Main Menu

মেলবোর্নে বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও শিক্ষক সমাবেশ

ড: নওশাদ হক, মেলবোর্ন:  ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অষ্ট্রেলিয়ার পুরোনো এবং মেলবোর্নে অবস্থিত বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় আয়োজিত অভিভাবক ও শিক্ষক সমাবেশ উপলক্ষে একাডেমিক ও কালচারাল নাইট কার্যক্রম করা হয়েছিল গত ৩রা নভেম্বর নটিং হিল কমিউনিটি হলে। উম্মে কুলছুম শাপলা ও ডাঃ আতিয়া খানম এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। উপস্থাপিকাগণ বাংলা স্কুল এর সভাপতি ড: নওশাদ হক কে অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করেন। 

 

ড: নওশাদ হক সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কুল সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে বলেন। বাংলা স্কুল এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদেরকে বাংলা ভাষা পড়া, লেখা, বোঝা এবং সর্বোপরি সবার সাথে কথা বলতে পারার দক্ষতা শেখানো। তবে এটা এখানে জন্ম নেয়া এবং বড় হওয়া ছেলে মেয়েদের জন্য আকর্ষণীয় করা আর আনন্দের সাথে শেখানো সহজ কাজ নয়। এজন্য নতুন এবং রকমারি মাধ্যম ব্যাবহার করে এটা শেখাতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশ এর বিভিন্ন বিষয় নির্বাচন করে তার উপর গবেষণা ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে পোস্টার তৈরী করা ও তার উপর দলগত উপস্থাপনা একটা প্রধান আইটেম ছিল এই অনুষ্ঠানে। 

 

এই বাংলা স্কুলটি সাম্প্রতিক ভিক্টোরিয়ান সরকারের নতুন বড় আকারের সংবিধির আওতায় সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। এজন্য স্কুলের কমিটি কে অনেক পরিশ্রম ও নতুন দলিল, নিয়ম কানুন তৈরী করতে হয়েছে। 

ড: নওশাদ হক বাংলা স্কুলের কিছু নতুন উদ্যোগের উপর আলোকপাত করেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন স্কুল পোর্টাল যেটা এরকম ভাষা ভিত্তিক স্কুল গুলোর মধ্যে শুরু আর অনুকরনীয়। আরেকটি প্রকল্পের ধারণা হলো মেলবোর্নে ভাষা ও বর্ণমালা ভিত্তিক জাদুঘর বানানো বাংলা স্কুল এর নেতৃত্বে। 

 

আগামী ২০১৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী বাংলা স্কুলের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে প্রতি বছরের মতো সারাদিন ব্যাপী মেলবোর্নের চাঁন্ডলার কমিউনিটি সেন্টারে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস কে উপলক্ষ করে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এজন্য বাঙালী কমুনিটির অভিবাসীরা পৃথিবীর দেশে দেশে বড় বড় শহরে এ অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। আর বাংলাদেশে জাতীয় ছুটি সহ অনেক ভাব গাম্ভীর্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার মধ্যে দিয়ে ভাষা শহীদ দের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। 

সাম্প্রতিক কালে বাংলা স্কুল ভিক্টোরিয়ান রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রীর বিভাগ থেকে একটি ছোট আকারের গ্রান্ট বা অনুদান পেয়েছে অনুষ্ঠানটি করার জন্য। যেহেতু বাঙালী কমিউনিটি এই দিনটি অত্যন্ত গুরত্বের সাথে পালন করে তাই আমরাই ভাষা সংক্রান্ত জাদুঘরের সবচেয়ে যোগ্য পৃষ্ঠপোষক হতে পারি। এ বছর থেকে আমরা অন্য ভাষাভাষী লোকজনকে নিয়ে আসার চিন্তা করেছি সমাজে মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরতে। বাংলা স্কুল সফল ভাবে চালাতে ও এই ভাষার যাদুঘর করার জন্য বিত্তবান সদস্য ও সবার কাছে অর্থ ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য স্কুলের সভাপতি আবেদন জানান। এসব কার্যক্রম এর মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জনসচেতনতা মেলবোর্নে ও ভিক্টোরিয়ার সরকারে বাড়ানোর গুরুত্ব নিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।   

 

এরপর ড: নওশাদ হক ভিক্টোরিয়ান রাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির উদীয়মান জাতীয় নেত্রী সোহেলি সানজিদা কে এখানে ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখানোর গুরুত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে তার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে কিছু বলতে অনুরোধ করেন। 

 

সোহেলি তার বক্তব্যে ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনার তাগিদ দিয়ে বলেন এখানে কেও আমাদের ছেলেমেয়েদের কাছে অস্ট্রেলিয়ান বিষয়ে বিশেষ কিছু আশা করবে না কারণ তারা এখানে তাদের স্কুলে অস্ট্রেলিয়ান মূল্যবোধ নিয়ে বড় হবে, ইংলিশ তাদের প্রথম ভাষা। কিন্তু বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষতা তাদের অতিরিক্ত গুন হিসেবে কর্মক্ষেত্রে অনেক খানি রসদ যোগাবে এবং বিশেষত্ব্রের নির্ধারক হবে।

 

তারপর ড: নওশাদ হক বাংলা স্কুলের প্রাক্তন সভাপতি ড: লুৎফর খান কে বাংলা ভাষার যাদুঘরের ধারণা নিয়ে বলতে অনুরোধ করেন। ড: লুৎফর খান এই উদ্যোগে কে স্বাগত জানিয়ে শ্রম ও বুদ্ধি দিয়ে তার যথাসম্ভব সাহেয্যের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সোহেলির বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন এই অস্ট্রেলিয়া তে আমরা যেহেতু একটু পিছিয়ে আছি অন্যদের তুলনায় আমাদের দ্রুত উঠার সুযোগ টাও রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে উপস্থাপিকাগন শিক্ষিকাগণকে - ডা: সোহেলি সেতু, ফারজানা তনিমা, মাহবুবা মুন্নি ও পূরবী চৌধুরী কে পরিচয় করান। শিক্ষিকাগন বলেন তাদের নিজেদের সম্পর্কে, স্কুলের কাজ তারা কেমন উপভোগ করেন, এবং কিভাবে তারা অভিভাবকদের সাহায্য নিয়ে তাদের সর্বোচ্চ্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের শেখাতে চান।

 

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ছাত্র ছাত্রীদের বিষয় ভিত্তিক উপস্থাপনা। বাংলাদেশের পর্যটন ভিত্তিক প্রধান আকর্ষনীয় জায়গাগুলি, পহেলা বৈশাখ, খেলাধুলা, জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় বিষয় সমুহ ইত্যাদি বিষয়ের উপর তারা খুব সুন্দর পোস্টার প্রদর্শনী ও উপস্থাপনা করেন। করবী, জারাহ, রচিতা ও জামিউর ও তাদের দলের সদস্যরা প্রত্যেককে তাদের নিজেদের অংশ নিয়ে বাংলায় বর্ণনা করে। দর্শকগণ এই পর্ব বেশ উপভোগ করেন এবং তাদের মতামত দেন কিভাবে এগুলো আরো আকর্ষনিয় করা যায়। এ বিষয়ে বাংলা স্কুলের ওয়েবসাইটে স্কুল নিউজলেটার এ বিস্তারিত রয়েছে, ঠিকানা – www.blcsmel.org ।

 

বাংলা স্কুলের নিউজলেটার সেতু বছরে কয়েকবার প্রকাশিত হয়। এবারের সংখ্যায় বাচ্চাদের পোস্টার, লেখা, আর্টওয়ার্ক, ড্রয়িং, অভিভাবকগণের লেখা ইত্যাদি রয়েছে, আশা করি সবার ভালো লাগবে।

 

তারপর অনলাইন পোর্টালের উপর বিস্তারিত বর্ণনা করেন জাবীন ইউসুফ নূর যিনি এই পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যাবহারকারী হিসেবে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জনাব শফি ও মাহবুব আমিন অভিজ্ঞতা ভাগ করেন সবার সাথে। মাহবুব আমিন স্কুলের সাধারণ সম্পাদক এবং এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পুরো দায়িত্বে ছিলেন।

 

এরপর শুরু হয় বিশেষ আকর্ষণ সাংস্মৃতিক অনুষ্টান। ছড়াগান, রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ, কাজী নজরুল ইসলামের লিচু চোর ওর খুকি ও কাঠবেড়ালির আবৃতি ও অভিনয় করে ছেলেমেয়েরা। ছাত্র ছাত্রীদের পরিবেশনা উপস্থিত সবার মন কাড়ে। 

 

সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করার জন্য সভাপতি ড: নওশাদ স্কুলের প্রাক্তন সভাপতি ড: আখতার আহমেদ, ড: লুৎফর খান ও পৃষ্ঠপোষক ড: মোর্শেদ চৌধুরী কে অনুরোধ করেন। 

 

সব শেষে সবার সমবেত কণ্ঠে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্কুলের সহসভাপতি ড: শামসুজজোহা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ এবং নৈশ ভোজনের আমন্ত্রণ জানান।

 

আমাদের দেশটা স্বাধীনতা অর্জন করে ভাষার ভিত্তিতে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির প্রতি আমাদের মমত্ব প্রশ্নাতীত। আমরা চাই বাঙালী জনগোষ্ঠী যেখানেই থাকুক দেশ ও পৃথিবীর উন্নয়নে অবদান রাখুক, ভালো থাকুক, এবং আরো উন্নতি করুক। এই কাজে আমরা আপনাদের সাহায্য চাই বিশেষ করে আমাদের প্রিয় ভাষা ও বর্ণমালার যাদুঘর তৈরির জন্য। আমরা অর্থ সাহায্য, শ্রম ও বুদ্ধির বিনীত পরামর্শ চাচ্ছি। যারা প্রথম সাহায্য করবেন তাদের নাম সম্মাননা তালিকায় স্থান পাবে। আমাদের সাথে যোগাযোগের ইমেইল ঠিকানা blcsmelb@gmail.com


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT