Main Menu

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শেষ, যা হলো

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শেষ হয়েছে। বুধবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংলাপ শুরু হয়।

সূচনা বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ সুন্দর করে সফল হওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ৪ প্রস্তাব দিয়েছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবগুলো হলো:

১. বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি
২. প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেওয়া
৩. ১০ সদস্যের নিরদলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও
৪. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন

নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

একটি সূত্র জানায়, কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপের গণভবনে এসে লিখিতভাবে এ প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। জবাবে বলেছে, এটা সংবিধান সম্মত না, এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি আবারও জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

যারা ছিলেন

আজ সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের ১১জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন। তারা হলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

সংলাপে সরকারের পক্ষে ছিলেন— আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মণি, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, স ম রেজাউল করিম,রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। তাদের নেতৃত্বে থাকবেন শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণভবনে পৌঁছান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে গণবভনে প্রবেশ করেন ড. কামাল হোসেন।

এর কিছু সময় পরেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গণভবনে প্রবেশ করেন।

এরপর একেএকে প্রবেশ করেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত ‌চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহ‌সিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মা‌লেক রতন ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম।

৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সংলাপের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সংলাপে কারা অংশ নেবেন তাদের নামও ঠিক করা হয়।

খাবারের মেন্যু

গত সংলাপের মতো আজও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। চা-কফিসহ অন্তত ১০ ধরনের খাবারের আইটেম রাখা হয়েছে মেন্যুতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আজকের খাবারে মেন্যুতে ছিল— স্ন্যাক্স, চিংড়ি ভাজা, স্যান্ডউইচ, নুডুলস, চিকেন রোল, ভেজিটেবল রোল, ফিশ কাটলেট, ফল, বিভিন্ন ফলের জুস এবং চা ও কফি।

এর আগে ৩১ অক্টোবরও গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ হয়। সেদিন খাবারের মেন্যুতে রাখা হয়েছিল— পিয়ারু সরদারের মোরগ পোলাও, চিতল মাছের কোপ্তা, রুই মাছের দো-পেঁয়াজা, চিকেন ইরানি কাবাব, বাটার নান, মাটন রেজালা, বিফ শিক কাবাব, মাল্টা, আনারস, জলপাই ও তরমুজের ফ্রেশ জুস, চিংড়ি ছাড়া টক-মিষ্টি স্বাদের কর্ন স্যুপ, চিংড়ি ছাড়া মিক্সড নুডলস, মিক্সড সবজি, সাদা ভাত, টক ও মিষ্টি উভয় ধরনের দই, মিক্সড সালাদ, কোক ক্যান এবং চা ও কফি।

‘প্রত্যাশা পূরণের’ বার্তা

সংলাপে বসার আগে সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উভয়েই ‘প্রত্যাশা পূরণের আশাবাদ’ ব্যক্ত করেন। প্রথম দফায় অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েই দ্বিতীয় দফায় সংলাপ হয় বলে জানা যায়।

নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যে ধারাবাহিক সংলাপ চলছে, তার মধ্যে শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেই দ্বিতীয় দফায় সংলাপ হলো ক্ষমতাসীনদের।

এর আগে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার, সভা-সমাবেশের বাধা না দেওয়া ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন নেতারা। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে কিংবা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়গুলো অমীমাংসিত রয়ে যায়। আজকে সেইসব বিষয়েই আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১ নভেম্বর শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল গণভবনে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংলাপে বসে। সেদিন সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে তাঁদের সাত দফা দাবি উত্থাপন করলেও সভা-সমাবেশ নিয়ে কিছু ভালো কথা শোনা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান পাননি।

এরপর ছোট পরিসরে সংলাপের জন্য গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এরই অংশ হিসেবে আজ দ্বিতীয় দফা সংলাপ হয়।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT