Main Menu

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু,স্টকহলম: আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্তl নুতন প্রতিষ্ঠিত ঐক্যজোট, যুক্তফ্রন্ট ও জোট বিহীন অন্যান্য দলগুলো নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের কাছে নানা দাবি তুলে ধরছেl সম্প্রতি তত্বাবধায়ক সরকারের নমুনায় নিরপেক্ষ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন ও কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছে ঐক্য পরিষদl দাবি দুইটি আদৌ যুক্তিসঙ্গত নয়l কারণ দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে আদালত বেগম খালেদা জিয়ার রায় দিয়েছেl আইন সকলের জন্য সমানl বেগম খালেদা জিয়া তাহলে তার বেতিক্ক্রম হবেন কেন? খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি এখানে আসবে কেন? দোষী প্রমাণিত হয়ে আদালত যাকে কারাদণ্ড দিয়েছে তাকে সরকার মুক্তি দিবে কেন? দেশের প্রচলিত আইন কি তাহলে খালেদা জিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়? খালেদা জিয়ার মুক্তি এতদিন বিএনপি একাই দাবি জানিয়ে আসলেও এখন ঐক্যজোটে যুক্ত হয়ে আবারো এই দাবি করছেl তাদের এধরণের দাবি কোনোভাবেই সরকার মানবে বলে মনে হয় নাl 

 

এদিকে তাদের দাবি না মানলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ঐক্যজোটl তবে রাস্তায় আন্দোলনে নামার মতো শক্তি যে তাদের নেই তা সরকার ভালো করেই জানেl আর যদি নামেও তাহলে কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে সরকার তাও জানেl ঐক্যজোটের এধরণের হুমকিকে সরকার তেমন একটা গুরুত্ব দিবে বলে মনে হয় নাl

ঐক্যজোটের দ্বিতীয় দাবি তত্বাবধায়ক সরকারের নমুনায় নিরপেক্ষ উপদেষ্টা পরিষদ গঠনl এর আগে দাবি জানানো হয়েছিল নির্বাচনকালীন সরকারের কথাl এধরণের কোনো দাবি সরকার মানবে নাl কারণ সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা তত্বাবধায়ক সরকার অথবা নিরপেক্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে সরকার গঠনের কথা কোথাও উল্লেখ নেইl সুতরাং বর্তমান সরকারের অধীনেই হতে হবে নির্বাচনl তাছাড়া সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তারা সবসময়ই বলে আসছেl এখান থেকে সরকার কখনই পিছে হাটবে নাl বর্তমান সরকারের অধীনেই হতে হবে নির্বাচনl  এই প্রশ্নে সরকার অটলl

 

২০১৩ পাঁচই জানুয়ারীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কি অবস্থা হয়েছে তা তারা ভালো করেই এখন উপলব্দি করছেl আবারো এধরণের একটা  বড় ভুল করলে নিজ  নিজ দলের অবস্থা কি হতে পারে তাদের জানা আছেl এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে নাl বিএনপি যদি এবার নির্বাচন বয়কট করে তাহলে দলটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিবেl দলের ভেতরে থাকা একটি গ্রূপ আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে গোপনে একত্রিত হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী দেবার সম্ভবনা রয়েছেl বিএনপি নির্বাচনে না গেলে খুব শিগ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্বপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছেl ভেতরে ভেতরে তারা নিজেদের কর্তব্য নির্ধারণ করছে। এই গ্রূপে বিএনপির সংস্কারপন্থির সাবেক সাংসদসহ বর্তমানে দলের অগ্রভাগের এমন অনেক নেতাও আছেন। সুতরাং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য যে দুইটি প্রধান দাবি ঐক্য জোট তুলে ধরেছে তা সরকার না মানলেও আগামী নির্বাচনে সব দলই অংশগ্রহণ করবেl বর্তমান সরকার বিষয়টা ভালো করেই জানেl কে অংশগ্রহণ করলো আর কে না করলো তা নিয়ে সরকারের তেমন একটা ভাবনা নেইl তবে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের চেয়ে আসছে নির্বাচন আরো ভালোভাবে করার একটা চেষ্টা সরকার অবশ্যই করবেl

 

দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বর্তমান সরকার সবসময়ই চাইবে সব দলের অংশগ্রহণে একটি  নির্বাচনl আপাতত সরকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে মাত্র। ঐক্যজোট যুক্তফ্রন্ট সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনা সরকারের গণতান্ত্রিক মনোভাবের একটি বহিঃপ্রকাশ বলা যায়l এখানে সরকারের কোনো দুর্বলতা নেইl এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন নির্বাচন প্রশ্নে অচিরেই বিএনপি ভাঙনের মুখে পড়বে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অনেক নেতা আছেন যারা দল ত্যাগ করতে পারেন। নির্বাচনকে  নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ভাঙ্গনের মুখে পড়বে কি-না তা নিশ্চিত না হলেও পর্দার আড়ালে চলছে জোর তৎপরতা। বেশ কিছুদিন ধরে ভেতরে ভেতরে দফায় দফায় তারা গোপন বৈঠক করছেন বলে জানা যায় l সূত্র মোতে  দলের এই নাজুক পরিস্থিতির কথা লন্ডনে তারেক রহমানের কানেও দেওয়া হয়েছেl জানা যায় তারেক রহমান প্রথম দিকে নির্বাচন বিমুখ থাকলেও এখন নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছেনl এই কারণে ভেতরে ভেতরে বিএনপি দলের প্রার্থী মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করে রেখেছেl তবে ঐক্যজোটের সাথে মিলে প্রার্থী দিলে বিএনপিকে অনেক দিক দিয়ে ছাড় দিতে হবে যা দলের অনেক নেতাই চান নাl তারা মনে করেন বিএনপি এখনো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলl বিএনপির একক জনপ্রিয়তা এখনো বর্তমানl সুতরাংএই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আগামী জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে আসার সম্ভবনা রয়েছেl

 

বিএনপি বিহীন ডক্টর কামাল হোসেনের ঐক্যজোট বাস্তবে কোনো আসন পাওয়ার ক্ষমতা রাখেনাl কাদের সিদ্দিকী, ডক্টর কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও আ স ম আব্দুর রবদের মতো রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা একেবারে শূন্যের কোটায়l বিএনপি বিষয়টা ভালো করেই জানেl সুতরাং নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে হটাৎ করে ঐক্যজোট থেকে তারা বেরিয়ে গেলে আশ্চর্য হবার কিছুই নেইl জেনে শুনে বিএনপি যদি ঐক্যজোটের ফাঁদে পা রাখে তাহলে দলটির ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে নাl মাঝখানে এরশাদের জাতীয় পার্টির পুনরায় সংসদে বিরোধী দলের আসন পাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিতে পারেl সুতরাং বিএনপি কি এমন ভুল করবে? অনেকের মতে বিএনপি যদি সত্যি সত্যি নির্বাচনে যায় তাহলে তাদের এককভাবেই অংশগ্রহণ করা উচিতl সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানে আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন তারা একইসাথে সংসদ ও সংসদের বাহিরে করার সুযোগ পাবেl বিএনপি আশাকরি এই সুযোগকে হাত ছাড়া করবে নাl

 

বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের একটা পরিকল্পনা অবশ্যই তৈরী হয়ে আছেl সময়মতো সরকার তাদের নির্বাচনী পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসবেl এই  কারণে ঐক্যজোটের কিছু কিছু দাবি মানার সম্ভবনা রয়েছে l তবে  নিরপেক্ষ  উপদেষ্টা পরিষদ গঠন ও বেগম  খালেদা  জিয়ার  মুক্তি প্রশ্নে তারা কখনই আপোষ করবে নাl আসছে নির্বাচনে সরকার জাতীয় সংসদে তাদের একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অবশ্যই চাইবেl তার সাথে চাইবে সংসদে বিএনপি, বিভিন্ন দল কিংবা ঐক্যজোট সহ যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধিত্বl আগামী নির্বাচনে এধরণের একটা সম্মিলিত সংসদ হলে বহি:র্বিশ্বে শেখ হাসিনার মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবেl রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে আগামী নির্বাচনে যারা অংশগ্রহনে বিরত থাকবে তাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হবে নাl পরবর্তী পাঁচ বৎসরের জন্য দলকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবেl সুতরাং কোনো দাবি তুলে নির্বাচন বয়কট না করাই হবে নিজ নিজ দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্তl 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT