Main Menu

সালমান এফ রহমানের বার্ষিক আয় কত?

ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত সালমান ফজলুর রহমানের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৮ টাকা।একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য তার দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার আয়ের মধ্যে রয়েছে- বাড়ি/ এপার্টমেন্ট/ দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার, ব্যবসা থেকে ৬ লাখ, শেয়ার/ সঞ্চয়পত্র/ ব্যাংক আমানত ডিবিডেন্ট থেকে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৮ টাকা, চাকরি (সম্মানি ভাতা) থেকে ৪১ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির বোনাস শেয়ার ও আইএফআইসি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার বাবদ ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকা।

তবে তার উপর নির্ভরশীলদের কোনো আয় নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন।

সালমান ফজলুর রহমানের স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৭৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৯৪ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ টাকা, বন্ড/ ঋণপত্র/ স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ৭৫ হাজার ও ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৩৬ টাকা, বাস/ ট্রাক/ মটরগাড়ি/ লঞ্চ/ স্টিমার/বিমান ও মটরসাইকেল ইত্যাদির মূল্য ৩৪ লাখ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলঙ্কারাদি ১৫ লাখ ৫ হাজার এবং আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন কোম্পানিকে দেওয়া সুদমুক্ত ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৯৩০ টাকা।

তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ রয়েছে, ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ৬০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলঙ্কারাদি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন কোম্পানিকে দেয়া সুদমুক্ত ঋণের পরিমাণ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ২৬১ টাকা।

এই মনোনয়নপত্র জমা দেয়া এই প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদ ২ কোটি ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে অকৃষি জমি ২ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৬৮৭ টাকার ও ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের দালান, আবাসিক/ বাণিজ্যিক সম্পদ।

তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৭ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ৭০৮ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ও বিল্ডিং কন্সট্রাকশন বাবদ ২৫ কোটি ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৯ টাকা।

চলতি বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত তার দায়-দেনার মধ্যে রয়েছে ৬৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৭ হাজার ২৭০ টাকা ও ১৫ কোটি ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ১৪০ টাকা। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোন ফৌজদারি মামলা নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

হলফনামা সালমান এফ রহমান উল্লেখ করেন, ‘আমি একক বা যৌথভাবে আমার ওপর র্নিভরশীল কোন সদস্য অথবা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টও বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করি নাই।’

ফজলুর রহমান ও সৈয়দা ফাতিনা রহমানের সন্তান সালমান ফজলুর রহমান। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুরের বেথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৭ নভেম্বর তিনি হলফনামা জমা দেন।

হলফনামায় ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারি পাবলিক এ এ এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এর মাধ্যমে সনাক্তকৃত হইয়া অদ্য ২৭ নভেম্বর আমার সম্মুখে শপথপূর্বক উপরে বর্ণিত হলফনামা প্রদান করিয়াছেন।’

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী ম্যানুয়েল অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে হলফনামায় কোন প্রার্থী তথ্য প্রদান না করলে অথবা কোন অসত্য তথ্য প্রদান করলে বা হলফনামায় উল্লিখিত কোন তথ্যের সমর্থনে যথাযথ সার্টিফিকেট, দলিল ইত্যাদি দাখিল না করা অপরাধ। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে অথবা আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কোন ব্যক্তির আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্ত তদন্ত করে মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন সালমান এফ রহমান। মনোনীত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা প্যানেলে। শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান এই ব্যবসায়ী। ফলে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগে সক্রিয় না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই শেখ কামালের বন্ধু সালমান এফ রহমান পরিণত হন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী এক ব্যক্তিতে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT