Main Menu

বাগানের শহর যেভাবে পরিণত হলো ভাগাড়ের শহরে

আফ্রিকার নাইজার নদীর মোহনার একটি শহর যা একসময় পরিচিত ছিলো বাগানের শহর হিসেবে, সেই শহরকেই এখন বলা হচ্ছে ভাগাড়ের শহর।

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের এই শহরটি নাম পোর্ট হারকোর্ট। নাইজার নদীর ঠিক মোহনায় এ শহরটি দীর্ঘকাল ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীতে ভাসমান তেলের কারণে আর এখন তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে প্লাস্টিকের সামগ্রীর কারণে। খবর বিবিসির।

গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ প্লাস্টিক দ্রব্য সাগরে ভেসে যাচ্ছে তার নব্বই ভাগই বয়ে নিয়ে আসে দশটি নদী। আর এই দশটির মধ্যে আটটি হলো এশিয়ায় আর দুটি আফ্রিকায়।

 

আফ্রিকার নদী দুটি হলো নীল নদ আর নাইজার নদী।

আর এই নাইজার নদীর মুখেই গড়ে উঠেছে নাইজেরিয়ার পোর্ট হারকোর্ট শহর, যেটি এক সময় সুপরিচিত ছিলো বাগানের শহর হিসেবে।

অথচ এখন ভিন্ন দৃশ্য। সেখানে এখন দেখতে পাওয়া যায় বর্জ্য আর ময়লার স্তূপ।

সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর আর শূকরের মতো প্রাণী। কাছেই আবার মানুষের বসতিও রয়েছে।

অথচ এখানেই একসময় জেলেদের আনাগোনা বেশি থাকতো মাছের জন্য।

পরিবেশ কর্মী থ্যাংকগদ এমমনের কথাতেই উঠে আসছে নদীটির বর্তমান অবস্থা।

তিনি বলেন, ‘অনেক জেলে মাছ ধরতে না পেরে এখন কাঁদছে। কেউ কেউ এখনো নদীতে আসে এবং সারারাত ধরে জাল পাতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই তাদের ফিরে যেতে হয়। প্লাস্টিক আমাদের এ নদীটি থেকে মাছ তাড়িয়ে দিয়েছে।’

নদীতে এখনো যেসব জেলে প্রতিনিয়ত মাছ খুঁজে বেড়ান তাদের একজন অগাস্টিন ব্লেসিং বলেন, ‘এখন আমি আসলে প্লাস্টিক ধরছি যেগুলো ওয়াটার প্রুফ। আর নদীর পানি ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। একবার আসলে যা মাছ পাওয়া যায় তাতে তিন ডলারের সমান অর্থও আয় হয় না।’

নদীর যে চ্যানেলটির কাছে শহরটি অবস্থান সেখানে তাকালে এটিকে এখন কোন নদীর অংশ মনে হবে না কারও।

হাজার হাজার প্লাস্টিক সামগ্রী ভেসে বেড়াচ্ছে এদিকে সেদিকে। অনেককেই বরং দেখা যায় নৌকা নিয়ে মাছের বদলে সংগ্রহ করছেন প্লাস্টিক দ্রব্য।

আর এই প্লাস্টিক দূষণ এমন পর্যায়ে গেছে যে এটি কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ‘সমুদ্র অর্থনীতি’ বিষয়ক সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিলো।

সম্মেলনে ছিলেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের জন তানজের। তিনি বলছেন, ‘গত দুই দশক বা ২৫ বছরের মতো সময় আমরা সম্পূর্ণ প্লাস্টিক নির্ভর ছিলাম। এর কারণ হলো এটি দামে বেশ সস্তা।’

জন তানজের বলেন, ‘কিন্তু এখন আমরা উপলব্ধি করতে পারছি যে এটি আসলে সস্তা না কারণ এর জন্য আমাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। নদী নালা পরিবেশকে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের স্বাস্থ্যসহ সব কিছুর ওপর।’

আর এই সমস্যা যে কত ব্যাপক সেটি আসলে দৃশ্যমান ছিলো সম্মেলনের আয়োজনের মধ্যেও।

কারণ এখানে যে খাবার সার্ভ করা হয়েছে সেটিতেও ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিকের প্যাকেট।

সেজন্য হয়তো মনে করা হতে পারে যে প্লাস্টিক নিয়ে পরিবেশ ও প্রতিবেশ যে সংকটে পড়েছে তা থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ আসলে কথামালাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

আর সে কারণেই পোর্ট হারকোর্ট শহর আবার কখনো বাগানের শহরের রূপ ফিরে পাবে কি-না তাও নিশ্চিত নয়।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT