Main Menu

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ - মহাজোটের মহোৎসব

মোঃ শফিকুল আলম: আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলাফল অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। দেশী-বিদেশী সকল জরিপে মহাজোট সমৃদ্ধির বাংলাদেশের পক্ষে একচেটিয়া জনসমর্থনলাভে সমর্থ্য হয়েছে তা’ আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঐক্যফ্রন্ট প্রায় প্রতিটি আসনে জামানত হারাবে। আমেরিকায় বসবাসকারী আমার অত্যন্ত স্নেহধন্য ছোটো ভাই এফবিতে নড়াইল-২ আসনে বিপুল ভোটে মাশরাফির জয় হবে এবং ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ সকল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে পোষ্ট দিলে আমার সেখানে কমেন্ট ছিলো যে মহাজোট প্রার্থীরা প্রায় সকল আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে জিতবেন। সেক্ষেত্রে মাশরাফিকে এই নির্বাচনে তেমন কোনো ক্রেডিট দেয়া যাচ্ছেনা।

 

নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হবে। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী, সিভিল প্রশাসন এখন পাল্লা দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো পেশাদারিত্ব অর্জন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনাব নুরুল হুদার মতো সাবেক দক্ষ সিভিল প্রশাসক সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে তাঁর পেশাদারিত্বের অভিজ্ঞতায় বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ (ব্যালোট বাক্সের মতো স্বচ্ছ), নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন। তাঁর সহায়তায় থাকবেন অত্যন্ত পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকার কমিশনার জনাব আসাদুজ্জামান মিয়া। ( যিনি এখন অনেকটাই আইজির রোল প্লে করছেন), জনাব মনিরুল ইসলাম (ভূমিকায় নেক্সট্ টু আসাদুজ্জামান মিয়া) এবং রাবের ডিজি জনাব বেনজীর আহম্মেদ। নির্বাচনী কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে পেশাদার পুলিশ বাহিনী সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ করতে কমিশনের অফিসারদের সহযোগিতা করবেন রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আর বাহিরে ঐক্যফ্রন্টের দূর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যগন পেশাদার সিভিল কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে তা’ রুখে দিবেন।

 

নির্বাচনের অনিন্দসুন্দর পরিবেশ দেখানোর জন্য সারাদেশে বেসরকারী (অত্যন্ত নিরপেক্ষ) টিভি চ্যানেলগুলোর পেশাদার সংবাদকর্মী ক্যামেরাসহ লাইভ ধারাবিবরনী প্রচার করবেন। শীতের সকালে কর্তব্যপরায়ন নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইনে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষমান দেখা যাবে। ৭১ টেলিভিশনে দক্ষ এবং পেশাদার উপস্থাপিকা ফারজানা রূপা বা মিথিলা ফারজানা সাংবাদিক নেতা জনাব বুলবুলদের ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশ নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার করতে থাকবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিগন লাইভে সংযুক্ত হবেন। কোথাও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাবেনা। ঐক্যফ্রন্টের কোনো নেতা-কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবেনা ভোটের মাঠে। এতোদিন নির্বাচনী প্রচারেই তো কেউ ছিলোনা। সবাই অনেকটা নীরবে মহাজোটের সমর্থনে চলে গেছে। অনেক প্রার্থী প্রচারপত্র ছাপাননি বা ছাপালেও প্রচারের লোক ছিলোনা। তাদের অনেকেই দূর্বৃত্তপনার জন্য জেলে রয়েছেন বা নীরবে মহাজোটের সমৃদ্ধির বাংলাদেশ কর্মসূচীতে সমর্থন দিয়েছেন। সেকারনেই বিভিন্ন জায়গায় ঐক্যফ্রন্টের দু’একজন প্রার্থী বিচ্ছিন্নভাবে প্রচারের চেষ্টা করতে গেলে তাদের পূর্ববর্তী সমর্থকরা তাদেরকে ফিজিক্যাললি এ্যাসল্ট করেছে। যদিও তারা দায় স্বাধীন গনমাধ্যমে উপস্থিত হয়ে বা বিবৃতি দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি তথা মহাজোটের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করেছেন। যা’হোক সকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে পেশাদার পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে কাজ করে দক্ষ পুলিশ অফিসার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে আগামীকাল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিবেন। আমি সত্যিই আনন্দে শিহরিত হচ্ছি।

 

নির্বাচনের মাত্র ২/৩ দিন পূর্বে দেশের আদালতে কোনো ফাঁকে নিয়োগ পাওয়া রাজাকার বিচারকের বেন্চ জামাতের ২৫ জন প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনেকটা ছন্দ পতন ঘটেছে। আদালতে রাজাকার ড: কামাল হোসেনের প্রেতাত্মা ভর করেছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জাতি জানতে পারলো ড: কামাল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেননা। কোনো দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুসহ, পেশাদার সাংবাদিক এই তথ্যটি গত ৪৭ বছরে জাতিকে জানাননি বা জানতেননা। বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ গানের গীতিকার জনাব গাফ্ফার চৌধুরী নাকি বহুবার শেখ হাসিনাকে জানানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এতো বড় একজন জঘন্যতম রাজাকার কিভাবে আমাদের দেশের দক্ষ, পেশাদার সাংবাদিক ইকবাহার চৌধুরী, আবুল কালাম আযাদ, বুলবুল বা শ্যামল দত্তদের গবেষনা ভিত্তিক সাংবাদিকতার বাইরে ছিলেন? কি অবাক কাণ্ড! এই জঘন্য রাজাকারকে না জেনে বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্র এবং আইনমন্ত্রী করলেন? শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন? শেখ হাসিনা তাকে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করেছিলেন? যা’হোক দেরীতে হলেও আবিষ্কৃত হয়েছেন। বর্তমানে ফারজানা রূপার ইনভেস্টগেটিভ সাংবাদিকতায় সকল তথ্য অবশ্যই বের হয়ে আসবে। আমরা অপেক্ষায় থাকবো ড: কামালদের মতো রাজাকারদের আগামী সরকার যেনো যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনায়ন করেন। তা’হলে জাতি এদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং অশতিপর বৃদ্ধ দেশপ্রেমিক সাংবাদিক জনাব গাফ্ফার চৌধুরী অন্তত: শান্তিতে শেষ নি:শ্বাস নিতে পারবেন।

 

এই নির্বাচনটি বহুদিক থেকে অবস্মরনীয় হয়ে থাকবে। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত না হলে আমরা জানতামনা ড: কামাল এবং কাদের সিদ্দিকী রাজাকার। আমার ধারনা সরি এখন আর ধারনা নয় সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী মহাজোট ২৫০টির ওপরে আসন পাবে। আমার ধারনা সর্বাধিক সংখ্যক আসনে ঐক্যফ্রন্টের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেদিক থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনা সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকবেন। সমগ্র বিশ্বে যেমন গুটিকয়েক নেতৃত্বের কাতারে তাঁর অবস্থান তেমনি বাংলাদেশে হবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা।

 

মহাজোটের নেতা-কর্মীরা আগামীকাল বরং মহাবিজয় উজ্জ্বাপনের প্রস্তুতি নিতে পারেন। ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রনের জন্য আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পেশাদার পুলিশ বাহিনী, দক্ষ সিভিল প্রশাসন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন রয়েছেন। ব্যাপক বিজয়োল্লাস হবে। সকল পেশার, সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষ আপনাদের সাথে রয়েছে তাদেরকে আনন্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করুন। ড: কামালদের মতো রাজাকারদের বিচারের দাবী তুলুন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে শুধুই উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির মহা সড়কই শুধু নয় মটর ওয়েতে তুলে দিন যেখানে কোনো সিগনাল থাকবেনা, থামতে হবেনা। চলতে থাকবে, শুধুই গতীমান থাকবে। এই চাকা কেউ থামাতে পারবেনা। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ড: কামাল নিপাত যাক্!

 

 

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT