Main Menu

নেতৃত্বের বলিষ্ঠতায়, ভেসে যাক নিন্দুকেরা!

সাদিকুল আওয়াল: বাঙালি মানেই আড্ডা। বাঙলা আর বাঙালির জীবনে আড্ডা- এ এক চিরকালীন সম্মেলন। আড্ডায় জুটে যাওয়ার জন্য বিশেষ পরিচিত হওয়ার ও দরকার নেই, কেবল যুতসই বিষয়ের ইঙ্গিতই যথেষ্ট। যে যাই করুক, দিনের শেষে অথবা ছুটির দিনে একটিবারের জন্য আড্ডার আসরে যাবেই যাবে, তা সে পাড়ার চায়ের দোকান-ই হোক বা বাড়ির বৈঠকখানা বা “কফি হাউসের সেই আড্ডাটা …” । বাঙালি দের এই আড্ডা চিরকাল চলে আসছে এবং চলবেও!

ইতিহাস ঘেটে তথ্যে জানা যায়,প্রাচীন যুগে গ্রীসে জমজমাট আড্ডার আসর বসতো। তাতে থাকতেন, তৎকালীন গ্রীসের বড় বড় সব দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, গণিতজ্ঞ, সমাজবিদ্, কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রমুখরা। আড্ডার বিষয় থাকতো, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, বিজ্ঞান, দর্শন, গণিত, জ্যোতিষচর্চা প্রভৃতি। মধ্যযুগীয় ভারতে মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর নবরত্নদের নিয়ে রাজ দরবারে আড্ডার আসর। সে আড্ডায় ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা হত সঙ্গীত, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, ধর্মচর্চা এসব নিয়ে ।

অস্ট্রেলিয়ার এই প্রবাস জীবনেও আমরা আড্ডার ছুতো খুঁজি। প্রবাসে আমরা দীর্ঘ ছুটির দিন, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও নিমন্ত্রণ দেওয়ার অথবা নিমন্ত্রণ নেওয়ার অছিলায় আড্ডার ভিতর দিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করি। তার কারন আছে। সপ্তাহে পাচঁটা দিন নারী পুরুষ, আমাদের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত ব্যস্ততার ভিতর দিয়ে সময় কাটাতে বাধ্য হয়। তাছাড়া প্রবাসের ছকে বাধা কর্মব্যস্ত জীবন খুব সহজেই একঘেয়েমিতে ভোগায়। তাই ছুটির দিনে  একটু আড্ডা, গল্প, পরিচিত জনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, বাচ্চাদের একটু দেশি পরিবেশের ভিতর আনা, সব মিলিয়ে একটু ব্যতিক্রমধর্মী সময় কাটানো।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আড্ডার আসর গুলোতে কেন্দ্র করে অনেক সময়ই আমাদের ভিতর বিভেদ, বিভাজন, তিক্ততা, সম্পর্কের অবনতি, এমনকি ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে একে অন্যের মুখ দেখাদেখি বন্ধ পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়! । বিশেষ করে পুরুষদের আসরে । এই আসরে কথার্বাতা, গল্পের বিষয় শুরু হয় বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডের বাগান বাগান নিয়ে। কখনও অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি, লিবারেল পার্টি, আমেরিকার রাজনীতি,  ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হওয়া, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের উইকিলিকস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, টনি অ্যাবট, পিটার ডাটন, স্কট মরিসন, বিল সর্টন সব ঘুরে এসে সবশেষে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্রসংগে- দেশের ইতিহাস বিকৃতি, স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধীদের বিচার, সরকার পরিচালনা, ভারতীয় আগ্রাসন, দুর্নীতি, আর বর্তমানের হট টপিক বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। আড্ডা শুরুই হয় স্পষ্ট মতাদর্শের বিভাজন নিয়ে। একটা শ্রেণি স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে শুরু করে, দেশের উন্নয়ন- যে কোনো ইস্যুতেই নেতিবাচক মন্তব্যের জন্যেই যেন মুখিয়ে থাকেন। অন্য একশ্রেণি মনে করেন আমরা তো আর বাংলাদেশি নই, আমরা অস্ট্রেলিয়ান বা আমেরিকান, কানাডিয়ান, বা ব্রিটিশ। বাংলাদেশ নিয়ে শুধু শুধু সময়ের অপচয় কেন হে বাপু! আরেকটি শ্রেণি যারা মনে প্রাণে নাড়ীর টান কে বুকে গেথে নিয়েছেন, তারা নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। ব্যস, শুরু হয়ে গেল বিভেদ, বিভাজন ।

নেতিবাচক মন্তব্যের এই শ্রেণির আলোচক শ্রোতাদের কেউ বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ইসলাম ধর্মের জন্যে অভিশাপ, রাজাকার আলবদরদের যুদ্ধাপরাধের শাস্তিতে তাদের চোখে মুখে,  শোকের ছায়া নেমে আসে । এদের কেউ কেউ দেশে যেয়ে ঈদের নতুন চাঁদ দেখার মতো ঢাকায় "র" এর একটা অফিস দেখে এসেছেন, সেই গল্প করেন, কেউ বলেন একটা না তিনি দুইটা দেখেছেন্, কেউ বলেন না তিনি তিনটা দেখেছেন। এইশ্রেণির কারো কারো সামনে যদি পাকিস্তানকে নিয়ে সমালোচনা মুলক কথা বলা হয়, তাদের মুখ হয়ে যায় গ্রামে কাঠের উনুনে ধান সিদ্ধ করার হাড়ির তলার মতো। আর যদি পাকিস্তানের কোনো প্রশংসা করা যায়, কিংবা পাকিস্তানের তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খাঁর রূপের তারিফ করা হয়, এদের চোখে মুখের আনন্দের ঝিলিক যেকোনো সুন্দরী বিশ্বসুন্দরীদের রুপের ঝিলিকও ম্লান করে দেয়।

এরা বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা পায়না, দেখতে পেলেও স্বীকার করে না। দেশের ভাবমুর্তি কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে এদের বোধশক্তি ভন্ড অন্ধ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রশংসা এরা দেখে না। সবশেষে তাদের আলোচনা কেন্দ্রীভূত হয় দেশের দুর্নীতির উপর । রসালো আর জম্পেস আলোচনায় মশগুল হয়ে পড়েন। ভাবখানা এতক্ষণে পাওয়া গেছে মনের মতো টপিক।

বাংলাদেশে দুর্নীতি আছে এবং তা প্রবল ভাবেই আছে। সরকারের মন্ত্রীরাও সময়ে সময়ে স্বীকার করেন যে দেশের সর্বত্রই দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি নতুন নয়। দুর্নীতি সব সময় ছিল। পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিতে দুর্নীতি প্রবল শক্তিধর হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল বিশ্বে দুর্নীতি ছাড়া অর্থনীতি এক পা অগ্রসর হতে পারে না। উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্ষমতাধর মানুষরো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকেন। বাস্তবিক অর্থে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো এমনভাবে তৈরি হয় যাতে এর সংগে জড়িত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যক্তিরা পর্যন্ত দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের মতো শুধু উন্নয়নশীল দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তা নয়। ধনী রাষ্ট্রগুলো কম দুর্নীতিপরায়ন নয়।

অস্ট্রেলিয়ায় আছি। এখানে দুর্নীতি নেই ? আছে কি নেই আমরা তার কতটুকু জানি ?  অস্ট্রেলিয়াতে সমস্ত বড় শহর যেমন মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, এডিলেডে যে বাংলাদেশি কমিউনিটি আছে, তাঁদের কোনো প্রভাব অস্ট্রেলিয়ান সরকার বা জনগনের উপর তেমন একটা নেই। আমরা  বাংলাদেশি অভিবাসী এদের চোখে সবসময়ই অভিবাসী হিসাবেই থেকে যাব যতই আমরা নিজেদের অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে জাহির করি। আমরা এদের সাথে খোলামলো ভাবে মিশতে পারি না বলেই এদের ভিতরের অনেক খবরই আমরা জানি না। এদেশের সরকার দলীয় পার্লামেন্ট মেম্বার যখন জনগনের কষ্টে দেয়া ট্যাক্স এর অর্থে পতিতালয়ে যেয়ে ধরা পড়ে, নিউজে খবর হয় তখন আমরা জানতে পারি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকিং সেক্টর বছরের পর বছর পদ্ধতি গত দূর্নীতির মাধ্যমে জনগনের কষ্টের সুপারঅ্যানুয়েশনের অর্থ উধাও করে দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান টিভি এবিসির ফোর কর্নার্সের ২০১৪ সালের একটি রিপোর্টে তাঁরা বলছে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় একটি ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে জনগনের জীবনবীমা আর সুপারঅ্যান্যুএশনের বিপুল অর্থ সরিয়ে ফেলেছে।

নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি এবং বলছি চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা মেধা, অভিজ্ঞতা এগুলো এখানে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় না। এখানে চাকুরি পাওয়ার একমাত্র নির্নায়ক স্বজনপ্রীতি। যাকে অস্ট্রেলিয়ানরা নেটওয়াকিং নাম দিয়ে মহিমান্বিত করেছে। নেটওয়াকিং ছাড়া এখানে চাকুরি হয় না। চাকুরি দাতা যদি মনে করে কাউকে চাকুরিতে নিয়োগ দেবেন তাহলে সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির চাকুরি হবে। অস্ট্রেলিয়ায় চাকুরির জন্য আবেদন করলে শুধুমাত্র নামের কারণেই আবেদন বাতিল হয়ে যায়, এমন ঘটনাও আছে । এখন অনেক বাঙালি, নবীন প্রজন্ম,  চাকুরিতে আবেদনের সময় নিজের নাম পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ানদের নামের কাছাকাছি নাম দিচ্ছে। আর এভাবেই বাবা মার দেয়া প্রিয় নাম, হামিদুর হয়ে যাচ্ছে “হেমিশ”, রহমান হয়ে যাচ্ছে “ম্যান”, হাসান আলী “হ্যান্স অ্যালি”। বাবা মার দেয়া প্রিয় নাম যখন এই তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তন করতে হচ্ছে, তখন তাঁদের ভিতরের ক্ষত কি কেউ দেখতে পাচ্ছে ? তাঁদের ভিতরের এই ক্ষত কি দুর্নীতির কারণে হচ্ছে না? এদেশের নব্বই শতাংশ চাকুরির কোনো বিজ্ঞাপন দেখা যায় না। সরকারি ক্ষেত্রে অবস্থা আরও ভয়াবহ। সরকারি ক্ষেত্রে নিরানব্বই শতাংশ চাকুরির   কোনো বিজ্ঞাপন দেয়া হয় না। মোদ্দা কথা হচ্ছে যদি কারো নেটওয়াকিং না থাকে যতই মেধাবী হোক, দক্ষ ও পারদর্র্শী হোক চাকুরি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আমাদের অবস্থান এদের সমাজের বাইরে। এদের ভিতরের অনেক তথ্যই আমরা জানি না। এদেশে জেলখানায় সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত আসামিকে উচ্চ পর্যায়ের যোগ সাজশে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই আলাদা হিউম্যান রিসোর্স বিভাগ থাকা সত্ত্বেও জনশক্তি নিয়োগের জন্য রিক্রটমেন্ট এজেন্সিকে এরা ভাড়া করে। কোন যোগ্যতা বলে বা কিসের ভিত্তিতে রিক্রটমেন্ট এজেন্সিগুলো চুক্তির সুযোগ পায় তা জনগনের জানার সুযোগ নেই । এদেশের জনগনের আগ্রহও নেই। শুধু অস্ট্রেলিয়াতে কেন? আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আজ দুর্নীতির ভয়ংকর গর্জন। দুর্নীতির দায়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত ও দুনিয়ার তোলপাড় করা “পানামা পেপার” প্রকাশ করে দিয়েছে পৃথিবীর প্রভাবশালী বিত্তবান দেশ গুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতির খতিয়ান।  প্রভাবশালী রাশান প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টার, চায়নার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি মাধ্যমে অর্জিত অর্থের হিসাব প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি শব্দটি যখন বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হয় তখন সাংস্কৃতিক অর্থে সমাজ বিনষ্ট হওয়াকে নির্দেশ করে। রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিফেন ডি মারস দুর্নীতিকে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অবৈধ ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহারকেই বুঝিয়েছেন। দুর্নীতি একটি অন্যায় কাজ একে প্রশ্রয় দেয়ার বা এর পক্ষে কিছু বলার কোনোই অবকাশ নেই। দুর্নীতি বাংলাদেশ সহ বহু দেশের অন্যতম জাতীয় সমস্যা। দুর্নীতিবাজেরা দেশ ও জনগনের শত্রূ । ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর ৬৮% দেশের জন্য দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা। তাঁরা আরও বলছে, পৃথিবীতে এমন একটি দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে দুর্নীতি নেই।

দুর্নীতিকে আমরা তীর্বভাবে ঘৃনা করি। বিখ্যাত অস্ট্রিয়ান লেখক ও সাংবাদিক কার্ল ক্রস বলেছেন, দুর্নীতি পতিতাবৃত্তির থেকেও জঘন্যতম। পতিতাবৃত্তি একজন ব্যক্তির নৈতিক চরিত্রকে কলুষতি করে কিন্তু দুর্নীতি সমস্ত জাতিকে কলংকিত করে। দুর্নীতি সমালোচনা করতে যেয়ে শুধু জন্মভূমির বদনাম করব, জন্মভূমিকে নিজের দেশ বলতে ঘৃণা করব এই মানসিকতা কেন হবে! নেতিবাচক মন্তব্যের এই শ্রেণির আলোচক শ্রোতাদের কেউ ই এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না, হয়ত বের হতে চায় না। হয়ত পাকিস্তান প্রীতি তাদের বুকের শেকড়ে আটকানো।

বাংলাদেশের বর্তমান সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের তারিফ করে ভারতের  প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, "একাত্তরে পাকিস্তান ভেঙে যে দেশটার জন্ম হল, তারা আজ পাকিস্তানকে ফেলে কোথায় এগিয়ে গেছে। আজ কোথায় বাংলাদেশ, আর কোথায় পাকিস্তান!" ভারতের প্রধান মন্ত্রীর মন্তব্যে এই নেতিবাচক আলোচক-শ্রোতারা চন্দ্রগ্রহনের অস্পষ্ট আলোর বাঁকা চাদের হাসি ঠোটের কোণায় ঝুলিয়ে দেয়। ভারত তো বলবেই ! অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, “বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে ভারতের থেকেও এগিয়ে আছে”। অমর্ত্য সেনের মন্তব্যও এদের কাছে ভূয়া।

জাইঘাম খান একজন পাকিস্তানি সোশ্যাল এনথ্রোপলজিস্ট। কাজ করেন একজন উন্নয়ন পরামর্শক হিসেবে। একই সঙ্গে কলাম লেখেন কয়েকটি পত্রিকায়। বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো-তে তিনি এক পরিচিত মুখ। এক সময় পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় পূর্ণকালীন সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন।"পাকিস্তানের উন্নয়ন যদি ঘটতে চান, সুইডেনকে না দেখে বাংলাদেশের দিকে তাকান। পাকিস্তানকে বাংলাদেশের মতো বানান।" ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েকদিন পর এক টেলিভিশন টক শোতে তাকে এই পরামর্শ দিয়েছিলেন জাইঘাম খান।

পাকিস্তানি টেলিভিশন পিটিভিতে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেছিলেন, “বর্তমানে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ সর্ব ক্ষেত্রেই এগিয়ে গিয়েছে। কারণ বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে”।

খোদ পাকিস্তানে যখন বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করা হয়। এরা চুপ করে থাকে। ভাবখানা এমন কোনো সংবাদ এরা কখনও চোখেই দেখেনি। পাকিস্তানের আমাদের কোনো কিছুই প্রশংসা করার কথা না। বরং উল্টোটাই করেছে অতীতে।। শত্রূ কে প্রশংসার প্রয়োজন কী! সেই পাকিস্তানের স্বয়ং প্রধান মন্ত্রী যখন বলে তারা বাংলাদেশের অনুসারী হতে চায়, বাংলাদেশের কথা যখন প্রশংসিত হয়, তখনও এই শ্রেণির মানুষের অনেকে বলে সব বানোয়াট। এরা আজও বিশ্বাস করেনা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রসংগে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন "মানুষ মানুষের জন্য। ফলে আমরা তাদের (রোহিঙ্গা) বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে এই চরম দুঃসময়ে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাত লাখ লোককেও খাওয়াতে পারব।" তার উক্তি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে উদ্ধৃত হয়, এ সংক্রান্ত কোনো শব্দ বের হয় না এদের কোনো আড্ডায়,  এদের কারো মুখে।

যে দেশের মানুষের ভিতর অনেক মানুষই বিশ্বাস করে কুখ্যাত রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী কে চাদে দেখা গেছে, সে দেশে ধর্মীয় উন্মাদনায় অবিশ্বাস্য শিরক করার মতো ধারণায় বিশ্বাসী মানুষের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জঙ্গীবাদ আর ধর্মীয় উন্মাদনা দমন করা যে কতো বড় দুরহ আর চ্যালেঞ্জিং বিষয়, আমরা দেশের মানুষেরা ছাড়া, বহির্জগতের কোনো মানুষের এতটুকু আচ করারও ক্ষমতা নেই।

আমাদের প্রাণপ্রিয় জন্মভূমির মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, জনগনের নেত্রী আপনি সন্ত্রাস দমনে বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। আপনি আপনার প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, বহির্বিশ্বের মোড়লদের চোখ রাঙানী উপেক্ষা করে কুখ্যাত সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্নার শান্তি এনে দিয়েছেন। শহীদ আত্মাদের দোয়া আপনার উপর বর্ষিত হচ্ছে। একটা তলাহীন ঝুড়ির দেশকে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে এনে দিয়েছেন। আপনি আরও একটা বার সবকিছু উপেক্ষা করে একটা বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এদেশের মানুষের, আগামীদিনের প্রজন্মের চলার পথ দুষনমুক্ত করে দেন ।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত 'লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা' অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হবে।'

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী একমাত্র আপনি ই পারেন বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্তদেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পৌছে দিতে । দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার পদক্ষেপ নিন, সারা দেশের মানুষ আপনার পাশে এসে দাড়াবে। সারাদেশের মানুষ তাদের হদয়ে আপনাকে গেথে নেবে আজীবন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, আপনার খুব বেশি প্রচারের প্রয়োজন নেই। আপনি ইতিমধ্যেই জনগণের প্রধান মন্ত্রী হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আপনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে কে যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই অঙ্গীকারকে সবার সামনে তুলে ধরুন। জয় আপনার সুনিশ্চিত। জনগন আপনাকে বুকে গেঁথে নিয়েছে আরও গভীরে বুকের পাঁজরে গেঁথে নেবে। জনগন সুস্থ পরিবেশ চায়, জনগন অনেক ক্ষেত্রেই সীমাহীন দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শুধু আপনার মতো সাহসী, অকুতোভয় মমতাময়ী প্রধান মন্ত্রীই পারেন সাধারণ, অসহায় জনগনকে, প্রিয় জন্মভূমিকে দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে, জন্মভুমিকে বিশ্ব দরবারে মাথা আরও উচু করে দাড়াতে। শুধু পাকিস্তান কেন, উন্নতবিশ্ব যারা আজ দুর্নীতির শংঙ্কায় শংঙ্কিত তারাও এসে বাংলাদেশের সামনে হ্যাটস অফ সেল্যুট দিয়ে বলবে সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস বিশ্বনেত্রী, বঙ্গ কন্যা শেখ হাসিনা!!


লেকচারার, মেলবোর্ন পলিটেকনিক, লাট্রোব ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন

সিনিয়র লেকচারার (Adjunct), কার্টিন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া।

Email: sadiqulawal@melbournepolytechnic.edu.au

 

বিঃ দ্রঃ প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলাকথার এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT