Main Menu

বেতন ১৬ হাজার টাকা হলেই আয়কর রিটার্ন

আপনি কি চাকরি করেন? আপনার মূল বেতন কি ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে আপনাকে কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আর আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে জানাতে হবে বছরে কত টাকা আয় করেন, কোথায় খরচ করেন, তা-ও।

সবচেয়ে ভালো হয় মেলায় গিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে। সেখানে এ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়।

কিন্তু এর সঙ্গে কোনও টাকা জমা দিতে হবে কি? বা ১৬ হাজার টাকার বেশি বেতন হলে কত টাকার কর দিতে হবে? সেক্ষেত্রে আপনার করযোগ্য আয়ই বা কত?

এনবিআরের তথ্য বলছে, সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ ও করপোরেশনে চাকরি করলে কোনও কর্মচারীর মূল বেতন যদি বছরের কোনও এক মাসে ১৬ হাজার টাকা বা এর বেশি হয়; তবে ওই কর্মচারীকে রিটার্ন দিতে হবে। এর মানে হলো, বছরে যেকোনো একবার মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা স্পর্শ করলেই এনবিআরের জালে পড়ে যাবেন আপনি।

রিটার্ন দিলেও আয়ের ওপর কর আছে কি না, তা সরকারি কর্মকর্তা বুঝবেন কীভাবে? সাধারণত ১২ মাসের মূল বেতন, উৎসব বোনাস ও বৈশাখী বোনাস যোগ করে যদি আড়াই লাখ টাকার বেশি হয়; তবে কর দিতে হবে। করের হিসাব গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি বেতন আদেশভুক্ত একজন কর্মচারীর সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস (যে নামেই হোক না কেন) করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এর বাইরে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধাদি যেমন, বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা ইত্যাদি করমুক্ত থাকবে।

একজন সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে হিসাবটা এ রকম হতে পারে। ধরুন, রহিম সাহেব সরকারি চাকরি করেন এবং জুন ২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরে নিন্মোক্ত হারে বেতন ভাতাদি পেয়েছেন।

০১। মাসিক মূল বেতন ৩৫,৫০০

০২। মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৭০০ টাকা

০৩। উৎসব ভাতা ৭১,০০০ টাকা

০৪। বাংলা নববর্ষ ভাতা ৭,১০০ টাকা

০৫। রহিম সরকারি বাসায় থাকেন।

এবার আমরা নিচে ধাপে ধাপে তার করযোগ্য আয়, কর রেয়াত এবং কর দায় নির্ণয় করবো।

মোট করযোগ্য আয়

যেহেতু রহিম সাহেব সরকারি কর্মচারি তাই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শুধু মূল বেতন এবং উৎসব ভাতা ছাড়া আর কিছুই করযোগ্য আয়ের সাথে যোগ হবে না। অর্থাৎ চিকিৎসা ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত। আর তিনি যেহেতু সরকারি বাসায় থাকেন এবং এ বাবদ নগদ কোনও ভাতা পাচ্ছেন না তাই এই খাত থেকেও কিছু যোগ হবে না।

তাহলে মি রহিমের বেতন থেকে মোট করযোগ্য আয় হবে ৪,৯৭,০০০ টাকা (মূল বেতন ৩৫,৫০০X১২= ৪,২৬,০০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা= ৭১,০০০ টাকা)। এই টাকার উপর তাকে আয়কর দিতে হবে।

কর দায় পরিগণনা

আমরা জানি সাধারনত করমুক্ত সীমা ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ কোন করদাতার যদি করযোগ্য আয় ২,৫০,০০০ টাকা থাকে তাহলে তাকে কর দিতে হয় না।

ধরে নিলাম রহিম সাহেবের করমুক্ত সীমা ২,৫০,০০০ টাকা। তাহলে প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ২,৪৭,০০০ টাকার উপর ১০% হারে মোট আয়কর আসে ২৪,৭০০ টাকা।

আমরা কর রেয়াতের কথা শুনেছি যা করের পরিমাণ অনেকাংশে হ্রাস করে। কিন্তু কর রেয়াত পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ বা অনুদান দিতে হবে। কেবল তখনই করদাতা কর রেয়াত দাবি করতে পারবেন।

কর রেয়াত গণনা

একজন করদাতা সর্বোচ্চ কত বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন তা আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-তে বলা আছে। সেখানে তিনটি অংকের কথা বলা হয়েছে। তবে একজন ব্যাক্তি করদাতা তার করযোগ্য আয়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে পারবেন যার উপর নির্দিষ্ট হারে কর রেয়াত দাবি করতে পারবেন।

তাহলে করযোগ্য আয়ের উপর রহিমের সর্বোচ্চ বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১,২৪,২৫০ (৪,৯৭,০০০X২৫%) টাকা। ধরে নিলাম তিনি সম্পূর্ণ টাকাই বিনিয়োগ করেছেন। এই টাকার উপর তিনি ১৫ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাবেন। তাহলে কর রেয়াতের পরিমাণ হবে ১৮,৬৩৮ (১,২৪,২৫০X১৫ শতাংশ) টাকা।

নীট কর দায়

বেতন দেওয়ার সময় নিয়মমত উৎসে কর কেটে নেয়া হয়। ধরে নিলাম তার বেতন থেকে উৎসে মাসিক ৩০০ টাকা করে কর কেটে রাখা হয়েছে। তাহলে ১২ মাসে মোট ৩,৬০০ টাকা উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে।

তার মোট কর দায় ২৪,৭০০ টাকা। এ থেকে উৎসে কর এবং কর রেয়াত মিলে মোট ২২,২৩৮ (১৮,৬৩৮+৩,৬০০) টাকা বাদ দিতে হবে। বাদ দেওয়ার পর তার নীট কর দায়ের পরিমাণ হবে ২,৪৬২ (২৪,৭০০-২২,২৩৮) টাকা।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT