Main Menu

সংলাপ সফল বা সফল নয়

মোঃ শফিকুল আলম:সংলাপ সফল কি সফল নয় তা’র এক কথায় জবাব দেয়া অনেকটা দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক হবে।২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনপূর্ব মুহূর্তের চিত্র এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনপূর্ব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।২০১৮ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজমান।নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে বিবদমান দু’টি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনা হবে সেটা একেবারেই অকল্পনীয় ছিলো।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

 

সংলাপ শুরুর একদিন পূর্বেও এমনকি সরকারের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিও জানতেননা যে দেশের প্রধান নির্বাহী সরাসরি বিরুদ্ধ শক্তির সাথে মুখোমুখি কথা বলবেন।আবার বিএনপি’র ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ এর যুদ্ধংদেহী মনোভাব বা সহিংস রাজনীতির অনুশীলন আর নেই।বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পূর্বেই তারা রাজনীতির স্বীকৃত অনুশীলনের ধারায় ফিরে এসেছে।

 

বিএনপি ড: কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সরকারি ঘরোনায় অনেকটা ইতিবাচক ধারনার জন্ম হওয়ায় অন্তত একটি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে যা’ স্বাধীনতার পর অনেকটা বিরল ঘটনা।ড: কামালের নেতৃত্বাধীন এই জোট আর যা’ই হোকনা কোনো সহিংস রাজনীতির ধারায় রাজনীতি প্রবাহিত করবেননা এটা অনেকটা অনুমান করা যায়।আইনবিদ ড: কামাল আইন অনুসরন করে চলবেন এটা সহজেই অনুমেয়।

 

কি কারনে সংলাপটি কাঙ্খিত ফলাফল আনায়ন না করতে পারে? সংলাপটি কাঙ্খিত ফলাফল আনায়ন না করলে রাজনৈতিক বাস্তবতার কতটুকুন পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যায়?

 

দু’টি প্রধান কারনে সংলাপটি কাঙ্খিত ফলাফল আনায়ন না-ও করতে পারে।কারন দু’টি আলাপের পূর্বে একটি কথা প্রনিধানযোগ্য।আর তা’ হচ্ছে দু’পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকৃতপক্ষেই একটি গ্রহনযোগ্য এবং সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছেন।এবারে কারন দু’টো উল্লেখ করা যাক্: প্রথমত: দু’পক্ষের মধ্যেই একটি চরম রক্ষণশীল রাজনীতিক গ্রুপ রয়েছেন যাঁরা কোনো ক্রমেই কোনো রকম ছাড় দিয়ে মীমাংসায় যেতে রাজী নন্।পৃথিবীর সব দেশেই এরকম একটি পক্ষ রয়েছে।তবে উন্নত গনতন্ত্রে তাঁদের প্রাধান্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম; তবে তাঁদের প্রভাব রয়েছে।অপরদিকে একটি উদার মধ্যপন্থী গ্রুপ চাচ্ছেন উভয়পক্ষ একটু করে ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর স্বার্থে একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানে যাওয়া উচিত।আমাদের দেশে চরমপন্থী অংশটি ক্ষমতাকে তোষন করে বিধায় তাঁদের প্রাধান্য অধিকাংশ সময়ে বেশী পরিলক্ষিত হয় এবং আলোচনা বা মীমাংসা বহুলাংশে ভেস্তে যায়।তাদের কাছে অবশ্য তাদের স্বার্থই বড়। দ্বিতীয়ত: যে বিষয়টি প্রথমটির পরিপূরক তা’ হচ্ছে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া মানেই পরাজয় এবং বিরোধীপক্ষের বিজয় যা’ মূলত: সরকার পক্ষকে দৌঁড়ে কয়েক ধাপ পেছনে ফেলে দেয়।দ্বিতীয় বিষয়টিকে কট্টরপন্থী অংশ প্রাধান্য দিয়ে সংলাপকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ করে দিয়ে থাকেন।

 

সংলাপ চলাকালীন এবং এখন পর্যন্ত দু’পক্ষের কথাবার্তায় শালীনতা বা সতর্কতা লক্ষনীয়।আনুষ্ঠানিক সংলাপ শেষ হলেও আলোচনা চলতে পারে দু’পক্ষ থেকে একরকমের আভাষ রয়েছে।আজকের প্রধানমন্ত্রী’র প্রেস কনফারেন্স স্থগিত করা এবং ঐক্যজোটের রোডমার্চ স্থগিত করার মধ্যে আলোচনা যে চলোমান রয়েছে এবং সমাধানের পথ যে খোঁজা হচ্ছে তা’ অনেকটা অনুমান করা যায়।তবে সমাধানটি এমন হওয়া উচিত যা’তে উভয় পক্ষ নিজেদেরকে বিজয়ী ভাবতে পারেন। তাতে পুরো জাতি বিজয়ী হবে।উভয় পক্ষের একটা যৌথ ঘোষনায় যুগপৎ নিজেদেরকে তথা জনগনকে বিজয়ী বলে ঘোষনা করা উচিত।নির্বাচনে এই ঘোষনাটিও একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে।তাদের এই প্রতিশ্রুতিও দেয়া উচিত যে তারা কোনো পক্ষকে বিজিত বলতে পারবেননা।

 

সংলাপে যদি কোনো গ্রহনযোগ্য সমাধানে না পৌঁছানো যায় তা’হলে কি হতে পারে? জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেনা? তারা কি আন্দলনে যাবেন? হ্যাঁ, তারা আন্দলনে যাবেন। তবে তথাকথিত সহিংস আন্দলনে যাবেননা।নির্বাচনে অংশগ্রহনই হবে তাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দলন।ড: কামাল হোসেন সহিংস আন্দলনে সম্মতি দিবেননা।বিএনপি করতে চাইলে ড: কামাল সরে আসবেন।বিএনপিও আর এই আন্দলনে যাবেনা।আমার ধারনা বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে।

 

সে ক্ষেত্রে সরকার পক্ষের জন্য কি চ্যানেন্জ রয়েছে? সরকার পক্ষকে অনেকগুলো চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হবে।নির্বাচনে সরকারকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হবে।সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে মনোনীত প্রার্থীদেরকে নিজ দল বা জোটের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মোকাবেলা করতে হবে।বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশ বিজয়ের সম্ভাবনা না দেখলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে হাত মিলিয়ে নিজ দল বা জোটের প্রার্থীদেরকে পরাজিত করার চেষ্টা করবেন।বিদ্রোহী প্রার্থী এবং মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যকার বিভেদ সহিংস রূপ নিবে এবং আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে।প্রতিপক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিবে।নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটার সম্ভাবনা তৈরী হবে।নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ না হলে বিরোধীপক্ষ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আন্দলনের প্রেক্ষাপট তৈরী করতে পারে।

 

সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আনায়ন করা গেলে বরং সরকার লাভবান হতে পারে।এক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব জনগন ইতিবাচকভাবে নিবে এবং সরকার প্রধানের ইতিবাচক ইমেজ সরকারী জোটকে অধিক সুবিধা প্রদান করবে। অন্যদিকে নিজ দল এবং জোটের মধ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আবহাওয়া তৈরী হবে।এই অবস্থায় নিয়মের বাইরে যাওয়ার প্রবনতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমে আসবে। দল এবং জোটের প্রতি অনুগত থেকে মনোনীত প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করে ক্ষমতায় থেকে বরং নিজের চামড়া বাঁচানোর চেষ্টা করবেন।

 

সর্বশেষ রাজনীতির যে একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরী হয়েছে একটি সমঝোতায় পৌঁছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার স্থায়ীত্ব দিবেন তা’ অন্তত বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছেই জাতি প্রত্যাশা করতে পারে।গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে ড: কামালের চিঠিতে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন; সংলাপের ইতিবাচক ফলাফল ঘোষনা করে তিনি আরেকবার জনগনের বিজয় নিশিত করবেন বলে আমার প্রত্যাশা রইলো।সকল অশুভ শক্তির বিনাশ হোক।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT