে, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাই মা বাবাকে অযত্ন অবহেলা করে বেশি। আর ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসারের তকমাটা শিক্ষিত মানুষগুলোকে মনে হয় জানোয়ার বানিয়ে তোলে। যার জন্যই মা বাবাদের সাথে তারাও পশুর মতো আচরণ করে।
 
তাই তো আক্ষেপ করে বলতে হচ্ছে, এই বিসিএস ক্যাডার লইয়া জাতি কী করিবে?


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT