Main Menu

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড

মোঃ শফিকুল আলম:আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারী দল এবং তাদের জোট ছাড়া বিরোধী দল এবং জোটের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ হয়নি বলে অব্যাহতভাবে নির্বাচন কমিশন সমীপে অভিযোগ রয়েছে।অধিকাংশ অভিযোগ অনুমাননির্ভর।সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনায়ন এবং তা’ substantiate করা অবশ্য সহজ নয়।

 

বর্তমান সময়ের অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাষ্ট্রের সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসন যেহেতু বর্তমান সরকার সাজিয়েছেন সেহেতু তারা সরকারের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবেন।পুরোটাই অনুমান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র অনুমানের ওপর নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন এই সমস্ত অভিযোগের ব্যাপারে হয়তো act করতে পারবেননা। সে ক্ষেত্রে অভিযোগের তীর স্বয়ং নির্বাচন কমিশনকেও বিদ্ধ করছে।

 

বিরোধী পক্ষের অভিযোগের অনেকটা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে চাপে রেখে নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার কৌশল মাত্র।সরকারীদলের পক্ষ থেকে অবশ্য বিরোধী পক্ষের প্রত্যেকটা অভিযোগের বিরুদ্ধে তড়িৎ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। কারন, বিরোধী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন যাতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেন যেটা বরং তাদের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারে। সদা সতর্ক থাকতে গিয়ে অবশ্য প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ভাষা ব্যবহারে সংযত থাকতে পারছেননা। শব্দ চয়নে অসতর্কতা বা অতিকথনে বেফাঁস মন্তব্য করে বরং বিতর্কের সৃষ্টি করছেন। প্রতিদিন যেহেতু মিডিয়া ফেইস করতে হয় সুতরাং সুস্থ মস্তিষ্কের ভাষা ব্যবহারে দক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা বলা উচিত।

 

দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশিত। সকল সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতার বিষয় অনুমান করেইতো বিরোধী পক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন। সেক্ষেত্রে যা’ ঘটেনি এবং আপনারা অনুমান করছেন ঘটতে পারে তা’ নিয়ে মাঠ সরগরম করা থেকে বিরত থাকুন। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকল প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে তা’ সকল পক্ষকে বিশেষ করে অভিযোগকারী বিরোধী পক্ষকে বিশ্বাস করতে হবে। শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরকে পক্ষপাতদুষ্ট করা অনৈতিক এবং গ্রহনযোগ্য নয়। এতে বিরূপ বা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরী হতে পারে যা’ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবেনা। অপর পক্ষে বিরোধী পক্ষের নির্বাচন কমিশন সমীপে উত্থাপিত প্রত্যেকটা অভিযোগের উত্তর প্রদানে সচেষ্ট সরকারী দলের নেতাদের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে প্রস্তুতি গ্রহনে মনোযোগী হওয়া বেশি প্রয়োজন।

 

বিরোধী পক্ষ নির্বাচনী মাঠে না গিয়ে মাঠ সমতল কি-না সেটা নিয়ে বেশি উচ্চকিত। রেফারী বাঁশি না বাজাতেই তারা বুঝে ফেলেছেন বাঁশি তাদের পক্ষে বাজবেনা। খেলতে নামুন। দর্শকদের judge করার সুযোগ দিন। দর্শকরাই বলবেন মাঠ সমতল কি-না, রেফারী নিরপেক্ষ কি-না এবং আপনারাও টের পাবেন মাঠ সমতল কি-না। আপনার অংশের মাঠ সমতল না হলে বিরতির পর আপনার প্রতিপক্ষর ঐ অংশে খেলতে হবে। সমানে সমান। অসুবিধা কোথায়? মন এবং মননে সাইকোলজিকাল সমস্যা তৈরী হয়েছে। মনের পরিবর্তন করে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহন করুন।জনগনের ওপর বিচারের ভারার্পণ করুন। নিজেরা বিচারক হয়ে আগাম রায় ঘোষনা করলে কোর্টের পবিত্রতা নষ্ট হয়। আপনারা বলছেন গনতন্ত্রকে মুক্ত করে জনগনের কাছে ফিরিয়ে দিবেন। অথচ তাদের অংশগ্রহনের আগেই আপনারা রায় ঘোষনা করে তাদেরকেই অপমানিত করছেন।

 

আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন সেটা নিশ্চিত। যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনায়ন করছেন তারা যদি প্রকৃতপক্ষেই নির্বাচনের দিন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখেন তখন কি বলবেন? তারা নিরপেক্ষ থাকবেননা সেটি যেমন আগাম বলছেন, নিরপেক্ষতা প্রমানিত হলে কি বলবেন সেটিও আগাম বলুন। তা’হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যারা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন তাদেরকে সরকারী দলের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা নৈতিক এবং আইনসঙ্গত? নির্বাচনে বিজয়ী হলে আপনারা তাদের ওপর অনৈতিক এবং বেআইনি পদক্ষেপ নিবেননা তার কতটা গ্যারান্টি আছে? আপনারা কেনো তাদেরকে আপনাদের প্রতিপক্ষ তৈরী করছেন যখন তারা বলছেন তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী?

 

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনার পর পরই আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত ঘোষনা করলেন। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সাথে আলোচনাশেষে কোনো মন্তব্য বা কথা বলেননি। আপনারাও তাঁর সাথে কোন্ আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন তা’ বলেননি। তবে আমাদের ধারনা প্রধানমন্ত্রী আপনাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে তাঁর অধীনে একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আপনারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। সুতরাং, সরকারের বা আওয়ামীলীগের অন্য কোনো মন্ত্রী বা নেতার কথার জবাব দিয়ে আপনারা সময় নষ্ট করছেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে আজ যে পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন যে বিশ্বে এমন কোনো পরাশক্তি নেই যে তাঁকে শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সাথে দেখেননা। বিশ্ব-অর্থনৈতিক মন্দায় মার্কিন এবং চায়নার অর্থনীতি যেখানে হিমশিম খেয়েছে, যখন উন্নত বিশ্বে এই সময়টায় জিরো বা নেগেটিভ GDP growth দেখা গেছে তখনও বাংলাদেশের GDP growth কখনোই ৬% এর নীচে ছিলোনা। সকল বিবেচনায় শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বে একজন দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক এবং অসাধারন নেতৃত্বগুন সম্পন্ন নেতা হিসেবে পরিগনিত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন উপহার দিয়ে বিশ্বের সকল রাজনৈতিক বিশ্লেষকগনের সকল নেতিবাচক বিশ্লেষন মিথ্যা প্রমানিত করবেন।

 

সরকারী দলের জন্য এই মুহূর্তে যেটি প্রয়োজন তা’ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আকাশছোঁয়া ইমেইজ কাজে লাগিয়ে সকল দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দলকে নির্বাচনমুখী করা। বিরোধীপক্ষের যেসমস্ত অভিযোগের জবাব নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তায় তা’ অকারন নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে জবাব দেয়ার প্রবনতায় সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

 

সকল প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও আসন্ন নির্বাচনটি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে সুষ্ঠু হবে।সেক্ষেত্রে সকল পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরন করতে হবে। বিশেষ করে মিডিয়া এবং সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। যদিও নানান স্বার্থে জড়িয়ে সাংবাদিকগনও দায়িত্বহীন লেখা লিখছেন যা’ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনেক কথিত সাংবাদিককে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তি আক্রমনে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো করে তারা সাংবাদিকতায় তাদের নিম্নমান এবং হীনমন্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে লিখুন। নির্বাচনে অংশগ্রহনকারীদের judge করার দায়িত্ব জনগনের ওপর ছেড়ে দিন। আপনাদের judgemental হওয়ার সুযোগ নেই। এতে আপনাদের কোনো দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায় এবং তখন সত্য কথা লিখলেও কেউ বিশ্বাস করবেনা।

 

সবশেষে সকল পক্ষ নির্বাচনমূখী হবেন। সংশ্লিষ্ট সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। জনগন ৩০ ডিসেম্বর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যথাযথ বিচার করবেন। সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। গনতন্ত্রের জয় অবশ্যম্ভাবী।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT