Main Menu

এখনও স্মিথ-ওয়ার্নারকে ক্ষমা করেনি অস্ট্রেলীয় জনগণ!

ক্রিকেটের বনেদি দল অস্ট্রেলিয়ার গায়ে স্লেজিংয়ের কালি লেগেছে অনেক আগেই। তবে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি দেশটির ক্রিকেটাঙ্গণের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। বলতে গেলে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে হয় জাতীয় দল। গত এপ্রিলে কেপটাউন টেস্টে ওই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দুই মূল অভিযুক্ত স্টিভেন স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন। সাজা শেষ হতে আরও মাস তিনেকের বেশি বাকী। নির্বাসন কাটিয়ে ফেরার পরেও জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা খুব পরিষ্কার নাও হতে পারে স্টিভ স্মিথদের জন্য।

বল বিকৃতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠে খোদ অজি ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই ঘটনাকে তারা দেশের জন্য অপমানজনক হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর স্মিথ, ওয়ার্নার এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফ্‌টকে নির্বাসিত করেছিল অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিপক্ষে চলতি সিরিজের আগে নির্বাসন তোলার দাবি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সংগঠন। কিন্তু ততাদের কথায় কর্ণপাত করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এত বড় শাস্তির পরেও বল বিকৃতি কেলেঙ্কারির জন্য স্মিথদের ক্ষমা করে দেওয়ার মতো জায়গায় আসেননি অস্ট্রেলীয়রা। বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনায় শোনা যায়, স্মিথদের আবার জাতীয় দলে না ফেরানোর পক্ষেই দেশটির ক্রিকেটপ্রেমীরা। একইসঙ্গে নতুন অধিনায়ক টিম পেইনের নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট জয় দেখে আরও বেশি করে মানুষ বলতে শুরু করেছে যে, মহাতারকাদের জন্য কোনো কিছুই আটকে থাকবে না। 

এর মধ্যেই একটি বিজ্ঞাপনে তিনি বল-বিকৃতির ঘটনার বিষয়ে নিজের যুক্তি দেখিয়ে আরও বিপদে পড়েছেন স্টিভেন স্মিথ। বিজ্ঞাপনে তিনি বলেছেন, 'মানুষ মাত্রই ভুল করে।' নির্বাসনের থাকার সময়টা কতটা কঠিন, সেসবও বলেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। এই বিজ্ঞাপন বাজারে আসার পরে আরও বেশি করে জনমত তার বিপক্ষে চলে গেছে। বিশেষ করে যখন জানাজানি হয়ে গেছে যে, অর্থ নিয়েই এই বিজ্ঞাপন করেছেন তিনি। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দেশের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া এ রকম একটা ভুলকে তিনি কী করে টাকার বিনিময়ে পণ্য করে তুলতে পারেন?

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এমনিতে নানা বিতর্ক রয়েছে। এমন নয় যে, এই প্রথম তাদের ক্রিকেটারদের সততা বা নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠল। ট্রেভর চ্যাপেলের কুখ্যাত আন্ডারআর্ম বোলিং রয়েছে। কেরি প্যাকারের বিতর্কিত সিরিজ রয়েছে। কিন্তু কখনও দেশ জুড়ে কারও বিরুদ্ধে এতটা বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়ে যায়নি, যা স্মিথ-ওয়ার্নারদের নিয়ে হয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আসলে টিভিতে খুব স্পষ্টভাবে এই টেম্পারিংয়ের ঘটনা দেখা গেছে; তাই স্মিথ-ওয়ার্নাদের ওপর দেশবাসীর ক্ষোভ অনেক বেশি।

তবে জানা গেছে, স্মিথের ভবিষ্যত যেমন তেমন; ওয়ার্নারের ভাগ্যে দূর্গতি একটু বেশিই আছে। স্মিথের সংবাদ সম্মেলনে তার বাবার উপস্থিতি, দোষ স্বীকার, কান্না-সব মিলিয়ে তার প্রতি কিছুটা হলেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্নারকে নিয়ে এমনিতই মানুষের প্রতিক্রিয়া খুব খারাপ। সবাই মনে করে, ওয়ার্নারই দলের সকল অনৈতিক কাজের পাণ্ডা। তার নেতৃত্বেই ব্যানক্রফট সিরিশ কাগজ দিয়ে বল ঘষেছিলেন। তাছাড়া ড্রেসিংরুমেও তার পরিচিতি 'ব্যাড বয়' হিসেবে। তাই ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বেড়েই চলছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT