Main Menu

একুশের বইমেলায় ‘পাগলামামা’

রাশেদুল ইসলাম:এবার একুশের বইমেলায় ‘পাগলামামা’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত ।ইছামতী প্রকাশনী বেশ হৈ চৈ করেই বইটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে । প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ । আমার  প্রথম গ্রন্থ ‘মারাক্কেশের বাতাস’।   বইটি ২০১৭ সনের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় । দ্বিতীয় গ্রন্থ “চাঁদের পাহাড়” । ২০১৮ সনের একুশের বইমেলায় বইটি  প্রকাশিত । বই দু’টি পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। চলতি ২০১৯ সনের একুশের বইমেলার জন্য প্রকাশিত ‘পাগলামামা’  আমার তৃতীয় গ্রন্থ ।

‘পাগলামামা’ গ্রন্থের প্রচ্ছদলিপি লিখেছেন ডঃ ফজলে  রাব্বি ছাদেক আহমাদ । আমার মনে হয় প্রকৃত যারা জ্ঞানী;  তাঁরা চুপচাপ থাকেন । নিজেকে জাহির করেন না । কেউ যদি আবিস্কার না করেন;  তাহলে নীরবে নিঃশব্দে বিদায় নেন তাঁরা । এরকম একজন আমার আত্মার আত্মীয় ছিলেন । তিনি ম লতিফুর রহমান । এখন বেঁচে নেই । প্রজাতন্ত্রের যুগ্মসচিব হিসেবে চাকুরী থেকে অবসর নেন তিনি । ডঃ ফজলে  রাব্বি ছাদেক আহমাদ সরকারি চাকুরী থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন । এখন পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউনডেশনে কর্মরত । ‘পাগলামামা’ গ্রন্থে তাঁর লেখা প্রচ্ছদলিপি নিম্নরুপঃ "আমরা যারা অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে জীবনের একটি  পর্যায়ে পৌঁছেছি, তাদের জীবনে রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ।   তবে অভিজ্ঞতার সাথে সাথে অনেক প্রশ্নও রয়েছে- যেগুলোর উত্তর সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। আবার অনেক প্রশ্ন   আমাদের পারিপাশির্^ক সমাজ-ধর্ম ঠিক অনুমোদনও করে না। পাগলামামা চরিত্রের মাধ্যমে লেখক আমাদের না বলা অনেক প্রশ্ন  সাবলীলভাবে তাঁর লেখনীতে খুব শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং পাশাপাশি সমাজ-ধর্ম-প্রচলিত জীবন ব্যবস্থা বা সাংস্কৃতিকে আঘাত না করেই প্রশ্নগুলোর যুক্তিযুক্ত, ন্যায়ানুগ এবং সর্বোপরি ধর্মের বিরুদ্ধাচারণ না করে বরং ধর্মের অন্তর্নিহিত ও গভীর দৃষ্টিকোন থেকে এর একটি যথাযথ উত্তর উপস্থাপন করেছেন। আমি বলব  ‘পাগলানামা’ প্রকাশনার এটিই প্রধান আকর্ষণ।

বাংলাদেশের সকল মানুষ প্রধানত ধর্মভীরু এবং প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ মুসলিম। এদেশের মুসলমানদের অনেক ধরণের গুণের ঘাটতি থাকলেও পবিত্র কোরআন ও হাদীসকে তাঁরা সম্মানের চোখে দেখে থাকেন এবং এর বিধানাবলী প্রতিপালনযোগ্য মনে করেন। লেখক স্বার্থকভাবে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ উদ্বৃতি তাঁর লেখার স্বপক্ষে উপস্থাপন করেছেন। আমার দৃষ্টিতে এটি অনাবশ্যকভাবে ধর্মকে টেনে আনা নয়;  বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার একটি সার্থক মাধ্যম।

লেখক তাঁর লেখনীতে মানুষকে বিবেক ও সহজাত বিচারবুদ্ধির যে ক্ষমতা - সেটি যথাযথ প্রয়োগের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন পৃথিবীর সব মানুষের, জটিল এই বিশ্বের সকল বিষয়ের তাত্ত্বিক,    প্রায়োগিক ও ধর্মীয় জ্ঞান থাকে না।  এক্ষেত্রে মানুষ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত তার সহজাত বিবেক ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে তার সমাধান পেতে পারে।

বইটির প্রতিটি লেখা সুখপাঠ্য এবং পাঠককে আকর্ষণ করে। পাঠক প্রতিটি লেখার শেষ ধাপ পর্যন্ত না গিয়ে পরিতৃপ্ত হবেন না অথবা লেখাটি না পড়ে উঠে আসতে পারবেন না বলেই আমার বিশ্বাস। আমি নিজে অন্তত পারিনি। এটিই লেখকের প্রকৃত স্বার্থকতা ও লেখনীর শক্তিশালী দিক। লেখকের কোন লেখনীতেই বাস্তবতাকে বিসর্জন দেয়া হয়নি অথবা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। অথচ কঠিন বাস্তবতায় অনেক কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর তিনি হৃদয়গ্রাহী উদাহরণ টেনে বের করে এনেছেন। কোথাও কোথাও লেখকের যুক্তি কিছুটা কঠিন মনে হলেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস,  সকল শ্রেণীর পাঠকবর্গ এই প্রকাশনার মাধ্যমে তাঁদের মনের খোরাক পাবেন" |

আমি সাধারণ মানুষ । সাধারণ মানুষ গতানুগতিক চিন্তা করে । চলমান যে কোন অবস্থার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে । এক সময় এই  চলমান ব্যবস্থাকেই শ্বাশত মনে করে সে । অপরিবর্তনীয় মনে করে । শুধু নিজে মনে করে তা নয়; নিজের সন্তানদের ভিতরও একই বিশ্বাস জাগানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে সে  । নতুনকে ভয় পায় । পরিবর্তনকে সে মেনে নিতে পারে না । অথচ, সমাজ ও সভ্যতা বিকাশের মূলে কাজ করে নতুন ভাবনা । আর, এই নতুন ভাবনার প্রকাশ ঘটে পরিবর্তনের মাধ্যমে । তবে, পাগলামামা আমার মত সাধারণ মানুষ নন  । প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস ও ধ্যানধারণা তাঁকে পীড়া দেয় । নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি দিয়ে তিনি এসবের অসারতা প্রমাণ করেন । যে কোন ঘটনার অনেক গভীরে যান এবং পারস্পারিক কার্যকরণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সে বিষয়ে  যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসেন তিনি। এই ধ্যানধারণায় নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে চান তিনি । পাগলামামার সত্যাশ্রয়ী এই বিশ্লেষণ পদ্ধতি শুধু যে আমাকে স্পর্শ করেছে তা নয়; অনেক সচেতন পাঠকের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি । তারই  ফলশ্রুতিতে এবারের একুশের বইমেলায় ‘পাগলামামা’র আত্মপ্রকাশ । আর, এই আত্মপ্রকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে ইছামতী প্রকাশনী । তাই, ‘পাগলামামা’র প্রকাশক জনাব মোঃ রশিদুর রহমানের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা । অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা www.banglakatha.com.au   এ বইয়ের  লেখাগুলি বিভিন্ন সময়ে  ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে । এই অনলাইন পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট দেশপ্রেমিক এবং একইসাথে মাতৃভাষা প্রেমিক সিডনি প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়কে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।  বন্ধুবর ডঃ ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বইটি লেখার ক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে, অনুপ্রেরণা দিয়ে আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন । তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা  কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেলে রাতের বেলা চিড়িয়াখানায় থাকা এবং সে অভিজ্ঞতার উপর লেখা আমার দ্বারা সম্ভব হতো না । ফলে ‘পাগলামামা’ লেখাটা অসম্পূর্ণ থাকতো । একারণে কিউরেটরসহ সে রাতে  জাতীয় চিড়িয়াখানায় দায়িত্ব পালনকারী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা । জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে আমার লেখক জীবনের শুরু । তাই ফেসবুকের ভারচুয়াল বন্ধুসহ সরাসরি যে সকল বন্ধু পাগলামামা  লেখার জন্য আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন; তাঁদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

‘পাগলামামা’  অর্পণ–দর্পণ স্মৃতি ফাউনডেশন’ এর পক্ষ থেকে লেখা ।  মানুষকে সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করাই ফাউনডেশন এর মূল লক্ষ্য ।   বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শ’ ৭৫ টাকা । একুশের বইমেলায় বিক্রয়মূল্যের উপর ২৫% কমিশন দেয়া হয় । এই হিসেবে বইটির দাম হবে ১শ ৩০ টাকার মত ।  বইটি মানুষের সুপ্ত চিন্তাচেতনাকে সক্রিয় করতে সহায়ক বলে ফাউনডেশন মনে করে ।

‘পাগলামামা’ বইটির বহুল প্রচারে  সকলের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য ।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT