Main Menu

পৃথিবীতে অক্সিজেন কমছে আশঙ্কাজনক হারে

পৃথিবী থেকে দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন। অক্সিজেন কমার হার এতই বেশি যে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে ওজনে হালকা হয়ে পড়ছে পৃথিবী।

নাসার বিজ্ঞানীরা হিসেব কষে, নানা রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, পৃথিবীর বায়ুম-ল উত্তরোত্তর পাতলা হয়ে আসছে। বাতাসের অক্সিজেন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত হারে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে মহাকাশে।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, বহু কোটি বছর আগে এমন দশাই হয়েছিল আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের।

উদ্বেগ বাড়ছে বলেই ছোটাছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীদের, কেন প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হারে উধাও হয়ে যাচ্ছে শ্বাসের বাতাস, তার কারণ জানতে। কারণ অনুসন্ধানে নরওয়ের উত্তর উপকূল থেকে পাঠানো হয়েছে ‘ভিশনস-২’ সাউন্ডিং রকেট। এটি একটি অভিনব রকেট। যাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাঠানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই ফিরিয়ে আনা যাবে পৃথিবীতে। এই সময়ে নরওয়ের উত্তর উপকূলে আকছারই দেখা যায় অরোরা বোরিয়ালিস। মেরুজ্যোতি। কয়েক লহমায় তারই মধ্যে ঢুকে গিয়ে খবরাখবর নিয়ে ফিরে আসবে ওই সাউন্ডিং রকেট।

তবে শুধু রকেট ছুড়েই তাদের কাজ শেষ করেননি বিজ্ঞানীরা, মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গর্ডার্ড স্পেস সেন্টারের একটি গবেষক দলও পৌঁছে গিয়েছে নরওয়ের উত্তর উপকূলে। কীভাবে বাতাসের অক্সিজেন, আমাদের শ্বাসের বাতাস মহাকাশে দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে, তার ওপর নজর রাখতে। 

নাসার ওই গবেষক দলের অন্যতম সদস্য, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিমাদ্রি সেনগুপ্ত অসলো থেকে বলেছেন, ‘অরোরা বোরিয়ালিসের সৌন্দর্য দেখতে আসিনি আমরা। পৃথিবীর বায়ুম-ল পাতলা হয়ে যাওয়া, শ্বাসের বাতাস অক্সিজেনের মহাকাশে দ্রুত চলে যাওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে অরোরা বোরিয়ালিসের। আমরা সেটাই দেখতে এসেছি।’

পৃথিবীর বায়ুম-ল যে উত্তরোত্তর পাতলা হয়ে আসছে, তার ধারণাটা প্রথম জন্মেছিল, গত শতাব্দীর গোড়ায়। ১৯০৪ সালে এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন স্যার জেমস জিনস। তার ‘দ্য ডাইনামিক্যাল থিয়োরি অব গ্যাসেস’ তাত্ত্বিকভাবে জানিয়েছিল, পৃথিবীর বায়ুম-ল এক দিন আমাদের ছেড়ে মহাকাশে হারিয়ে যাবে। সেই দিন পৃথিবীর আর কোনো বায়ুম-ল থাকবে না। ফলে, বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণটি আর পাবে না এই নীলাভ গ্রহের জীবজগৎ। তবে সেটা হতে সময় লাগবে আরও অন্তত ১০০ কোটি বছর।

কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বায়ুম-লের উত্তরোত্তর পাতলা হয়ে যাওয়ার ঘটনাটা অত ধীরে ঘটছে না। নরওয়ের উত্তর উপকূলে নাসার ‘ভিশনস-২’ মিশনের প্রধান বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডগ রাউল্যান্ড বলেন, ‘প্রতিদিন পৃথিবীর কয়েকশো টন বায়ুম-ল আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে মহাকাশে। তার ফলে, খুব দ্রুত হারে তার ওজন হারিয়ে ফেলছে আমাদের এই গ্রহ। পৃথিবী দ্রুত হালকা হয়ে যাচ্ছে।’

আরও একটি বিষয় খুব চমকে দিয়েছে নাসার বিজ্ঞানীদের। সেটা হলো, পৃথিবীর ধারেকাছে যেখান থেকে সত্যি-সত্যি শুরু হচ্ছে আদত মহাকাশের (স্পেস) ‘সীমানা’, তার আশপাশের এলাকা কার্যত, গিজগিজ করছে অক্সিজেনের আয়নের ভিড়ে। গবেষকরা দেখেছেন, সেই অক্সিজেনের ভিড়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়া অক্সিজেন আয়নের সংখ্যাই বেশি।-ঢাকাটাইমস


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT