Main Menu

ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যের ব্যবহার, গবেষনা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যত ভাবনা

ড: নওশাদ হক, মেলবোর্ন:  বেশ কয়েক বছর আগে একবার বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহোদয় এবং বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা কাউন্সিলের সভাপতি মহোদয়কে গাড়িতে আমি ড্রাইভ করে নিয়ে যাচ্ছিলাম মিটিং এর জন্য মেলবোর্নে আমাদের গবেষনাগারে। আলাপচারিতার ফাঁকে মন্ত্রী মহোদয় জিজ্ঞেস করছিলেন আমি ও আমাদের দল কোন কোন গবেষনার সাথে যুক্ত। 

 

খনিজ বালি ছাড়াও আমার দলের কয়েকজন তখন আমরা ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে মুল্যবান ধাতু বের করার উপায় ও অর্থনৈতিক লাভ খরচের বিষয়গুলো দেখছিলাম। আমাদের পিএইচডি ছাত্র ও একজন পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ঐ প্রকল্পে কাজ করছিল এবং এখনও সেটি চলে। তারপর ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ’ নামে একটা বড় প্রকল্প মনাস ইউনি, ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ও সুইনবার্ন ইউনি কে দিয়েছিলাম যেখানে আমার বড় একটা ভুমিকা ছিলো সুইনবার্নের গবেষকদেরকে প্রশিক্ষন দিতে - কি করে প্রযুক্তি ভিত্তিক ফ্লোশীট মডেল তৈরি করে, সফট্ওয়ার ব্যাবহার করে সিমুলেশন, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অর্থনৈতিক লাভ খরচের মুল্যায়ন করতে হয় - সে বিষয়ে, যেটা আমার ও আমাদের দলের প্রধান দক্ষতা। একসাথে আমরা বিভিন্ন জায়গায় উপস্থাপন করেছি এ বিষয়ে। এর অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক করার বেশ কিছু বিষয় আছে, তার একটা - অনেক পরিমান বর্জ্য উৎপন্ন হতে হবে, আর তাতে একটা অন্তত ন্যুনতম পরিমান মূল্যবান ধাতু থাকতে হবে। আমাদের এখানে জনসংখ্যা কম হওয়ার কারনে মোবাইল ফোন বর্জ্যের পরিমান একটা বড় শিল্প চালানোর জন্য যথেষ্ট নয় তবে পরিবেশগত ও সম্পদের ব্যবহার বিবেচনায় এই রিসাইক্লিং এর গুরুত্ব আছে।

 

আমাদের কথাবার্তার মাঝে আমি বলছিলাম যে আমাদের গবেষনার একটা বিষয় মোবাইল ফোন ও অব্যবহার যোগ্য ব্যাটারী থেকে ধাতু বের করার পদ্ধতি উদ্ভাবন। মন্ত্রী মহোদয় বলছিলেন বাংলাদেশে আমাদের মোবাইল সাবসক্রিপশন বারো কোটি ছাড়িয়ে গেছে এরকম কিছু তথ্য। তখন আমি বলেছিলাম তাহলে তো প্রতিবছর ফেলে দেয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যাটা কম নয়। উনি তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন আমরা এ বিষয়ে কিছু সাহায্য করতে পারি কিনা। তখনই আমার মাথায় গেথে গিয়েছিল আমি যা করছি সেখান থেকে কি করে বাংলাদেশকে সাহায্য করা যায় যাতে নতুন ধরনের শিল্প বা মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয় ভবিষ্যতে কোনোদিন। আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষক কিন্তু উদ্দোক্তা নই তবে কোনো উদ্দোক্তা তা সরকারী বা বেসরকারি খাতে যদি আমাদের ধারনা ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করে মানুষদের কাজ দিয়ে, সমাজের উন্নয়নে ভুমিকা রাখে এতেই আমাদের সার্থকতা।

 

আমি বিশ্বের বড় বড় গবেষনাগারে এ বিষয়ে যেসব সরকারী প্রতিষ্ঠান বা প্রাইভেট কোম্পানী কাজ করছে তাদের সাথে সংশ্লিষ্টটার সুযোগ হয়েছে। কারো কারো সাথে বেশ গভীর ভাবে কাজ করেছি। দক্ষিন কোরিয়ান সরকারী ও বেসরকারি গবেষনাগার ও ব্যবসা এবিষয়ে বিশ্বের একেবারে প্রথম সারিতে। আমাদের সাথে অনেক লম্বা সময়ের যৌথ গবেষনার সম্পর্ক সেখানে এবিষয়ে যারা নেতৃত্ব দেয় তাদের সাথে। সেখানকার একদল গবেষক ও ব্যবসায়ী এসেছিলো দশ বছর আগে একটা যৌথ সিম্পোজিয়াম অনুষ্টানে মেলবোর্ন।

 

আমার উপস্থাপনার পর চা বিরতির সময়ে এক কোরিয়ান ভদ্রলোক খুবই ভাঙা ইংরেজীতে আমাকে কিছু প্রশ্ন ও আমার প্রেজেন্টেশনের কপি চাইলো। আমি দিলাম এবং সে বললো তার ব্যবসা আছে ইলেকট্রনিক স্ক্র্যাপ রিসাইক্লিং এর। তো আমি ও আস্তে আস্তে জানতে চাইলাম তার কাজ সম্পর্কে। তার ব্যবসার মূল্য ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সে শ দেড়েক মানুষকে নিযুক্তি দিয়েছে। তার কোম্পানীর ব্যক্তিগত গবেষনা বিভাগ আছে যেখানে দশ জনের উপর বিজ্ঞানী কাজ করে। আমাকে আমন্ত্রণ জানালো তাদের গবেষনাগার পরিদর্শন করে কিছু বুদ্ধি দিতে। 

 

তারপর আমি আর এক সহকর্মী গেলাম তার ও তাদের কাজ দেখতে। আমাদের কোরিয়ান সরকারি সহযোগিরাও সাথে ছিলো। গবেষনা ছাড়াও আমি তার আতিথেয়তায় যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলাম বিশেষত আমাকে সে যে সম্মান দিয়েছিলো তা ভুলবো না। আমাকে পাশে বসিয়ে থরে থরে সাজানো খাবার বড় বড় টেবিলে, বিশেষ পানীয় সহযোগে আপ্যায়ন করেছিলো। এমনিতে কোরিয়ানদের অতিথি সেবা ও রকমারি খাবার ও তার প্রকারের বিশেষ খ্যাতি তা যারা কোরিয়া গিয়েছেন তাদেরকে বলে বোঝাতে হবে না। আমি এ্যলকোহল পান করিনা শুনে তার সে কি মনোকষ্ট কারন বিশেষ ভাবে অর্ডার দিয়ে সে মদ এনেছিলো। তবে কোরিয়ান বিখ্যাত জিনসেং পানীয় পিয়েছিলাম যা নাকি সর্বরোগ সারানোর মহৌষধ, যা মানুষের শরীরের অনেক কাজে লাগে। সেখানেই শুনেছিলাম কোরিয়াতে জিনসেং এর গবেষনায় একটা পুরো সরকারী গবেষনা ল্যাব আছে, অনেক গবেষক নিয়ে এবং প্রাইভেট সেক্টরেও এ বিষয়ে অনেক কাজ আছে। এটা তাদের বিশেষ রপ্তানী দ্রব্য।

 

তার গবেষনা প্রধানের সাথেও বেশ বন্ধুত্ব হয়েছিলো যে খুটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখিয়েছিল। একটা ঘর ভর্তি হাতের নোংরা গ্লাভস্। আমি স্বাভাবিক কৌতুহল বশে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওগুলোর কাজ। সে বললো যখন কর্মীরা এলজি, স্যামসাং ফ্যাক্টরীগুলোতে কাজ করে তখন তারা এগুলো হাতে দিয়ে সার্কিট তৈরির উপাদান, বস্তু, জিনিষপত্র ধরে। যেহেতু তারা এই মূল্যবান ধাতু যেমন রুপা, স্বর্ন ও অন্যান্য মূল্যবান উপকরন নিয়ে কাজ করে, একটু রঙ লেগে যায় গ্লাভস্ এ। এগুলো কর্মীরা যাওয়ার সময় জমা দিয়ে যায়। সেগুলো এখানে এনে গলিয়ে সিলভার বের করা হয় এবং তার পাত আমাকে দেখিয়েছিল। তার ফ্যাক্টরী স্বর্ন ও প্লাটিনাম বর্জ্য ও রিজেক্ট সামগ্রী থেকে বের করে রপ্তানি করে।

 

কয়েক বছর পর তার সাথে আবার অষ্ট্রেলিয়াতে দেখা হোলো। বললো তার ব্যবসা এখন ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তিনশ লোক কাজ করে, মালয়েশিয়া ও চীনে নতুন নতুন ফ্যাক্টরী খুলে বাড়িয়েছে। 

 

আমি পরবর্তীতে এদের পাঁচজনকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছিলাম আমার তাদের সাথে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে সেখানকার সুযোগ সুবিধা দেখানোর জন্য। আমাদের সাভার যেতে বেশ সময় লেগেছিলো একদিন। আমি কোরিয়াতে ৩০০ কিলোমিটার ট্রেনে এক ঘন্টায় গিয়েছিলাম ডেইজন থেকে সিউল ওদের সাথে। ওরা কোরীয় ভাষায় নিশ্চয় কিছু বলাবলি করছিলো। তবে সত্তুরের দশকে ওরা আমাদের চেয়ে অনুন্নত ছিলো শুনেছি। এখন তারা অনেক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশকে ওরা আগে ই-বর্জ্য নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সংগ্রহভিত্তিক অবকাঠামো তৈরীর পরামর্শ দিয়েছিলো যেটা কোরিয়াতে আছে।

 

তারপর আমরা বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প কাউন্সিলের সভাপতি মহোদয় ও দুইজন বিজ্ঞানীকে কোরিয়া নেয়ার ব্যাবস্থা করেছিলাম ওদের ফ্যাসিলিটিস ঘুরে দেখানোর জন্য। আমাদেরকে বেশ একটু জোর খাটাতে হয়েছিলো বিশেষ করে আমার অষ্ট্রেলিয়ান জৈষ্ঠ সহকর্মী ওদের বলেছিলো তোমাদের সাথে আমাদের অনেক দিনের সম্পর্ক, বাংলাদেশীরা আমাদের বন্ধু ওদেরকে আমরা সাহায্য করতে চাই, তোমরা ওদেরকে আনতে দাও ও আতিথেয়তার জন্য খরচ বরাদ্দ করো। বাংলাদেশে অনেক পুরোনো মোবাইল ফোন ফেলে দেয়া হয়, তোমরা দেখতে পারো কিছু সুযোগ আছে কিনা। 

 

কোরিয়ানদের অর্থায়নে ও বুদ্ধিতে ভারতীয়রা ই-বর্জ্য থেকে ল্যাব উন্নত করেছে যারা আমারও নিকটতম গবেষনা সহযোগী। ভারতীয়দের এই ই-বর্জ্য গবেষনাগার আমি দেখেছি এবং এখন বিশ্বের প্রথম সারির হবে। আমার পরিকল্পনা ছিলো কোরিয়ান কিছু গবেষনা ফান্ড বাংলাদেশে ডাইভার্ট করা যায় কিনা। আমরা বাংলাদেশী সহকর্মীসহ সেবারে কোরিয়ার অনেক গুলো গবেষনাগার দেখেছিলাম। জ্বালানী গবেষনাগার ছাড়াও দুটো বড় বড় সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যাবহার সংক্রান্ত গবেষনা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। তখন বাংলাদেশ সরকার কেবলমাত্র বৃহত সমুদ্র সীমানার অধিকার পেয়েছিলো।

 

আমরা কোরিয়ানদের সাথে সমুদ্র তলদেশে খনিজ পাওয়া, আহরন ও প্রক্রিয়াজাত করনের উপর গবেষনা করছিলাম। আমার এক ইন্জিনিয়ারিং এর ছাত্রকে এই বিষয়ের উপর কাজ করিয়ে গবেষনা রিপোর্ট তৈরী করেছিলাম। কোরিয়ানরা অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার সাথে ‘মিনেরো’ রোবট বানিয়েছিল যা সমুদ্রের ৫০০০ মিটার নীচে গিয়ে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মত চুষে খনিজ আহরন করতে পারে। এ এক মস্ত বড় মাল্টিডিসিপ্লিনারী গবেষনার বিষয়। রোবটটিকে পানির চাপ সহ্য করে কোনো মরিচা না ধরিয়ে লম্বা সময় পানির নীচে কাজ করতে হবে যা আবার পানির উপর একটা জাহাজ থেকে নিয়ন্ত্রন করা হবে। গভীর সমুদ্র তলদেশ থেকে আহরিত খনিজের নমুনা আমাকে ও বাংলাদেশী সহকর্মীদের দিয়েছিলো যা এখনো আমার সংগ্রহে রয়েছে।

 

কোরিয়ানদের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকাতে সম্পদের ব্যাবহার ও রিসাইক্লিং এ তাদের দক্ষতা অসাধারন। তারা এখন অনেক কম দামে পুর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ল্যারিয়ন ক্লিপারটন জোন নামে এলাকায় ব্লক কিনে রেখেছে ভবিষ্যতে খনিজ আহরনের জন্য। ভারত মহাসাগরে কিছু এলাকা এখনো বরাদ্দের অপেক্ষায় আছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। অষ্ট্রেলিয়ান/আমেরিকান কোম্পানি নৌটিক্যাল পাপুয়া নিউগিনির কাছের সমুদ্রে একটা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। যাহোক খনিজ খোঁজ করন একটা রিস্কি ও ধৈর্যের ব্যাবসা, পাওয়া গেলে কপাল খুলে যায়, না পাওয়া গেলে টাকা জলে যায়।

 

বাংলাদেশে সহকর্মীরা তখন ই-বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে সবে গবেষনা শুরু করেছিলো। আমি পরবর্তী বছরে অস্ট্রেলিয়া কোরিয়া সম্মেলনে একজন বাংলাদেশী সহকর্মী আনার ব্যাবস্থা করেছিলাম আমার এখানকার অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পের থেকে খরচে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে চিন্তা করার কারনে ভিসা জটিলতা হচ্ছিল। সৌভাগ্যবশত দিল্লীর অষ্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে কর্মরত আমার ব্যাক্তিগত পরিচিত এক অষ্ট্রেলিয়ান সহকর্মী সাহায্য করেছিলো দ্রুত ভিসার জন্য।

 

সেই বাংলাদেশী সহকর্মীকে সপ্তাহখানেক কোরীয় ও অষ্ট্রেলিয়ান সহকর্মীদের সাথে কাটানোর ব্যাবস্থা করেছিলাম আমাদের গবেষনাগারে ও ল্যাব দেখিয়েছিলাম, পরিচয় করিয়েছিলাম সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপকদের সাথে। 

 

সেটা ছিলো শুরু। তারপর সে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের এনডেভার ফেলোশিপ আবেদন করলো আমার হোষ্ট নমিনেশন লেটার সহ। ইতিমধ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্র বিভাগকে নিয়মিত জানাচ্ছিলো আমাদের উদ্যোগ সম্পর্কে। আমরা দুটো ফেলোশিপ পেলাম গত রাউন্ডের প্রতিযাগিতায় অষ্ট্রেলিয়া সরকারের কাছ থেকে, একটি খনিজ বালি আর একটি ই-বর্জ্য নিয়ে গবেষনার উপর। ঐ সহকর্মীগন ভালো কাজ করে গবেষনাপত্র তৈরি করছেন।

 

আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের যৌথভাবে একটি পিএইচডি গবেষনা প্রকল্পের খরচ প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গবেষকের থাকার খরচ, টিউশন  ফি, দরকারমত প্রশিক্ষন, গবেষনার জন্য দেশে বিদেশে ভ্রমন, দুই জায়গার তত্তাবধায়কদের সময়ের দাম ও গবেষনা সংক্রান্ত আনুষংগিক খরচ মিলিয়ে। আমরা অর্ধেক খরচ দেব এই শর্তে আরএমআইটি স্কলারশিপ দিবে। গতকাল সেই আনন্দের খবরটি অষ্ট্রেলিয়া সফররত বাংলাদেশী ডেলিগেশন ও বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও শিল্প কাউন্সিল কে দিতে পারলাম।

 

এতে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় শুন্য খরচে গবেষনা ফলাফল ও বিজ্ঞানীর দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারবে।বাংলাদেশ সরকার তাদের বিজ্ঞানীকে ছুটি দিবে আর  সে ভিসা পেলে বিজ্ঞান ও গবেষনা কাউন্সিলের সহকর্মী আসছে বছরে এই সুন্দর গবেষনা প্রকল্পটি আমাদের যৌথ তত্তাবধানে শুরু করতে পারবে। এরকম অর্থের ছাড় করাতে কতজনকে আমার নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করে বিভিন্ন ভাবে নেগোসিয়েট করে, দেন দরবার করে এবং সর্বোপরি কারিগরি দিক থেকে গ্রহনযোগ্য একটা প্রকল্প দাঁড় করাতে হয়েছে। পরিবারকে বন্চিত করে নিয়মিত কাজের সময়ের বাইরে অনেক সময় দিতে হয়েছে। আমি এখন দুই সপ্তাহের ছুটিতে আছি। তবে আনন্দ লাগছে যে বাংলাদেশী সহকর্মীদেরকে খুশীর খবর জানিয়ে ও খবরটি আমার নিজের সাথে নিয়ে পরিবার সহ গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ দেখতে কেয়র্নস্ যাচ্ছি।

 

আমার কাছে শুধু বাংলাদেশ বা বাংলাদেশী নয়, যে যখনই - ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও বুদ্ধির সাহায্য চেয়েছে আমি সাধ্যের মধ্যে শর্তহীন ভাবে করেছি। যখন তাদের দেখেছি ব্যাক্তিগত উন্নতি করেছে, ভালো প্রফেশনাল হয়েছে, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, ভালো চাকরী করে দেশের ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখছে, আমার ভালো লেগেছে। অনেকে মূল্যায়ন করেছে, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়েছে বিনিময়ে। যারা দিতে পারেনি আর তার জন্য আমার কোনো চাওয়া, আকাংখা বা আফসোস নেই, তবে আমার অসম্ভব মনোতুষ্টি হবে যদি তারা তাদের মত অবস্থায় যখন ছিল এরকম অন্য কাওকে সাহায্য ও উপকার করে।

 

আমি একা কিছুই পারতাম না। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহোদয়, বাংলাদেশী গবেষনা সহকর্মী গন আর সর্বোপরি অষ্ট্রেলিয়ার আরএমআইটির অধ্যাপকগন ও সিএসআইআরও এর জেনেরাস জৈষ্ঠ গবেষকগনের পুর্ন সমর্থনে এতদুর আসতে পেরেছি। সময়ের সাথে সবার বিশ্বাস অর্জন আর বন্ধুত্ব পেয়েছি। এটাই এই কাজের বড় পাওয়া আমার জন্য আর এই কাজের চালিকাশক্তি।

 

কেও কেও সব কাজের মধ্যেই একটু নেগেটিভ খোঁজার চেষ্টা করে, এটা তাদের মনের দৈন্যতা। এরকম চিন্তা করতে থাকলে নেগেটিভিটির বলয় হতে বের হতে পারা যায় না। আমার নিজস্ব কিছু দৃষ্টিভংগী বা লক্ষ্য আছে। আমি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করি বা করছি। আমার ব্যাক্তিগত উদ্দেশ্য বাংলাদেশের গবেষনা প্রতিষ্ঠান একদিন বিশ্বের সাথে সমান মানে সম্মানের সাথে দাঁড়াবে, সেদিন বেশী দুরে নয় আর তখন আমাদের সবার স্বপ্ন সফল হবে। সবার উৎসাহ আমাদের পাথেয়। আমি অাশাবাদী মানুষ, গ্লাস হাফ ফুল ভাবতেই পছন্দ করি। তবে ধারনা করার কারন নেই যে আমার অভিজ্ঞতাই সব শুধু গোলাপ ছড়ানো। এমন নয় যে সব কিছু হাংকিডরি যাচ্ছে। তবুও ভাবতেই চাই সেদিনের কথা, যেদিন অনেকেই তখন আবার দেশমূখী হবে মাটির টানে, মনের টানে, অর্থের টানে আর সামাজিক নিরাপত্তার আশায়।

 

যোগাযোগ: nhaque.geo@yahoo.com

 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT