Main Menu

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মহাজোটের মহাবিজয়, ঐক্যফ্রন্টের মহাপরাজয় নির্বাচনোত্তর মানবতার মহাবিপর্যয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মহাজোটের মহাবিজয়, ঐক্যফ্রন্টের মহাপরাজয় এবং নির্বাচনোত্তর মানবতার মহাবিপর্যায়।কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন সমাজে খারাপ কাজ করে যারা মানবতার বিপর্যায় ঘটায় তারা তত খারাপ নয় যতটা খারাপ এই খারাপ কাজের যারা প্রতিবাদ করেনা। নাম শুনলে প্রাণ জুড়ায় সুবর্ণ চর। নিশ্চয়ই যারা সুকুমার বৃত্তির চর্চা করেন এমন কোনো কবি, সাহিত্যিক বা নাট্যকর এই অন্চলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মিল রেখে এই সুন্দর নামটি রেখেছিলেন। অথচ ক্ষমতা এবং রাজনীতি একই যায়গায় একই সাথে কতটা ঘৃন্য হায়েনার জন্ম দিয়েছে। শুধুমাত্র একটি দলের পক্ষে ভোট না দেয়ার অপরাধে স্বামী এবং সন্তানের সামনে ধর্ষনের শিকার হলেন সেই সুবর্ণ চরের ভিন্ন মতালম্বী এক নারী। সমাজের তৃতীয় নয়ন সাংবাদিক সমাজ এখনও পর্যন্ত এই ঘৃন্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে কোনো মানব বন্ধন করেছে, রেপিষ্ট ক্ষমতাসীন দলের নেতাকে আইনে সোপর্দ করতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এই বলে মিছিল করেছে এমন খবর পাওয়া যায়নি।

 

সরকারী পক্ষের রাজনৈতিক সংগঠনের কোনো অংগ বা সহযোগী সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে বা অপরাধীর শাস্তি দাবী করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে বলে শোনা যায়নি। ছাত্রসমাজ সব সময় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো। তারাও আজ প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে। বুদ্ধিজীবি সমাজ আজ শক্তির পদলেহন করছে। আইন প্রয়োগে ন্যায্যতা নেই বা selectively আইন প্রয়োগ হচ্ছে। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং নির্বাচনোত্তর এখন পর্যন্ত কোনো প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কোনো প্রতিবেদক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি। শুধুমাত্র কোনো দলের বা প্রার্থীর অভিযোগের কথা প্রকাশ করেছেন। নিজেরা স্বচোক্ষে কোথাও কিছু দেখেছেন মর্মে কোনো প্রতিবেদন ছাপা হয়নি বা প্রচারিত হয়নি।

 

সকল ক্ষেত্রে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ। প্রায় প্রত্যেকে বলছেন তাদের জীবদ্দশায় এরকম ভালো নির্বাচন দেখেননি। কোথাও কোনো সামান্য বিচ্যুতি লক্ষ্য করেছেন এমনটিও বলছেননা। তবে বিজয়ীদের অনেক ক্ষেত্রে ক্ষীণ কন্ঠ শুনে বা নত শির দেখে কেউ কেউ মৃদু উপহাসের হাসি হাসছেন এবং ভয়ে আবার মুখ দ্রুত বন্ধ করে ফেলছেন। সরকারী দলের কট্টর সমর্থকদের দু’একজন মুখ ফসকে বলে ফেলছেন এত বড় অবিশ্বাস্য বিজয়ের দরকার ছিলোনা। অন্তত: ৪০/৫০টা সীট বিরোধী দলকে ছেড়ে দিয়ে গনতান্ত্রিক ধারায় রাখলে সেটা অনেক বিশ্বাসযোগ্য হতে পারতো। কিন্তু যখন সকল আসনে জয়লাভের সুযোগ থাকে তখন কি কেউ হারতে চায়? তাই সবাই জিতে গেলো।

 

সরকার এখন বেশ মোটাতাজা। বেশ স্ফীতকায়। একজন মানুষ অধিক মোটা হয়ে স্ফীত হয়ে গেলে কি হয়? তড়িৎ জড়াগ্রস্ত হয়। হাটাচলায় কষ্ট হয়। শরীরের নানা অঙ্গে ক্ষত সৃষ্টি হয়, ব্যথা হয়। সুবর্নচরের ঘটনা ভবিষ্যত নতুন সরকারে জড়তা তৈরী হওয়ার সিম্পটম মাত্র।

 

সরকারের কি করা উচিত? জীমে ভর্তি হওয়া দরকার। ফ্যাট কমাতে হবে। কঠিন ব্যায়াম করতে হবে। শরীরের মেদ বার্ন করতে হবে। অপরাধী যেই হোকনা কেনো আইনে সোপর্দ করতে হবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোকনা কেনো আইনে সোপর্দ করতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই সংশ্লিষ্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে থাকা যাবেনা। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা হোক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে রাখা যাবেনা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে sack করবেন। কোনো ক্ষেত্রেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা।

 

State এর ভেতরে deep state তৈরী হতে দেয়া যাবেনা। অতীতে সরকার প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে বা প্রধানমন্ত্রীর সেনিটিমেন্টের বিরুদ্ধে গিয়ে এমপি/মন্ত্রীদের কথা বলতে দেখা গেছে। সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসনে এই culture দেখা গেছে। সরকারের ভেতরে অবস্থান করা এই সরকার যারা পরিচালনা করবে কাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

 

বিরোধী মতামতের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এই বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী সরকারের জন্য অত্যাবশ্যক হওয়া উতিত। সরকারের উচিত ঐক্যফ্রন্টের সাথে জরুরী সংলাপে বসে সংখ্যায় যে ক’জন হোন না কেনো তাদেরকে সংসদীয় গনতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করানো। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাদেরকে আশ্বস্ত করা যে একজন সদস্যও যদি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করেন তাঁর মতামতের গুরুত্ব দেয়া হবে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে স্বাভাবিক রাজনীতি চর্চায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের নমনীয় হওয়া বান্চনীয়। দীর্ঘ সময়ের জন্য বৈরী পরিবেশ বজায় রাখা অনুচিত।

 

যখন সংসদে একটি microscopic বিরোধী দল তৈরী হয়েছে সেটি টিকিয়ে রাখা এখন সরকারের আচরনের ওপর নির্ভর করছে। টিকিয়ে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে সরকারকেই বেনিফিট দিবে। এরকম একটি কথা প্রচলিত রয়েছে If you didn’t have a god, create one. যদি সম্ভব হয় ৭ জনকে ধরে রাখুন। পাশাপাশি গনমাধ্যমকে দেখতে এবং বলতে সুযোগ দিন। তারা এখন দেখেনা এবং কোনো রিপোর্ট নেই। শুধু অন্যের অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এটি কোনো সুস্থ পরিবেশ নয়। এতে করে সরকার শুধু মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহনের আবর্তে পতিত হবে।

 

সরকারী দল এবং জোটের অভূতপূর্ব মহাবিজয় এবং অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে দুর্নীতি দমনে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে। সুশাসন অতীব জরুরী। সুবর্নচরের ধর্ষকের বিচারের মধ্য দিয়ে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুরু হোক। দুর্নীতির সামান্যতম অভিযোগ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি যেনো মন্ত্রীপরিষদে যুক্ত হতে না পারেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা যেনো উচ্চকিত হওয়ার সুযোগ সরকারই করে দেয়। তা’হলেই জনগন উন্নয়নকে স্বাগত জানাবে। আইনের কঠিন প্রয়োগে মানুষ সীমিত গনতন্ত্রকেও মেনে নিবে উন্নয়নের প্রত্যাশায়।

 

অপরদিকে ঐক্যফ্রন্টের উচিত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করা। রাজনীতি বোদ্ধারা বলছেন জনাব ফখরুলের নেতৃত্বে সংসদে থেকে সরকারের খারাপ কাজের সমালোচনা করা এবং জনগনের কাছে ফোকাসড হওয়া অনেক সহজ হবে। তবে বিএনপির উচিত হবে স্বাধীনতাবিরোধী জামাতকে পুরোপুরি ত্যাগ করা। তা’হলে সব পক্ষের সম্মতিতে তাদের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে চিরকবর রচনা করা যাবে। আগামী পাঁচ বছর বিএনপি তা’হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠনকে গোছাতে সক্ষম হবে। কর্মীদের মামলা-মোকাদ্দমা আইনী প্রক্রিয়ায় শেষ করে একটি পর্যায়ে পৌঁছুতে পারবে। একটি পজিটিভ রাজনীতির ধারা সূচীত হবে। অন্যথায় পুরনো ধারায় আন্দলন করতে গেলে শুধু মামলার সংখ্যাই বাড়তে থাকবে। দূর্বল থেকে দূর্বলতর হতে থাকবে বিএনপি।

 

দেশের এবং জনগনের কথা চিন্তা করে উভয়পক্ষ অতিসত্বর একটি সংলাপে বসে সমঝতায় পৌঁছাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার উদারতার পরিচয় দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করবে বলেও আমরা প্রত্যাশা করছি। তাঁরা সবাই জনগনের জন্য রাজনীতি করেন এটা আমরা এখনও বিশ্বাস করি। সকলের সুমতি হোক। গনতন্ত্র, সুশাসন এবং মানবতার জয় হোক।

 

 

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT