Main Menu

আমি তার নাম দিয়েছিলাম রমা রায়

শেষ পর্ব

নাটকে যেমন হয় জীবন তেমন নয়

রমা রায় পারেনি তা বুঝতে

পাগলা গারদে তার কেটে গেছে শেষ দিন

হারানো সে চেনা মুখ খুঁজতে

 

এর আগের পর্ব লিখেছিলাম সেই জুলাই মাসে। তখন যদি শেষ নামাতাম হয়তো অন্য রকম হতো। কিন্তু এই কয়েক মাস পরে এসে মনে হচ্ছে, আমার আর রমা রায় এর মাঝে খুব বেশি একটা তফাৎ নেই। ইনফ্যাক্ট খুব কম সংখ্যক মেয়ের মাঝেই পার্থক্য আছে। আরো এগুনোর আগে রমা রায়টা আসলে কে, আসলেই তার বাস্তব কোন অস্তিত্ব আছে কী না সে সম্পর্কে যাদের কৌতুহল ছিল তাদেরটা একটু মিটিয়ে নেই।

 

রমা রায় এর এখনকার পরিস্থিতি বিচার করলে আমার মনে হয় প্রতিটি শিক্ষিত মেয়েই এক একজন রমা রায়। যারা সমাজ, সংসার, মা বাবার কথা চিন্তা করে দিনের পর দিন স্বামীর সংসারে কখনো শারিরিক ভাবে, কখনো মানসিক ভাবে নির্যাতিত হয়েও মুখ বুজে সব সহ্য করছে। কেউ ঘরের কোনে পড়ে থাকছে ডিপ্রেশনের রোগী হয়ে, কেউ বা সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছে। এই যে আমি রমা রায়কে নিয়ে লিখছি, আমিও যদি খুব বেশি ভালো থাকতাম তাহলে ওকে নিয়ে লেখার বিষয়টাও কী আমার মাথায় আসতো?

 

আর প্রথম জীবনের রমা রায় হয়তো সত্যিই ছিল আমার সঙ্গি হিসেবে, অথবা হতে পারে আমার মনের মতো কোন চরিত্র যাকে আমি আমার বন্ধুর চলার পথে সঙ্গি হিসেবে কল্পনা হিসেবে পেয়ে স্বস্তি পেতে চেয়েছি। তবে বিষয়টা যাই হোক, রমা রায় কিন্তু বাস্তব হয়ে ওঠে তার পরিণতিতে।

 

খুব বেশি লেখাপড়া করতে না পারা মা এরা সাধারণতঃ এই বলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখায় যে তোর জীবনটা যেন আমার মতো না হয়। লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হবি, নিজের মতো নিজে থাকবি। কিন্তু কোন মা কী তার মেয়েকে এইটা বলে যে যদি তা নাও পারিস, আমি তো আছি তোর জন্য। চলে আসিস আমার কাছে। তোকে বুকে আগলে রাখার জন্য আমার বুকটা পেতে রাখবো আমৃত্যু। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বিয়ে হলো মানে মেয়ের প্রতি মা এর উপদেশ বদলে গেলো, আমি তো কতো কিছু মেয়ে নিয়ে তোর বাবার সংসার করেছি। কই, ছেড়ে যাওয়ার কথা তো মাথায় আনিনি? তোকে তো আরো লেখেপড়া শিখিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছি। জীবনে মানিয়ে চলতে শিখতে হয়।

 

মেয়েরা নাকি সব বাবাদের কাছে তাদের রাজকন্যার মতো। বিয়ের পর সেই রাজকন্যাও যে কোথায় হারিয়ে যায়! অনেক দুরের হয়ে যায়! আমি ভালো নেই- কথাগুলো বাবার কানে আর পৌছে না। তখন বাবার কাছে মেয়ের ভালো থাকার চেয়ে, তার আর্তচীৎকারের চেয়ে সমাজে তার অবস্থান, মান সম্মান বড় হয়ে দাঁড়ায়। “তোরা কে যাস রে, ভাটির গাং বাইয়া, আমার ভাই ধনরে কইও নাইওর নিতে বইলা’- বোনের এই আকুতি ভাই এর কানে পৌছে না। বোন এসেও সেই ছোট বেলার মতো বলে না, আমি তো আছি রে তোর পাশে। তুই এবার পারিস নি তো কী হয়েছে? সবাই কী সব কিছু পারে? চলে আয় আমার কাছে। আবারও উঠে দাঁড়াতে আমিই না হয় তোকে সাহায্য করবো। অথবা সবার কথা চিন্তা করে রমা রায়ই কাউকে কিছু বলতে পারে না।

 

আর ওই যে, সমাজে ফেমসিকার, -- ছেঁড়া কী সব বাদীরা আছে না? ওরাও কী সত্যিকার ভাবে কখনো কোন নারীর জন্য কিছু করেছে? ওরা তো সেই কাজগুলোই করে, যে গুলো করলে মানুষের কাছ থেকে বাহবা পাওয়া যায়, হাততালি জোটে।

 

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ আসলেই একা। তখন একদিন আমি কতো দৃঢ় চিত্তের ছিলাম, তখন আর মনে আসে না। কোথাও কেউ নেই ভেবে ঘরের কোনটাকেই তখন অনেক বেশি আপন মনে হয়। মনে হয় এই যে মার খেয়ে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে রাত পার করছি, এই জীবনটাও আমার। কথায় কথায় গলা টিপে মেয়ে ফেলার হুমকী খাচ্ছি, কিন্তু দিন শেসে এসি চালিয়ে ঠান্ডা বাতাসে রাতে ঘুমুচ্ছি সেটাই বা কম কিসে? এইসব ভাবতে ভাবতেই অধিকাংশ নারীরা আমার রমা রায় এর মতো হয়ে যায়। এমন কী, আমিও।

 

মাঝে মাঝেই চীৎকার করে বলতে ইচ্ছা হয়, জীবনে সবাই সব কিছু পারে না। যারা পারে না, তাদের পাশে এসে তার মা দাঁড়িয়ে বলুক, আমি যেমন পেটে ধরে কোলে করে বড় করে তুলেছি তোকে, তেমনি আমৃত্যু তোকে বুকে আগলে রাখবো রে মা। মানুষের মর্যাদায় বাঁচতে না পারলে চলে আয় আমার কাছে। বাবা এসে বলুক, সমাজ, মান সম্মানের চেয়ে আমার রাজকন্যার দাম যে অনেক বেশি রে পাগলী। আমি তো আছি। আমার এই হাত ধরেই না আবার সোজা হয়ে দাঁড়াবি। ভায়েরা বোনেরা কিছু না পারলেও অন্ততঃ মনোবলটুকু দিক।

 

আর ওই যে ফেমসিকার বাদীরা, ওরা শুধু নিজেদের সুনামের জন্য কাজ না করে গড়ে তুলুক বড় বড় সেল্টার। সাহস দিক এই বলে যে পরিবারের কেউ তোমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি তাতে কী হয়েছে? আমরা তোমাদের জন্যই জীবনটা উতসর্গ করেছি। তোমাদের লড়াইটা তোমরাই লড়ো। সাহস দেয়ার জন্য আমরা আছি তোমাদের পাশে।

 

তবেই না নাটকে যেমন হয় জীবনও তেমন হবে। মানুষের মতো বেঁচে থাকবে, আমি যার নাম দিয়েছিলাম রমা রায়, তাদের মতো মেয়েরা। এমন কী হয়তো আমিও।। শেষ।

নাটকে যেমন হয় জীবন তেমন নয়

রমা রায় পারেনি তা বুঝতে

পাগলা গারদে তার কেটে গেছে শেষ দিন

হারানো সে চেনা মুখ খুঁজতে

 

এর আগের পর্ব লিখেছিলাম সেই জুলাই মাসে। তখন যদি শেষ নামাতাম হয়তো অন্য রকম হতো। কিন্তু এই কয়েক মাস পরে এসে মনে হচ্ছে, আমার আর রমা রায় এর মাঝে খুব বেশি একটা তফাৎ নেই। ইনফ্যাক্ট খুব কম সংখ্যক মেয়ের মাঝেই পার্থক্য আছে। আরো এগুনোর আগে রমা রায়টা আসলে কে, আসলেই তার বাস্তব কোন অস্তিত্ব আছে কী না সে সম্পর্কে যাদের কৌতুহল ছিল তাদেরটা একটু মিটিয়ে নেই।

 

রমা রায় এর এখনকার পরিস্থিতি বিচার করলে আমার মনে হয় প্রতিটি শিক্ষিত মেয়েই এক একজন রমা রায়। যারা সমাজ, সংসার, মা বাবার কথা চিন্তা করে দিনের পর দিন স্বামীর সংসারে কখনো শারিরিক ভাবে, কখনো মানসিক ভাবে নির্যাতিত হয়েও মুখ বুজে সব সহ্য করছে। কেউ ঘরের কোনে পড়ে থাকছে ডিপ্রেশনের রোগী হয়ে, কেউ বা সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছে। এই যে আমি রমা রায়কে নিয়ে লিখছি, আমিও যদি খুব বেশি ভালো থাকতাম তাহলে ওকে নিয়ে লেখার বিষয়টাও কী আমার মাথায় আসতো?

 

আর প্রথম জীবনের রমা রায় হয়তো সত্যিই ছিল আমার সঙ্গি হিসেবে, অথবা হতে পারে আমার মনের মতো কোন চরিত্র যাকে আমি আমার বন্ধুর চলার পথে সঙ্গি হিসেবে কল্পনা হিসেবে পেয়ে স্বস্তি পেতে চেয়েছি। তবে বিষয়টা যাই হোক, রমা রায় কিন্তু বাস্তব হয়ে ওঠে তার পরিণতিতে।

 

খুব বেশি লেখাপড়া করতে না পারা মা এরা সাধারণতঃ এই বলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখায় যে তোর জীবনটা যেন আমার মতো না হয়। লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হবি, নিজের মতো নিজে থাকবি। কিন্তু কোন মা কী তার মেয়েকে এইটা বলে যে যদি তা নাও পারিস, আমি তো আছি তোর জন্য। চলে আসিস আমার কাছে। তোকে বুকে আগলে রাখার জন্য আমার বুকটা পেতে রাখবো আমৃত্যু। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বিয়ে হলো মানে মেয়ের প্রতি মা এর উপদেশ বদলে গেলো, আমি তো কতো কিছু মেয়ে নিয়ে তোর বাবার সংসার করেছি। কই, ছেড়ে যাওয়ার কথা তো মাথায় আনিনি? তোকে তো আরো লেখেপড়া শিখিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছি। জীবনে মানিয়ে চলতে শিখতে হয়।

 

মেয়েরা নাকি সব বাবাদের কাছে তাদের রাজকন্যার মতো। বিয়ের পর সেই রাজকন্যাও যে কোথায় হারিয়ে যায়! অনেক দুরের হয়ে যায়! আমি ভালো নেই- কথাগুলো বাবার কানে আর পৌছে না। তখন বাবার কাছে মেয়ের ভালো থাকার চেয়ে, তার আর্তচীৎকারের চেয়ে সমাজে তার অবস্থান, মান সম্মান বড় হয়ে দাঁড়ায়। “তোরা কে যাস রে, ভাটির গাং বাইয়া, আমার ভাই ধনরে কইও নাইওর নিতে বইলা’- বোনের এই আকুতি ভাই এর কানে পৌছে না। বোন এসেও সেই ছোট বেলার মতো বলে না, আমি তো আছি রে তোর পাশে। তুই এবার পারিস নি তো কী হয়েছে? সবাই কী সব কিছু পারে? চলে আয় আমার কাছে। আবারও উঠে দাঁড়াতে আমিই না হয় তোকে সাহায্য করবো। অথবা সবার কথা চিন্তা করে রমা রায়ই কাউকে কিছু বলতে পারে না।

 

আর ওই যে, সমাজে ফেমসিকার, -- ছেঁড়া কী সব বাদীরা আছে না? ওরাও কী সত্যিকার ভাবে কখনো কোন নারীর জন্য কিছু করেছে? ওরা তো সেই কাজগুলোই করে, যে গুলো করলে মানুষের কাছ থেকে বাহবা পাওয়া যায়, হাততালি জোটে।

 

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ আসলেই একা। তখন একদিন আমি কতো দৃঢ় চিত্তের ছিলাম, তখন আর মনে আসে না। কোথাও কেউ নেই ভেবে ঘরের কোনটাকেই তখন অনেক বেশি আপন মনে হয়। মনে হয় এই যে মার খেয়ে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে রাত পার করছি, এই জীবনটাও আমার। কথায় কথায় গলা টিপে মেয়ে ফেলার হুমকী খাচ্ছি, কিন্তু দিন শেসে এসি চালিয়ে ঠান্ডা বাতাসে রাতে ঘুমুচ্ছি সেটাই বা কম কিসে? এইসব ভাবতে ভাবতেই অধিকাংশ নারীরা আমার রমা রায় এর মতো হয়ে যায়। এমন কী, আমিও।

 

মাঝে মাঝেই চীৎকার করে বলতে ইচ্ছা হয়, জীবনে সবাই সব কিছু পারে না। যারা পারে না, তাদের পাশে এসে তার মা দাঁড়িয়ে বলুক, আমি যেমন পেটে ধরে কোলে করে বড় করে তুলেছি তোকে, তেমনি আমৃত্যু তোকে বুকে আগলে রাখবো রে মা। মানুষের মর্যাদায় বাঁচতে না পারলে চলে আয় আমার কাছে। বাবা এসে বলুক, সমাজ, মান সম্মানের চেয়ে আমার রাজকন্যার দাম যে অনেক বেশি রে পাগলী। আমি তো আছি। আমার এই হাত ধরেই না আবার সোজা হয়ে দাঁড়াবি। ভায়েরা বোনেরা কিছু না পারলেও অন্ততঃ মনোবলটুকু দিক।

 

আর ওই যে ফেমসিকার বাদীরা, ওরা শুধু নিজেদের সুনামের জন্য কাজ না করে গড়ে তুলুক বড় বড় সেল্টার। সাহস দিক এই বলে যে পরিবারের কেউ তোমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি তাতে কী হয়েছে? আমরা তোমাদের জন্যই জীবনটা উতসর্গ করেছি। তোমাদের লড়াইটা তোমরাই লড়ো। সাহস দেয়ার জন্য আমরা আছি তোমাদের পাশে।

 

তবেই না নাটকে যেমন হয় জীবনও তেমন হবে। মানুষের মতো বেঁচে থাকবে, আমি যার নাম দিয়েছিলাম রমা রায়, তাদের মতো মেয়েরা। এমন কী হয়তো আমিও।। শেষ।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT