Main Menu

খালেদা জিয়ার সাথে কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না: রিজভী

বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ১৫ দিনেও দলের নেতাকর্মী কিংবা আত্মীয়দের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, নতুন সংসদ সদস্যরা সংবিধান মেনে শপথ নেননি।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২১-২২ দিন অতিক্রান্ত হলেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনরা দেখা করতে পারছেন না। বন্দিদের যে আইনসম্মত অধিকার আছে, তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বেগম জিয়াকে। এই নিষ্ঠুর আচরণ কিসের ইঙ্গিতবাহী?’

তিনি বলেন, ‘বিশাল লাল দেয়ালের মধ্যে বেগম জিয়াকে অন্তরিন রেখে বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা চলছে। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার যে কারা বিধান, সেটি গায়ের জোরে লঙ্ঘন করাটা বেগম জিয়াকে নিয়ে সরকারের আরেকটি নতুন কোনো খারাপ পরিকল্পনা কি না, তা নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা আরও দীর্ঘতর হচ্ছে।’

‘পৃথিবীর কোনো নিষ্ঠুর স্বৈরতান্ত্রিক দেশেও বন্দিদের সঙ্গে এরূপ দুর্ব্যবহার করা হয় না, যা করা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার ওপর।’

রিজভী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব, আত্মীয়স্বজন ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতের জন্য বারবার আবেদন করার পরেও কারা কর্তৃপক্ষ তাতে কোনো কর্ণপাতই করেনি। কারাবিধি অনুযায়ী সাত দিন পরপর বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়ম। অথচ বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে এ বিধান করা হলো ১৫ দিন পরপর। এখন সেই ১৫ দিনের বিধানকেও সরকারের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার ওপর এই মানসিক নির্যাতনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করা। বেগম জিয়ার সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়দের দেখা করতে না দেওয়া রীতিমতো কঠিন মানসিক নির্যাতন। এ নিয়ে শুধু তার আত্মীয়স্বজনরাই নয়, দেশবাসী উদ্বেগাকুল ও উৎকণ্ঠিত। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন পূর্বাপর ব্যাপক সহিংসতা, রক্তপাত, ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর গুলি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করা, ধানের শীষের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করাসহ ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীদেরকে পাইকারি হারে গ্রেপ্তার, আদালতকে ব্যবহার করে প্রার্থিতা বাতিলসহ ভোটের নামে নিষ্ঠুর তামাশায় শুধু দেশবাসীই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদে সোচ্চার। মানুষের ভোটাধিকার হরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যক্কারজনক ভূমিকায় দেশবাসী হতবাক ও ক্ষুব্ধ। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন জনগণের ললাটে এক বিষাক্ত কাঁটা।’

 প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, এবারের নির্বাচনের শৃঙ্খলা আগামীবারেও থাকবে। সাবাশ এইচ টি ইমাম সাহেব, আপনি আত্মমর্যাদাহীন, অনুশোচনাহীন, আজ্ঞাবাহী একজন মানুষ, যার পক্ষে আগামী নির্বাচন নিয়ে এ ধরনেরই অঙ্গীকার করা ছাড়া আর কীইবা বলার থাকতে পারে। জনগণের ওপর জবরদস্তি করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবেই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT