Main Menu

ট্রাম্প আমেরিকাকে নয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে মহান পার্টিতে পরিনত করলেন

মোঃ শফিকুল আলম: ট্রাম্প ২০১৬-তে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমেরিকাকে পূনরায় মহান রাষ্ট্রে পরিনত করবেন। সাংবাদিকগন তাঁকে কখনও সাধুবাদ জানাননি।মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস এবং অনেকগুলো স্টেটে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিয়ে সাংবাদিকরা কি ট্রাম্পকে অভিনন্দিত করবেন?

 

২০১০ সাল থেকে নিম্ন কক্ষে (কংগ্রেস বা অন্যান্য দেশে পার্লামেন্ট হিসেবে পরিচিত) ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রন স্থাপন করতে সক্ষম হচ্ছিলেননা।এবারে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার পুরো ক্রেডিট এককভাবে ট্রম্পকে দেয়া যায়।ডেমোক্র্যাট লিডারদের উচিত পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অভিনন্দিত করা।

 

২০১৯ এর জানুয়ারীতে গঠিতব্য সকল হাউজ কমিটিগুলোর চেয়ারপার্সন হবে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান।ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হাউজের লেজিসলেটিভ্ এজেন্ডা নির্ধারণ করবে।ট্রাম্প এ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে ওভারসি করতে পারবে। এমনকি প্রেসিডেন্ট স্বয়ং সংবিধান বিরোধী উপায়ে কাউকে কোনো সুবিধা প্রদান করছেনকি-না তা-ও নিয়ন্ত্রন করতে পারবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

 

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকার ফলাফল বরাবর এরকমই ছিলো।জর্জবুশ শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে মহানই করেননি ২০০৮-এ ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াটাকে অনেকাংশেই নিশ্চিত করেছিলেন।আবার ২০১০-এ মি: ওবামা রিপাবলিকান পার্টিকে মহান করেছিলেন।তেমনি রোনাল্ড রিগানও মহান করেছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে।এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জনগন এমনভাবেই ভোট প্রদান করে থাকেন যে ক্ষমতার মধ্যে একটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।যেমন ডেমোক্র্যাটদের ম্যানেজ না করে প্রেসিড্ন্ট ট্রাম্পের এগুনোর কোনো সুযোগ নেই।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগনের অভিমত গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও রিপাবলিকান পার্টির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ্য হয়েছেন।অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিদের কেউ মরে গেছেন আবার কেউ অবসরে গেছেন।যেমন শক্তিশালী সমালোচক সিনেটর ম্যাককেইন মৃত্যুবরন করেছেন।

 

রিপাবলিকানরা এখন বিশ্বাস করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬-তে নির্বাচনি প্রচারে ঝড় তুলে হিলারি ক্লিন্টনকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে দু’পাশে ছিলেন তাঁরা বিজয়ী হয়েছেন।তাই ট্রাম্পকে রিপাবলিকানরা একমাত্র ট্রাম্প কার্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

আমেরিকার সংবিধানানুযায়ী ট্রাম্প ২০২০ নির্বাচনে জয়ী হলে ২০২৪ পর্যন্ত থাকবেন।২০২০ নির্বাচনে জিততে না পারলে ট্রাম্পকে চলে যেতে হবে।তারপরে এই GOP বা Grand Old Party-এর কি হবে এ নিয়ে রিপাবলিকানরা এখন অনেকটা চিন্তিত।এই প্রশ্ন এখন রিপাবলিকানদের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে।

 

রিপাবলিকান পার্টি এখন ট্রাম্পনির্ভর।চারবারের নির্বাচিত আলবামার সিনেটর এ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসনকে গত বুধবারে ট্রাম্প বরখাস্ত করলেন।জেফ সেসন কট্টরপন্থী রিপাবলিকান এবং খ্রীষ্টানদের একটা পিলার হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।ট্রাম্প মনে করেন মুলারের রাশিয়া স্ক্যান্ডেল ওভারসি করতে জেফ সেসন ব্যর্থ হয়েছেন।প্রেসিডেন্টকে রাগান্বিত করে কেবিনেটে থাকা অকল্পনীয়।বুধবারে ট্রাম্পের প্রেস কনফারেন্সের পূর্বে কেবিনেট মিটিং-এ স্পষ্টত: বললেন যারা আমার নীতি গ্রহন করে নির্বাচনি প্রচার করেছেন তারা বিজয়ী হয়েছেন; যারা করেননি তারা পরাজিত হয়েছেন।তিনি কেবিনেট মিটিং-এ আরও বললেন মিশৌরিতে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো প্রেসিড্ন্টের কোন্ পলিসি তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলোনা - উত্তরে সবাই সমস্বরে সব পলিসি তাদের পছন্দ বলে উত্তর এসেছে।অর্থাৎ ট্রাম্প এখন রিপাবলিকান পার্টির থেকেও অনেক বড়। তাঁকে ছাড়া রিপাবলিকান পার্টির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না।তারপরও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভোট না দেয়ার অর্থই হচ্ছে জনগন প্রথমত: প্রেসিডেন্ট এবং দ্বিতীয়ত: তাঁর দলকে পছন্দ করে নাই বা তাঁর অনু:সৃত নীতি গ্রহন করে নাই।

 

নির্বাচনের পরপরই আমেরিকান স্টক মার্কেটে পজিটিভ প্রভাব পড়েছে।গত ৩৬ বছরে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে আমেরিকার স্টক মার্কেটের সূচক এই প্রথম উর্ধ্বগামী রয়েছে।যদিও আট বছর পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা মেজরিটি পেলো তবুও আমেরিকার অর্থবাজার নির্বাচন পরবর্তী ট্রাম্পের ভাষনে খুশী হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদগন মনে করছেন।ইলেকশন আউটকাম অর্থবাজারের সাথে পুরোপুরি পজিটিভ রিএ্যাকশন করেছে।ট্রাম্পের যে কমেন্ট পজিটিভ রিএ্যাকশন তৈরী করেছে, “ডেমোক্র্যাটরা অবকাঠামোগত পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যনীতি এবং তারা যেটি আমেরিকার জন্য ভালো মনে করবেন সেই পলিসি নিয়ে আসবেন এবং আমরা তাদের সাথে নেগোসিয়েশন করবো।”

 

CommSec এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রেইগ জেমস মনে করেন ট্রাম্পের উপরোক্ত কমেন্ট ডাউ জোনসের সূচক ২.১% বৃদ্ধি করেছে, S & P এর বেড়েছে রেকর্ড ৪%।

 

প্রশ্ন হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় কি ২০২০ প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনেও বিজয় নিশ্চিত করে কি-না।ইতিহাস তা’ বলেনা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজয় সব সময় পরবর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করেনা।মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলেও বিল ক্লিন্টন এবং ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

ডেমোক্র্যাটরা লোয়ার হাউজে মেজরিটি পেলেও তাদের পছন্দ অনুযায়ী আইন পাশ করতে পারবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই; যেহেতু সিনেটে রিপাবলিকান মেজরিটি।বিল দু’টি হাউজে পাশ হলেই কেবল আইনে পরিনত হবে।তবে তারা জনগনের পক্ষে ইতিবাচক বিল আনায়ন করে যেমন-গান কন্ট্রোল ল’, হেলথ্ কেয়ার ল’ ইত্যাদি মিডিয়ার আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিনত করতে পারবেন।যেকোনো অনিয়মের তদন্ত ইনিশিয়েট করতে পারবেন।প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যালেন্স করতে পারবেন। আবার প্রেসিডেন্ট তাঁর পলিসি বাস্তবায়ন করতে চাইলে ডেমোক্র্যাটদের ম্যানেজ করেই লোয়ার হাউজে পাশ করাতে হবে।

 

তবে পরবর্তী ২০২০ নির্বাচনে key state গুলোতে ডেমোক্র্যাটদের নবনির্বাচিত গভর্নরগন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।স্টেটগুলোতে পজিটিভ নীতি নির্ধারণ করে জনগনের মতামত তাদের পক্ষে আনায়ন করতে সক্ষম হবেন।ইলেকট্ররাল কলেজগুলোর সীমানা নির্ধারণ পুরোপুরি গভর্নরদের ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তাঁরা ডেমোক্র্যাট মেজরিটি এলাকা কলেজের আওতাভুক্ত বা রিপাবলিকান এলাকা আওতামুক্ত করতে পারবেন।আমেরিকার গনতন্ত্রের সবচাইতে নেতিবাচক দিক এটা।এই নীতির ফলে গভর্নরগন জনগনের ভোটাধিকার হনন করতে পারেন।

 

এক বছরের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীগন তাঁদের প্রার্থীতার কথা জানাবেন।তহবিল সংগ্রহের নানা আয়োজন চলবে।এসময়ের মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে।পরিস্থিতি কতটা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যাবে বা পক্ষে থাকবে তা’ অনুমান করা সম্ভব নয়।তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই ডেমোক্র্যাটদের এক ধাপ এগিয়ে রেখেছেন এই মুহূর্তে সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT