Main Menu

যে প্রভাবকসমূহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে

মোঃ শফিকুল আলম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ - নির্বাচনী পরিবেশ দৃশ্যমান, নির্বাচনী পরিবেশ অদৃশ্যমান এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে ( শেষ মুহূর্তে) যে প্রভাবকসমূহ।

 

নির্বাচনের অংশীদার সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে শেষাবধি নিশ্চিত অংশগ্রহন করছে। প্রশ্ন উঠেছে অন্যতম এবং প্রধান অংশীদার জনগন কতটা অংশগ্রহন করবে। জনগনের ক্ষুদ্র অংশ রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠক এবং কর্মীদের প্রতিক্রিয়া (ইতিবাচক/নেতিবাচক) দৃশ্যমান। বৃহদাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠা রয়েছে। বৃহদাংশের প্রতিক্রিয়া জানতে শেষ দিন অর্থাৎ ভোট অনুষ্ঠানের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই প্রতিক্রিয়া যেহেতু তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সাথে জড়িত সেহেতু আজ ২৪ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী মাঠে দৃশ্যমান হওয়ার পর একটু একটু করে প্রকাশমান হবে।

 

অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দু’পক্ষের মধ্যে সরকারে থাকা পক্ষ প্রথম থেকেই অনেকটা একতরফা মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। প্রধান বিরোধী পক্ষ মিডিয়ায় যতটা সরব রয়েছেন মাঠে ততটা নন। নানা মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িয়ে থাকা কর্মী-সমর্থকদের পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিদিন এবং তা’ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কেউ নীতিগতভাবেও বিরত রাখার কথা বলতে পারবেনা। কারন, টেকনিক্যাললি বিষয়টি আইনগত। তাই বিপোধীপক্ষের ওপর সরকারী পক্ষের একটি সুবিধাজনক অবস্থা তৈরী হয়ে রয়েছে এবং থাকবে। এক্ষেত্রে বিরোধীপক্ষের যেহেতু প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারনা একেবারেই অপ্রতুল সেহেতু এটি সরকারী পক্ষের জন্য বিরোধী পক্ষের সমর্থনের মাত্রা নিরূপণে একটি অসুবিধাজনক পরিস্থিতিও বটে। এমনও তো হতে পারে (সম্পূর্ণ অনুমান) নির্বাচনের দিন একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনে সাধারন মানুষ ব্যাপক হারে উপস্থিত হয়ে সরকারে থাকা পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কারন ছাড়াই (incumbency factor) শুধু মাত্র টানা দশ বছর ক্ষমতায় ছিলো সেই অপরাধে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিরোধীপক্ষকে বিজয়ী করলো! সরকারী পক্ষ আমার বিবেচনায় বিরোধী পক্ষের শক্তিমত্তা বোঝার স্বার্থে বিরোধী পক্ষকে মাঠে থাকার অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া উচিত ছিলো। পুলিশ এবং প্রশাসন নিজেদের পিঠ্ বাঁচানোর জন্য বিরোধী পক্ষকে মাঠছাড়া করছেন এ বাস্তবতা অস্বীকার করে লাভ নেই। পুলিশ এবং প্রশাসনের নগ্ন দলবাজীতে সরকার পক্ষ অনেকটা তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে। নির্বাচনের দিনের বাস্তবতা যদি এমন হয় পুলিশ এবং প্রশাসন সরকার পক্ষকে কোনো আনডিউ (অবশ্য প্রত্যাশিত) সুবিধা দিতে পারলোনা, তখন কি হবে? সবই অনুমান। তবে আমার কথা হচ্ছে যে সরকারটি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে সংযুক্ত করলো সেই সরকারটি দেশটিকে গনতন্ত্র এবং সুশাসনের মহাসড়কে সংযুক্ত করতে ততটাই ব্যর্থ হলো কেনো? সরকারে ফিরে আসতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কেনো তৈরী হলো?

 

নির্বাচনে তরুন ভোটারগণ কতটা প্রভাবকের কাজ করবে? কোন্ পক্ষে তাদের সমর্থন এবং কেনো? অনেকেরই বিশেষ করে সরকার সমর্থক বিশ্লেষকগনের মতে এই প্রজন্ম অনেক তথ্য-সমৃদ্ধ, প্রজ্ঞাবান এবং সঠিক মাত্রায় বিবেচক। এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসজ্ঞাত। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের অতীত কর্মকান্ড বিবেচনায় নিয়ে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট জোটকে ভোট দিবেনা। বিরোধী পক্ষের সমর্থক বিশ্লেষকগনের সংখ্যা সীমিত। বিশ্লষনের সময়ে সরকার সমর্থকদের সামান্য বিরোধীতার মুখে মিন মিন করে বলেন, নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী এবং স্মার্ট কিন্তু বর্তমান সময়টা বিশ্লেষন করে ভোট দিবে। সেক্ষেত্রে সরকারের দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যর্থতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, বিরোধী পক্ষের ওপর অসহনশীল আচরন, আইন প্রয়োগে অন্যায্যতা তৈরী ইত্যাদি বিবেচনা করবে এবং সরকারের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার যাদের পরিবার যে রাজনীতির সমর্থক তাদের সন্তানেরা সেই রাজনীতির সমর্থন অনেকটা অন্ধভাবেই করে থাকে। সুতরাং নীতি এবং আদর্শের ভিত্তিতে তরুনদের ভোট মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির দিকে ঝুঁকে যাওয়ার ব্যাপারটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটবেনা বলেও এই বিশ্লেষকগন মনে করেন। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মধ্যে যেহেতু অনেক ক্ষেত্রে আপষকামিতা রয়েছে সেহেতু এই প্রজন্ম কোনো পক্ষকে আদর্শের ভিত্তিতে বিচার করবেনা বলে তাঁরা মনে করেন।

 

আজ থেকে সেনাবাহিনীর মাঠে উপস্থিতি সবচাইতে বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। তাদের উপস্থিতি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহসী করবে। অর্থাৎ নির্বাচনের মূল অংশীদার জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত হবে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের মাঠে উপস্থিতি বাড়বে। তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরনে কাজ করবে। সরকারপক্ষ ভোটারদের দ্বারে বেশী বেশী উপস্থিত হবে। জনগন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আস্থা ফিরে পাবে। মাঠের অবস্থা যত স্বাভাবিক হবে নির্বাচন কমিশন তত নির্বাচন সুষ্ঠু করার দিকে নজর দিতে পারবেন। তাঁরাও নিজেদেরকে শক্তিশালী ভাবতে এবং প্রকাশ করতে শুরু করবেন।

 

মূলধারার গনমাধ্যমে কিছুটা স্ব-আরোপিত সেন্সরশীপ লক্ষ্যনীয়। অধিকাংশের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। সময়োচিত ভূমিকা না থাকলে মানুষের বিশ্বাস অনেকটা সামাজিক মাধ্যমের ওপর চলে যাবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচার মাধ্যম হিসেবে ফেইসবুক, ইউটিউব বহুল ব্যবহৃত এবং সমাজে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। মূলধারার গনমাধ্যম এবং যারা এই মাধ্যমের ব্যবহার জানেননা তারা সমালোচনার চেষ্টা করছেননা। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছেনা।

 

নির্বাচনে দেশী এবং বিদেশী পর্যবেক্ষকদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। এবছর বিদেশী পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয় নাই। দেশী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সোংবাদিকদের ওপর নির্বাচনের দিন রিপোর্ট করা এবং লাইভ প্রচারের ব্যাপারেও বিধিবিধান রয়েছে। অবশ্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিনে পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থেই নাকি এধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। নিয়ম-কানুনের ইতিবাচক/নেতিবাচক দিক সব সময়ই থাকে।

 

নির্বাচনের দিন সকল দলের এজেন্ট থাকা এবং ফলাফল গননা পর্যন্ত উপস্থিত থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজাল্ট-শিট নিয়ে বের হয়ে আসা সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠুতা প্রমানিত করবে। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচনে এজেন্টদের একটি আইনগত ভূমিকা থাকবে। সেক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্রে শেষাবধি থাকাটা চ্যালেন্জিং হবে।

 

এখন পর্যন্ত ব্যাপক সংখ্যক ভোটারের মনে সংশয় রয়েছে তারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি-না। তাদের হয়ে কেউ আগেই ভোট দিয়ে দিবে কি-না। নির্বাচন কমিশন এবং দলীয় সরকারের জন্য এই সংশয় দূরীকরন আরেকটি চ্যেলেন্জিং ব্যাপার। ভোটাররা যদি দশ বছর পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন তবে তাদের মাঝে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষোভ তৈরী হবে। অদূর ভবিষ্যতে যেকোনো সময়ে তার মাশুল দিতে হবে। শত উন্নয়নের শ্লোগানে তাদের এই ক্ষত মোছা যাবেনা।

 

আসন্ন নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ মানুষ শেখ হাসিনাকে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এবং এই মেয়াদে গনতন্ত্র এবং আইনের শাসনের দৃঢ় ভিত্তি রচনা করতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে যায় বলে দেশী-বিদেশী সবাই মনে করেন। তবে কোনো রকম বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি হলে জনগন স্বাভাবিকভাবে নিবেনা। তাই আতংকিত পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসন, দুর্নীতিবাজ এমপি এবং মন্ত্রীগন নির্বাচনটিকে বিতর্কিত করতে পারে বলে পরিবেশ অনেকটা দৃশ্যমান। শেখ হাসিনার ভিশনারী লীডারশীপ এধরনের স্বার্থান্বেষী মহলের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে প্রতিশ্রুত সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে টানা তৃতীয় বারের জন্য দেশ শাসন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। সাথে সাথে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের অংশগ্রহনে একটি পরিশুদ্ধ গনতন্ত্রের ধারা সূচিত হোক। সকল স্তাবকদের কবর রচনা হোক।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT