Main Menu

পাগলা মামা

এগার

রাশেদুল ইসলাম: মামা আকাশের দিকে তাকান । অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকেন  তিনি । তারপর বলেন, ‘আমার হাতে বেশী সময় নেইরে । একটা বিশেষ কাজ আছে আমার’ । আমি বলি, ‘মামা আপনি ‘বিদআত’ নিয়ে কথা বলছিলেন ।   নবী করিম (সঃ) এঁর শিশুকাল সম্পর্কে কিছু বলতে চেয়েছিলেন আপনি’ ।

মামা বলতে থাকেন, ‘তুই জানিস  শিশুকালে নবী মোহাম্মদ দুধমাতা  হালিমার কোলে বড় হন । বিবি হালিমা আরব বেদুঈন পরিবারের গৃহবধূ ছিলেন । বেদুঈন পরিবারের স্থায়ী কোন বাসস্থান ছিল না । তাঁরা বিভিন্ন পাহাড় এবং মরুভুমিতে যাযাবর জীবন কাটাত । পাহাড় এবং মরুভুমির বিশালতা শিশু মোহাম্মদ উপভোগ করতেন । অন্য বাচ্চাদের মত কান্নাকাটি বা মারামারি তিনি করতেন না । বেশ ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন তিনি । খুব কম কথা বলতেন । কিন্তু, যা বলতেন বড়দের মত গুছিয়ে বলতেন ।  তাঁর এ ধরণের আচরণ সাধারণ শিশুসুলভ ছিল না । এ বিষয়টি বাইরের অনেকের মধ্যেও কৌতূহলের সৃষ্টি করে । এসব অনেক কারণে বিবি হালিমা শিশু মোহাম্মদকে তাঁর নিজের কাছে রাখা নিরাপদ মনে করেন না । তাই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার আগেই, তিনি মোহাম্মদকে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে যান । তিনি যখন মক্কা নগরীতে পৌঁছান তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে । এ সময় একটা কাফেলা দলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মোহাম্মদকে হারিয়ে ফেলেন । এদিক ওদিক ছোটাছুটি করেও তিনি শিশু মোহাম্মদকে খুঁজে পান না । তাই  কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে তিনি শিশুটির দাদা আবদুল মুত্তালিবের সাথে দেখা করেন । আবদুল মুত্তালিব মক্কার একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন । তিনি সাথে সাথে মোহাম্মদের খোঁজে চারিদিকে লোক পাঠান । ওদিকে শিশু মোহাম্মদ নিজেও বিবি হালিমাকে খুঁজে পান না । তিনি বুঝতে পারেন তিনি হারিয়ে গেছেন । কিন্তু, এতে তিনি ভয় পাননি বা কান্নাকাটি করেননি । এই ৪ বছরের শিশুটির তখন মনে হয়েছে, তাঁর এমন জায়গায় থাকা উচিত, যেখান থেকে সহজে তাঁর মা বা দাদা তাঁকে খুঁজে পেতে পারেন । তাই, তিনি হাঁটতে হাঁটতে একটা পানির কুয়ার  কাছে অপেক্ষা করেন । মক্কার মত মরুনগরীতে পানির কুয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা । কেউ না কেউ সেখানে আসবেই । শিশু মোহাম্মদের ধারণাই ঠিক হয় । কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে একজন ঘোড়সওয়ার এসে তাঁর পরিচয় জানতে চান । তিনি বলেন, তাঁর নাম মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ । তাঁর দাদার নাম মুত্তালিব । এভাবে খুব সহজে তিনি তাঁর দাদার কাছে পৌঁছে যান ।

মামা একটু থামেন । তারপর  বলেন, ‘এই ঘটনা দিয়ে আমি তোকে বোঝাতে চেয়েছি, শিশুকাল থেকেই মোহাম্মদ (সঃ) নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’ ।

আমি বলি, ‘এ ঘটনার সাথে বিদআত এর কি সম্পর্ক’ ?

মামা আমাকে হাত ইশারায় থামিয়ে দেন । আমি সহজেই মামার  হাতের ইশারা দেখতে পাই । রাতের আঁধার অনেকটা কেটে গেছে বোধহয় । অথবা,  অন্ধকারে দেখার অভ্যাস আমারও হয়েছে ।

মামা বলেন, ‘তোকে আর একটা ঘটনার কথা বলি । তুই জানিস, শিশু মোহাম্মদ জন্মের আগেই তাঁর পিতা  মারা যান । বিবি হালিমা রেখে যাওয়ার পর তিনি তাঁর মায়ের সাথে ছিলেন । তাঁর ৬ বছর বয়সে মা আমিনা মারা যান । মায়ের মৃত্যুর পর তিনি দাদা মুত্তালিবের  আশ্রয়ে থাকেন । আবদুল মুত্তালিব পবিত্র কাবাঘরের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন । তিনি মক্কার সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন । তিনিই জমজম কুয়ার সন্ধান পান ।  এ কারণে তাঁকেই জমজম কুয়ার মালিক গণ্য করা হত । ক্বাবাচত্বরে আবদুল মুত্তালিবের বসার জন্য একটা চাদর বিছানো থাকতো । তিনি এ চাদরের মাঝখানে বসতেন । একসময় তিনি ঘোষণা   করেন একমাত্র শিশু মোহাম্মদ তাঁর চাদরের উপর বসতে পারেন । তিনি নিজেও শিশু মোহাম্মদকে নিয়ে সেই চাদরের উপর বসতেন । সে সময় ক্বাবাঘরে লাত এবং উজ্জা নামে দুটি দেবতার মূর্তি ছিল । জমজম কুয়ার পাশে ছিল হুবালের মূর্তি । মানুষ বা পশু কোরবানি দিতে হলে ইসাফ  ও নায়লা প্রতিমার সামনে দিতে হত ।

শিশু মোহাম্মদ  লক্ষ্য করেন, তাঁর দাদার কাছে সব ধরণের মানুষ বিচারের জন্য আসে । যেমন,  একজন এসে জানায় হুবাল প্রতিমাকে সাক্ষী রেখে যে প্রতিজ্ঞা সে করেছিলো, তা  সে রক্ষা করেছে । সে নিজের হাতে তার পিতার হত্যাকারীকে খুন করতে পেরেছে । কিছুক্ষন পর যে পরিবারের লোক খুন হয়েছে,  তারাও প্রতিকারের জন্য আসে । তারা জানায়, যাকে খুন করা হয়েছে; সে প্রকৃত হত্যাকারী নয় । ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগে তাকে খুন করা হ'য়েছে । মোহাম্মদ লক্ষ্য করেন মানুষের মিথ্যে বলা, অন্যের দোষ নিয়ে চর্চা করা এবং কান কথায় কান  দেয়া স্বভাবের কারণে সমাজে বিভিন্ন কলহের সৃষ্টি হয় । আর, এই কলহের জের ধরে এক এক গোত্রের মানুষ, এক এক দেবতার শপথ নিয়ে প্রতিহিংসায় মেতে ওঠে । তাই, তাঁর সব রাগ গিয়ে পড়ে মানুষের হাতে তৈরি এসব দেবতাদের উপর । কারণ, সমাজের একজন মানুষ  তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে কোন এক দেবতার নামে শপথ নিয়ে । মানুষের বানানো এই দেবতাকে তার যত নষ্টের মূল মনে হয় । তবে, দাদা মুত্তালিবের পাশে চুপচাপ বসে থাকা এ শিশুটিকে দেখে তাঁর মনের ভাব বোঝার কোন উপায় নেই । শিশু মোহাম্মদের মনের সেই প্রকৃত ভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বসরায় । জবল-হাওরান পর্বতের চুড়ায় অবস্থিত একটি   খ্রিষ্টান মঠে । বাহিরা নামক এক ধর্মযাজকের কাছে ।

আমি কৌতূহলী হই । বলি, ‘মামা,  ঘটনাটা একটু খুলে বলবেন কি’ ?

মামা বলেন, ‘শিশু মোহাম্মদের বয়স যখন ৮ বছর তখন তাঁর দাদা মুত্তালিব মারা যান । মুত্তালিবের মৃত্যুর পর তাঁকে লালনপালনের ভার পড়ে  চাচা আবু তালিবের উপর । আবু তালিবের উপর দায়িত্ব পড়ার মূল কারণ ছিল তাঁর স্ত্রী ফাতিমা । আবু তালিবের স্ত্রী বিবি ফাতিমা ছিলেন শিশু মোহাম্মদের আপন খালা । তুই জানিস এই খালার নাম অনুসারে নবী মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর নিজের প্রিয় মেয়ের নাম রাখেন ফাতিমা । আবু তালিব কাফেলা সংগঠক ছিলেন । তিনি কাফেলা নিয়ে সিরিয়া যাওয়ার জন্য বিদায় নিতে চাইলে বালক মোহাম্মদ তাঁকে জড়িয়ে ধরেন । ফলে, আবু তালিব  তাঁকে সাথে নিতে বাধ্য হন । বালক মোহাম্মদ কাফেলার সাথে সিরিয়ার পথে রওয়ানা হন । অন্যদিকে সে সময়ে আরবের আকাশে একটি নতুন নক্ষত্রের উদয় হয় । গ্রহ-নক্ষত্র বিশেষজ্ঞগণ একমত হন যে, মক্কায় এক মহাপুরুষের জন্ম হয়েছে । সেই মহাপুরুষের বর্ণনা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে দেয়া আছে । নতুন সেই মহাপুরুষকে খুঁজে বের করতে যারা কাজ করেন, তাদের একজন এই ধর্মযাজক বাহিরা । তিনি বসরার জবল-হাওরান পর্বতের চুড়ায়  তাঁর মঠে বসে মক্কার দিক থেকে আসা বিভিন্ন কাফেলা দল পর্যবেক্ষণ করতেন । একই কারণে তিনি আবু তালিবের কাফেলা দলকে মঠে আমন্ত্রন জানান । এই কাফেলা দলের মধ্য থেকে তিনি বালক মোহাম্মদকে আলাদা করেন এবং তাঁর সাথে একান্তে কথা বলতে চান । তিনি বালক মোহাম্মদকে আল লাত এবং আল উজ্জার কসম খেয়ে তাঁর প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়ার জন্য বলেন । সে কথার প্রেক্ষিতে বালক মোহাম্মদ জানান, তিনি সবচেয়ে ঘৃণা করেন মানুষের তৈরি  এসব দেবতাদের । কারণ, তাদের কোনই ক্ষমতা নেই; কিন্তু, তারা দেবতা সেজে আছে । তাই, এসব দেবতার নামে কসম দিলে তিনি একটা কথাও বলতে রাজি নন’ ।

মামা একটু দম নেন, তারপর বলেন, ‘এই  দুটি ঘটনা দিয়ে আমি তোকে বোঝাতে চেয়েছি,  নবী মোহাম্মদ (সঃ) শিশুকাল থেকেই নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন   এবং একবার একটা সিদ্ধান্ত নিলে সে ব্যাপারে তিনি অবিচল থেকেছেন ।

‘এ বিষয়ে আমার ৩ টি প্রশ্ন আছে । একঃ  যে দুটি ঘটনার কথা আপনি উল্লেখ করেছেন, তা  আমার কাছে অজানা । এই ঘটনা দুটি জানার সূত্র কি ? দুইঃ ঘটনা দুটি  মহানবী (সঃ) এঁর শিশুকালের । তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন ৪০ বছর বয়সে । সেক্ষেত্রে তাঁর শিশুকালের এ দুটি ঘটনাকে হাদিস হিসেবে গ্রহন করা যাবে কি-না ?  তিনঃ এ দুটি ঘটনার সাথে বিদআত এর সম্পর্ক কি’ ?- আমি বলি ।

মামা বলেন,  একটা ঘটনা তোর কাছে  অজানা মানে এই নয় যে,  তা সত্য নয় । মহানবী (সঃ) এর উপর অনেক বই আছে । তোর আগ্রহ থাকলে মদিনার ইবনে ইসহাকের লেখা  সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সঃ) পড়ে দেখতে পারিস । মহানবীর (সঃ) মৃত্যুর পর এই বইটিই তাঁর প্রথম  বিশদ জীবনী । আর, তোর ২য় প্রশ্নে তুই ঠিকই বলেছিস নবী করিম (সঃ) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্ত হন । নবুয়ত প্রাপ্তির পরবর্তী  জীবনে তিনি পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন । তবে, লক্ষণীয় যে, তাঁর বিগত জীবন নিয়ে পবিত্র কোরআনে কোন প্রশ্ন তোলা হয়নি । তার অর্থ এই যে, বিগত জীবনে মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর  জীবনযাপন পদ্ধতি পবিত্র কোরআনের বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল । তাছাড়া বিদায় হজ্জের ভাষণে মহানবী নিজে সকল মানুষকে পবিত্র কোরআন এবং তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে বলেন । এখানে জীবনাদর্শ বলতে শুধু তাঁর নবীজীবন নয়;  তাঁর গোটা জীবনকে বোঝানো হয়েছে । এসব বিচারে মহানবী (সঃ) এঁর জীবনের সকল কর্মকাণ্ডই হাদিস হিসেবে গণ্য  হতে পারে । তবে এ বিষয়টি বিশেষজ্ঞগণ  ভালো জানেন ।

তোর পরের প্রশ্ন, এ দুটি  ঘটনার সাথে বিদআত এর সম্পর্ক কি ? আমিতো মনে করি  যারা বিদআত বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চায়, তাদের এ দুটি  ঘটনা জানা দরকার । কারণ, এ দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত যে, নবী মোহাম্মদ (সঃ) শিশুকাল থেকেই  নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একবার একটা সিদ্ধান্ত নিলে সে ব্যাপারে তিনি অবিচল থেকেছেন ।  পবিত্র কোরআনেও মানুষকে নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে । এর অর্থ এই যে, কোনকিছু একেবারে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক নয় । নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি  প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত  গ্রহন করা ধর্মের বিধান ।

মামা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন । বলেন, ‘তোদের বড় সমস্যা মুসলমান হিসেবে তোদের  তেমন কোন পড়াশুনা নেই । অন্যের ধর্ম তো দূরের কথা, নিজের ধর্মের উপরও তেমন কোন  গবেষণা নেই । সূরা কামার এ মহান আল্লাহ্‌ বার বার উল্লেখ করেন কোরআনকে তিনি সহজ করে দিয়েছেন;  যাতে মানুষ পড়ে এর শিক্ষা মনে রাখতে পারে। কোরআনের এই সূরার মর্ম অনুযায়ী মুসলমানদের উচিত ছিল পৃথিবীর সকল দেশের মাতৃভাষায় কোরআন প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া । এতে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতো । কেউ ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পেত না । এই কাজটি করেছেন খ্রিস্টান ধর্মযাজকগণ  । তাঁরা পবিত্র বাইবেল শুধু যে একটা দেশের মাতৃভাষায় প্রকাশ করেছেন, তা নয়; নিজেরা সেই ভাষা শিখে সাধারণ মানুষের ভাষায় নিজেদের ধর্ম প্রচার করেছেন । কিন্তু, কোন মুসলমান নিজের দেশেও মাতৃভাষায় কোরআন প্রচারের ব্যবস্থা নেননি । অনেকক্ষেত্রে বাঁধা দিয়েছেন । তাঁরা মনে করেছেন পবিত্র কোরআন অন্য ভাষায় অনুবাদ করা হলে, এর পবিত্রতা নষ্ট হবে । অথচ, এই যুক্তি  পবিত্র কোরআনের বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় । এদেশের মুসলমানেরা এর পরিণতি বুঝতে পারে ইংরেজ আমলে । সে সময় খ্রিস্টান ধর্মযাজকগণ এখানে এসে সাধারণ মানুষের ভাষায় তাঁদের ধর্ম প্রচার শুরু করেন । তাঁদের প্রচারণায় দরিদ্র শ্রেণির অনেকেই ধর্মান্তরিত হতে থাকলে মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের টনক নড়ে । কিন্তু, বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফ না থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়েন । ভারত উপমহাদেশ একটি বিচিত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ । আবহমান কাল থেকে এখানকার  হিন্দু-মুসলমানগণ পারস্পারিক শ্রদ্ধা ভালোবাসার মধ্যে বসবাস করে আসছে । বলা যায় এই সম্প্রীতির ফসল ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন । ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন ১৮৮১ সনের ১২ ডিসেম্বর পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদের প্রথম পর্ব প্রকাশ করেন । বলা যায় মুসলমানদের ভয়েই তিনি তখন নিজের নাম গোপন রাখেন । কিন্তু, মজার ব্যাপার, আলেম সমাজ তাঁর এই অনুবাদের কাজ শ্রদ্ধার সাথে গ্রহন করেন । তাঁরা লিখিতভাবে অনুবাদকের নাম প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানান । ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন কোরআনের পূর্ণাঙ্গ  বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন ১৮৮৬ সনে । তিনি তৎকালীন মুসলমান আলেম সমাজের কাছে এমন প্রিয় ছিলেন যে,অনেক ধর্মীয় আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রন জানান হতো । সম্ভবত ১৯২১ সনের দিকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটা লেখা প্রকাশিত হয় । সে লেখায় তিনি উল্লেখ করেন বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে; তখন আমরা নিকাহ এবং তালাকের ফতুয়া নিয়ে ব্যস্ত । নজরুলের সেই লেখার প্রায় ১০০ বছর পর তুই আমার কাছে জানতে চাস নামাজের পর মোনাজাতের কি হবে ! এর মানে এই যে,  চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোন অগ্রগতি নেই । যাহোক, তুই যখন প্রশ্ন করেছিস, তখন নিশ্চয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ । এখন তুই বল, তুই নিজে কি মনে করিস ? তুই কি মনে করিস আমি মহানবী (সঃ) সম্পর্কে যে দুটি ঘটনার উল্লেখ করেছি তার সাথে বিদআতের কোন সম্পর্ক নেই ? তাহলে আমাকে বল বিদআত বলতে তুই কি বুঝিস ?

আমি বলি, ‘আমি যেটা শুনেছি  তাহলো নবী মোহাম্মদ (সঃ) বেঁচে থাকতে  ইবাদতের জন্যে  নিজে যা করেননি,  তা নতুন করে যোগ করার নাম বিদআত । এ ধরণের নতুন কোন সংযোজনকে  বিদআত বলে এবং তা ইসলামের ধর্মীয় দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয় । যেমনঃ একদল বলেন   মহানবী (সঃ) নিজে কখনো জন্মদিন পালন করেননি । ফলে, নবীর জন্মদিন বা ঈদে মিলাদুন্নবী  পালন করা বিদআত । (চলবে)

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT