Main Menu

বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতারা

নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির অধিকাংশ নেতা নিখোঁজ। তাঁদের কোন দলীয় কর্মকাণ্ডে পাওয়া যাচ্ছে না। দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। বাড়িতে শুয়ে বসেই দিন কাটছে অনেকের। বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের হতাশার কারণেই তাঁরা আপাতত নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। সময়ই সব ঠিক করে দিবে। তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, দলের মহাসচিবের সঙ্গে দূরত্বের কারণে, দলের কর্মসূচির সঙ্গে দ্বিমত থাকায় অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। দলের বড় একটি অংশ মহাসচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মসূচীতে অনুপস্থিত। তিনি এবার নির্বাচনও করেননি। নানা বিষয়েই তার সঙ্গে দলের মত পার্থক্য সেই ওয়ান ইলেভেন থেকে। তারপরও দলের মহাসচিব তার নিকটাত্মীয় হবার কারণে তিনি কিছুদিন সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সব কিছু থেকেই তিনি আড়ালে। জেনারেল মাহাবুবের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এসব রাজনীতি তাঁর পছন্দ নয় জন্যই তিনি এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন।

কদিন আগ পর্যন্তও সরব ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে দলের অধিকাংশ কর্মসূচীতে তিনি অনুপস্থিত। দলের মধ্যে কান পাতলেই শোনা যায় যে মহাসচিবের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এখন প্রকাশ্য। দু’জনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ব্যারিস্টার মওদুদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন চেয়েছিলেন। এতে সায় দেননি ফখরুল। বিভিন্ন জনের কাছে তিনি মির্জা ফখরুলের অশালীন ভাষায় গালাগালিও করেছেন। নির্বাচনের পর পরই তিনি ঘোষণা করেছেন, ফখরুল মহাসচিবের পদ ছাড়লেই তিনি সক্রিয় হবেন।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে সরব নন। এটা মুলত: অসুস্থতা জনিত কারণে। কিন্তু এবার তিনি এবং তার স্ত্রী কাউকেই মনোনয়ন না দেয়ায় ‘হতবাক’ ব্যারিস্টার রফিক। এই ঘটনায় তিনি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। এরপর আবার ঘরে ঢুকেছেন। অভিমানেই তিনি নিজেকে আড়াল করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তাঁর সবগুলোরই বিপক্ষে ছিলেন। ড. কামালদের সঙ্গে ঐক্যকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছিলেন ‘শয়তানের সঙ্গে ঐক্য’। নির্বাচনের ব্যাপারেও তাঁর অবস্থান ছিল নেতিবাচক। তারপরও নির্বাচন করেন। সহিংসতায় আক্রান্ত হন। এখন তিনি নিখোঁজ। দলীয় কর্মকাণ্ডে থাকছেন না। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষুব্ধ গয়েশ্বর নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে শিগগিরই তিনি সচল হবেন বলে তাঁর রাজনৈতিক শীষ্যরা জানিয়েছেন।

বিএনপির কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে না স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনকেও। তবে দলের মহাসচিবের সঙ্গে বিরোধে নয়। তাদের সমস্যা শারীরিক বলে দাবি করছেন তাদের ঘনিষ্ঠরা। শুধু এসব প্রবীণ নেতারা নন। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমান উল্লাহ আমান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতো নেতারাও নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এরা সবাই দলের মহাসচিবের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলে অবসরে যাওয়া নেতার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT