Main Menu

জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ - ভোটোৎসব?

মোঃ শফিকুল আলম:সকল সীমাবদ্ধতা এবং আশঙ্কা দূর করে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ সকল দলের অংশগ্রহন এবং দ্বিতীয় ধাপ মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রতীক বরাদ্দ শেষে ১০ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে সার্বজনীন ভোটোৎসব অত্যন্ত উৎসবের আমেজে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জাতি ১৬ ডিসেম্বর একটি অনন্য পরিবেশে জাতির বিজয়ের আরেকটি বার্ষিকী উজ্জ্বাপন করবে। সামনে নির্বাচন থাকায় এবছরের বিজয় দিবস একটি অনন্য মাত্রা যোগ করবে।

 

বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ঈদ, পুজা ইত্যাদি বাঙ্গালী দল-মত, ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে সার্বজনীন পরিমণ্ডলে উজ্জ্বাপন করে থাকে। নির্বাচন কেনো সার্বজনীন উৎসবের এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ হয়ে গেলো - বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন? এই দিনটি প্রতি পাঁচ বছর পর পর নারী-পুরুষ, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্দ, খ্রিস্টান সকলকে দেশের মালিকানার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সকল ভোটার নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষমতাবান মনে করেন। এই দিনটিতে জনগন দেশের রাজা বনে যান। রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকগন এমনকি নারীদের কাছে গিয়ে বলে থাকেন আজকে আপনাদের গৃহ-কর্ম করতে হবেনা। আজকের দিনে মহিলাদের রান্না না করলেও চলবে। সবাই ভোট দিতে চলুন। মানুষ পাঁচ বছরের জন্য তাদের সেবক নির্বাচন করে থাকেন। ক্ষমতা প্রয়োগের এক দিনের আনন্দে পুরো দেশের মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযদ্ধের চেতনা শানিত হয়। তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ সৃষ্টি করতে গিয়ে যাঁরা ১৯৭১ - এ আত্মাহুতি দিলেন তাঁদের গর্বিত চিত্তে উচ্চকিত কন্ঠে স্মরণ করেন।

 

বিজয়ের এই মাসে আমি শুধু বলতে পারলাম ভোটোৎসবের প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপটি অনেকটাই সফলভাবে উৎরে গেলাম। প্রত্যাশা রয়েছে তৃতীয় পর্যায়ে ৩০ ডিসেম্বর যথাযথ উৎসবের মধ্যদিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং ফলাফল ঘোষনান্তে মানুষ প্রকৃতপক্ষেই তাদের কাঙ্খিত প্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের নিজস্ব সরকার দেখতে পাবেন। যে আকাঙ্খা নিয়ে তাঁদের পূর্বপুরুষগন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অকাতরে জীবন বলি দিয়ে একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিস্ঠিত করেছিলেন। তাঁদের মায়েরা তাঁদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ সম্ভ্রম বলি দিয়েছিলেন। তা’ হচ্ছে গনতন্ত্র এবং সুশাসন। আমি শুধু প্রত্যাশার কথা বলতে পারছি কিন্তু প্রাপ্তির ব্যাপারটি নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা।

 

বিজয়ের ৪৭ বছর পরে নির্বাচন এবং ভোটোৎসব একটি সুনির্দিষ্ট এবং মিমাংসিত বিষয় থাকার কথা ছিলো। ১৯৭১ সালের পর জাতি স্বাধীনতা, গনতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ একেবারে স্ফটিকের মতো পরিষ্কার করে বুঝেছিলেন এবং চিনতেন। অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য ৪৭ বছর পরে এখন আর পক্ষ-বিপক্ষ চেনা যায়না। জাতি বিভ্রান্ত। একপক্ষ নিজেদেরকে স্বাধীনতার পক্ষের ধারক এবং বাহক বললেও গনতান্ত্রিক নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। ক্ষমতায় থেকে সামাজিক ন্যায় বিচার বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে আইনকে সম্পূর্ণ নিজেদের ক্ষমতা পাকা-পোক্ত করার জন্য ব্যবহার করেছে। আইনের অপপ্রয়োগ করেছে। দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেবার পরিবর্তে নির্বাচনে পূনরায় মনোনয়ন দিয়ে দেশে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্ত তৈরীর পথ প্রশস্ত করছে। জনগন আর মুক্তযুদ্ধের চেতনার পক্ষে বা বিপক্ষে absolutely কাউকে চিহ্নিত করতে পারছেননা। একারনেই নির্বাচনটি কতটা সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হবে আর কতটা ভোট ডাকাতির উৎসবে পরিনত হবে তা’ কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা।

 

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে দশ বছর ক্ষমতায় থাকা পক্ষটি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও একটি reasonable সময়ের মধ্যে নির্বাচনী manifesto declare করতে পারছেনা বা করছেনা। ক্ষমতার বাইরে থাকা দূর্বল পক্ষটির নির্বাচন কৌশলপত্র অনুসরনের নীতি গ্রহন করেছে। দূর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রপাগাণ্ডা করতে গিয়ে তাদের প্রচারকার্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

স্বাধীনতা বিরোধীচক্র এখন মুক্তিযোদ্ধের আঁচলের নীচে ঢাকা পড়েছে। জনগনের আর ঠেকা নেই যে মুক্তিযোদ্ধাদের আঁচল উন্মোচন করে শকুনের আসল রূপ বেড় করবে। কার স্বার্থে? যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসায় করে দুর্নীতিবাজদের লালন করবেন তাদের স্বার্থে? অন্যায়কারী পক্ষের লোক বিধায় আইন প্রয়োগের বাইরে রাখবেন বলে? অসাম্প্রদায়িকতার শ্লোগান দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আপোষ করবেন বলে?

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ বরাবর সরাসরি অবস্থানে থেকেছে। এই পক্ষে ড: কামাল হোসেনদের যোগদান জনগনকে অধিক মাত্রায় বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছে। আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী অংশ। ক্ষমতা এবং নির্বাচনী কৌশলের কারনে তারাও এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নির্ভেজাল অংশ নয়। তা’ছাড়া আওয়ামীলীগ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে গনতন্ত্রবিরোধী আচরনে প্রতিপক্ষ দমনে অসাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আপোষ করেছে এবং আইনকে প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করেছে। সে কারনেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আওয়ামীলীগ ব্যর্থ হয়েছে যা’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। সে কারনে আসন্ন নির্বাচনে জনগন তাদের ইচ্ছে মতো ভোট প্রদান করবে এবং তা’ এমনকি উন্নয়নের বিরুদ্ধেও যেতে পারে।

 

পরিস্থিতি অনুমান করতে পেরে অধিকাংশ বুদ্ধিজীবিগন এখনও দূর্বল কন্ঠে আওয়ামীলীগের পূনরায় ক্ষমতায়নের পক্ষে বলছেন। আওয়ামীলীগ যেহেতু অনেকটা অনুমান করতে পেরেছে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে গনেশ উল্টে যেতে পারে সেহেতু আসন্ন নির্বাচনটি অংশগ্রহনমূলক হলেও ভিন্ন পথে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনটি উৎসবের পরিবর্তে বিয়েগান্তক ঘটনায় শেষ হতে পারে। আবার এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো সম্পূর্ণ অবাধ এবং নিরপেক্ষ হতে পারে। নির্বাচনটি সুষ্ঠু হওয়া না হওয়ার সম্ভাবনা এখন ফিফটি ফিফটি।

 

সকালের অবস্থা দেখে অবশ্য সমস্ত দিন কেমন কাটবে তা’ অনুমান করা যায়। নির্বাচনী প্রচারনার প্রথম দিনেই আক্রমন এবং প্রতিআক্রমনে মানুষ খুনের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনাও নিত্য দিনের ঘটনায় গড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশন প্রথম রাতে বিড়াল মারতে ব্যর্থ হয়েছে। দূর্বল নির্বাচন কমিশন ক্ষমতার দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচনটি সুষ্ঠু হওয়া বিরোধী পক্ষের থেকে সরকার পক্ষের জন্য জরুরী। কারন নির্বাচনটি আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে হচ্ছে এবং তা’ গনতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন পৃথিবীর গনতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল। সরকার যদি উদাহরন সৃস্টি করতে না পারে যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তা’হলে ব্যর্থতার পুরোটাই তাদের হবে। ইতিহাসের জঘন্যতম জায়গায় তাদের অবস্থান চলে যাবে।

 

সকল সম্ভাবনার, ব্যাখ্যা বিশ্লেষন মিথ্যা প্রমানিত করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনটি একটি সার্বজনীন ভোটের উত্সবে পরিনত হোক। স্বাধীনতা এবং গনতন্ত্রকামী মানুষের বিজয় অর্জিত হোক।

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT