Main Menu

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ - সিস্টেমেটিক এক্সক্লুশন!

মোঃ শফিকুল আলম:“Democracy is the rule of majority with the consent of minority.” এবারের নির্বাচনে সংসদে microscopic minority তৈরী হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে কোনো বিরোধী দল থাকবেনা। সুতরাং minority’র consent এর প্রয়োজন হবেনা। Systematic exclusion বলছি এই কারনে যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী পক্ষের নিধন হয়েছে।

 

ইতোমধ্যে সচেতন উদ্বিগ্ন জনগনের মনে হয়তো (বা হয়তো নয়) প্রশ্ন ঘুরপাঁক খাচ্ছে তা’হলে কি হতে যাচ্ছে? গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা যে তিমিরে ছিলো সেই তিমিরেই থাকছে? সরাসরি কোনো উত্তর নেই। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবকে তাঁর একজন ঘনিষ্ট অধ্যাপক পরামর্শ দিয়েছিলেন যেনো সংসদে ৫০/৬০ জনের একটি বিরোধী দল থাকে। তা’হলে তোমার সরকারের ভুল-ভ্রান্তি তুমি জানতে পারবে। বঙ্গবন্ধু তাঁর অধ্যাপক বন্ধুর সাথে সম্পূর্ণ একমত প্রকাশ করেছিলেন।দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সেই সংসদে মাত্র ৭ জন বিরোধী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার অব্যাবহিত পর পরই এই সিস্টেমেটিক এক্সক্লুশন গনতন্ত্রকে বা গনতন্ত্রের দিক ৩৬০ ডিগ্রী কোনে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলো।

 

গনতন্ত্রবোদ্ধা বা সমাজের সমঝদার মানুষেরা যখন প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ inclusive রাজনীতির ভাবনায় আকুলি-বিকুলি করছিলেন তখনই একাদশ সংসদ নির্বাচনটি তাদের ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীতে সিস্টেমেটিক exclusive রাজনৈতিক ধারা তৈরী করলো। তারা এখন দ্বিধান্বিত। তারা শঙ্কামুক্ত হতে গিয়ে নতুন শঙ্কায় রয়ে গেলেন। ভাবছেন নির্বাচন শেষ। সামনের দিনগুলো ভালো যাবেতো? সব ক্ষেত্রে উত্তর অজানা।

 

কেনো এমন হলো? মহাজোটের কি সুপার ভূমিধ্বস বিজয়ের কথা ছিলো? বা ঐক্যফ্রন্টের কি সুপার ভূমিধ্বস পরাজয় হওয়ার কথা ছিলো? হ্যাঁ এমনটি শেষ মুহূর্তে অনুমান করা গিয়েছিলো। ২৯ ডিসেম্বর আমার লেখায় অনেকটা সেরকম অনুমানের চিত্র অঙ্কনের চেষ্টা করেছি। সেকারনেই লেখার প্রথমে অধ্যাপক বন্ধুর সাথে বঙ্গবন্ধুর কথপোকথনের উদ্ধৃতি দিলাম। বঙ্গবন্ধু যে কারনে ১৯৭৩ সালে ৫০/৬০ জনের বিরোধীদল নিশ্চিত করতে পারেননি একই কারনে শেখ হাসিনাও পারেননি। এবারে মহাজোটের বিজয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব আওয়ামীলীগ কর্মীদের হাতে ছিলোনা। এই দায়িত্ব তাদের হাতে থাকলে নির্বাচনটি অত্যন্ত সহিংস হতো। দৃশ্যত: স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে তা’ প্রমানের সুযোগ থাকতোনা। এই দায়িত্বটি পালন করেছেন শৃঙ্খলিত পুলিশ বাহিনী, সিভিল প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন। তাদের এই দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করার জন্য যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সফলতা পুরষ্কার পাওয়া উচিত। সকল সফলতার মধ্যেও কিছুটা বিফলতাও থাকবে। এই নির্বাচনে তা’ও আছে। পরিকল্পকদের মধ্যে হয় সিদ্ধান্ত গ্রহনে বা বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাবের কারনে ফলাফলে সরকারী দলের সমর্থকরাসহ সবাইকে সন্দিহান করেছে। এটি না করেও আরেকটু দক্ষতার পরিচয় দেয়া যেতো। 

 

কিভাবে সিস্টেমেটিক ইনক্লুসিভ এবং বিশ্বাসযাগ্য নির্বাচন করা যেতো? নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে (বিশেষ করে বহুকাল ধরে মহাজোটের আসন হিসেবে চিহ্নিত) বিরোধী পক্ষের মুভমেন্ট রেস্ট্রিক্টেড রাখা যেতো। গনহারে সমগ্র বাংলাদেশে করা প্রয়োজন ছিলোনা। একইভাবে ৫০/৬০ টি আসনে vote manipulation বন্ধ রাখা উচিত ছিলো বিশেষ করে যেসমস্ত এলাকা বহুকাল ধরে বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত। তা’হলে দৃশ্যত: নির্বাচনটি যেমন সুষ্ঠু মনে হতো তেমনি বিশ্বাসযোগ্য হতো। সংসদে একটি বিরোধী দল থাকতো এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতো। কারো মাঝে কোনো শঙ্কা বা ভয় কাজ করতোনা।

 

তবে এখনও নতুন সরকারটি দেশে একটি সুষ্ঠু এবং স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রেখে দেশ চালাতে পারবেন। কি করে পারবেন? সবকিছুর পরও শেখ হাসিনা দেশে একমাত্র জনগনের আশা এবং ভরসার প্রতীক। তাঁর ওপর জনগনের গভীর আস্থা রয়েছে। তাঁকে দেশে সুশাসন বজায় রাখতে হবে। নিরপেক্ষভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশ্রুতি অনুযায়ী চোখ বন্ধ করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এই নির্বাচনে যদি অদৃশ্যমান কোনো ত্রুটি থেকেও থাকে তা’ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনের শাসনের প্রতি অবিচল থেকে আইন প্রয়োগের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সকল সন্দেহ দূর করতে সক্ষম হবেন।

 

নতুন সরকারের একচ্ছত্র সমর্থন ধরে রাখতে একটি স্বাধীন সমালোচকগোস্ঠী তৈরীর সুযোগ করে দিতে হবে। কিভাবে তা’ করা যাবে? গনমাধ্যমকে উন্মুক্ত রাখতে হবে। সমালোচনার প্রতি tolerances থাকতে হবে। বিভিন্ন ফোরামে professional body যেসব recommendations রাখবেন তা’ সম্মানের সাথে পর্যালোচনা করতে হবে। দেশের প্রয়োজনে ছোটো ছোটো দলের নেতাদের সাথে মাঝে মাঝে আলাপ-আলোচনা (আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক) করতে হবে। Winers take all মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বতন্ত্র ধারায় বিকশিত হওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মানুষকে আইনী অধিকার থেকে বন্চিত করা যাবেনা সে মানুষ সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেও না।

 

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আওয়ামীলীগের সুদুরপ্রসারী ভিশন বাস্তবায়নে একটি অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে। উন্নয়নের ট্রেইন সুপার গতিতে চলবে। ইন্ডাস্ট্রী বেইজড্ শিক্ষাক্রম পরিচালিত হবে, জব-অরিয়েন্টেড অর্থনীতি প্রনীত হবে। জিডিপির হার বৃদ্ধির সাথে সামন্জস্য রেখে জব সৃষ্টি করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে সরকারের ফিসকেল পলিসিকে প্রনোদনা দেয় এমন মুদ্রানীতি প্রনয়নে সচেষ্ট থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতির হার এবং salary বৃদ্ধির হার সব সময় সামান্জস্যপূর্ণ থাকবে। দুর্নীতি এবং অপশাসনের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। নিউইয়ার ২০১৯ সবার জন্য শুভ হোক।

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT