Main Menu

কার্বন নি:সরণের ক্রমাগত বৃদ্ধির ওপর চায়নার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ভরশীল

মোঃ শফিকুল আলম:জীবাশ্ম-জ্বালানির প্রজ্জ্বলন বাতাসে ক্রমাগত কার্বন নি:সরণ বৃদ্ধি করছে। হচ্ছে পরিবেশ দূষন। দূষন যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে চায়না এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ততো বাড়ছে। এবং পেরিসে অনুষ্ঠিত সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিবেশ দূষন নিম্ন মাত্রায় রাখার চুক্তি ততটাই লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে।

 

গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্টের পরিমাপ অনুযায়ী এবছরের নির্ধারিত কার্বন নি:সরণ 1.6% থেকে বেড়ে 2.7% হবে।

 

প্রকৃত পক্ষে গত বছরের তুলনায় চায়না অধিক মাত্রায় এবছর পাওয়ার ব্যবহার করেছে এবং একইভাবে অধিক মাত্রায় কার্বন নি:সরণ করেছে। মূলত: এবছর চায়না অতীতের থেকে সবচাইতে বেশী কার্বন নি:সরণ করেছে। Environmental Research Letters আজকের (06/12/2018) প্রকাশিত গবেষনা পত্রে তা’ই বলেছে।

 

চায়না পুরো পৃথিবীতে নি:সরিত মোট কার্বনের 25% এককভাবে নি:সরণ করে থাকে। 2013 সালে থেকে মোটামুটি স্থিরভাবে পৃথিবীতে 37 billion tonnes কার্বন নি:সরিত হয়ে আসছে। ভারী শিল্পের বৃদ্ধির কারনে বিশেষ করে ইস্পাত শিল্প 6.1% বৃদ্ধি পাওয়ায় মোটের ওপর ২০18-তে এসে কার্বন নি:সরণের পরিমান 4.7% বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী দেশ আমেরিকা তাদের নিম্নগামী নি:সরণ প্রক্রিয়ার বিপরীতে গিয়ে এবছর 1.6% থেকে সরে এসে 2.5% বা 5.4 billion tonnes অতিরিক্ত কার্বন নি:সরণ করেছে। আমেরিকার বিভিন্ন রিজিয়নে চরম আবহাওয়ার ফলে কনকনে (তুষারপাত) শীত আবার ফোঁসকা পড়া গরমের কারনে অতিরিক্ত পাওয়ার ব্যবহৃত হয়েছে যার ফলে অতিরিক্ত কার্বন নি:সরিত হয়েছে।

 

2018 এর কার্বন নি:সরণের ডাটা হতাশাব্যজ্ঞক। জীবাশ্ম-কার্বন নি:সরণ যেহেতু আমেরিকা এবং চায়নার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করেছে তাই তারা ন্যায়-নীতি বিষর্জন দিয়ে 2019-এও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার অব্যাহত রাখবে বলে গবেষকগন মনে করছেন। সেক্ষেত্রে বরং কার্বন নি:সরণের পরিমান কমানোর পরিবর্তে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এবং গ্লোবাল ওয়ার্ম বেড়ে যাবে। প্রকৃতি এই চাপ নিতে পারবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেননা।

 

2018 এর কার্বন নি:সরণ প্রজেকশন করা হলো পোল্যাণ্ডের ক্যাটোওয়াইস সিটিতে সহাস্রাধিক ডেলিগেটস প্রায় পৃথিবীর দু’শটির ওপর দেশ থেকে মিলিত হয়ে 2015 এর পেরিস চুক্তি এবং তার অগ্রগতি নিয়ে যখন পর্যালোচনায় বসলেন। 2015 এর পেরিস চুক্তি অনুযায়ী গ্লোবাল ওয়ার্মিং শিল্পায়ন পূর্বাস্থা পর্যায়ে অর্থাৎ 2 ডিগ্রীর নীচে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু 2018-তে এসে চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

 

ওজলো বেইজড্ গবেষনা প্রতিষ্ঠান CICERO এর ডিরেক্টর গ্লেন পিটার বলেন, “বিভিন্ন দেশ যে হারে পলিউশন করে থাকে বা কার্বন নি:সরণ করে থাকে আনুপাতিক কার্যক্রম গ্রহন করে সেই হারে অধিকাংশ দেশ কার্বন নি:সরণ কমায়নি যা পেরিস চুক্তির লংঘন।”

 

কোনো কোনো দেশে কয়লার ব্যবহার কমলেও ইন্ডিয়া কয়লা-জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। ইন্ডিয়ার কার্বন নি:সরণ 2018-তে এসে টোটাল কার্বনের 6.3% বৃদ্ধি পেয়েছে।যদিও চায়না এবং আমেরিকার তুলনায় অনেক কম। যেহেতু ইন্ডিয়া আমেরিকার 1/10 অংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে সেহেতু চায়না এবং আমেরিকার তুলনায় ইন্ডিয়ার নি:সরণ কম।

 

কয়লার ব্যবহার অস্ট্রেলিয়ায় অনেক কমে গেছে।কয়লা জ্বলন থেকে অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক 1.1% কার্বন নি:সরণ করে থাকে (2012-2017)।

 

আমেরিকার মতো অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ করে ট্রান্সপোর্ট সেক্টরে তেলের ব্যবহার স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি গ্যাস থেকেও। 2012-2017 এর মধ্যে গ্যাস উৎপাদন করতে গিয়ে যখন গ্যাসের প্রজ্জ্বলন হয় তার ফলে কার্বন নি:সরণের পরিমান বার্ষিক 10% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী মেলিসা প্রাইস পোল্যাণ্ডে একজন ডেলিগেট হিসেবে 9 ডিসেম্বর অংশগ্রহন করবেন। তিনি আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া পেরিস চুক্তি অনুসরন করে কার্বন নি:সরণ 2005 সালের পর্যায় থেকে 2030 সালের মধ্যে 26%-28%-এ নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

 

অস্ট্রেলিয়া এই টার্গেট ফুলফিল করতে পারলে প্রতি বছর 10 million tonnes কার্বন নি:সরণ কমিয়ে আনতে পারবে। এমনকি গত চার বছরের যে অতিরিক্ত কার্বন নি:সরণ করেছে তা’ও ব্যালেন্সড হয়ে যাবে।

 

অধ্যাপক জতজো’র মতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটিও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নয়। তিনি বরং অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বিরোধী লেবার পার্টির পলিসি সমর্থন করছেন। লেবার পার্টি 2030 সালের মধ্যে কার্বন নি:সরণ 45%-এ কমিয়ে আনতে চায়। এর ফলে প্রতি বছর 20 million tonnes কার্বন নি:সরণ কমবে।

 

 

 

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT