Main Menu

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব ছড়াতে সক্রিয় উগ্র ডানপন্থীরা

 যুক্তরাজ্যের উগ্রপন্থী ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী টমি রবিনসন গত সপ্তাহে লন্ডন শহরের একটি জনসভায় একত্রিত হওয়া তার অন্তত ১,০০০ জন সমর্থকদের উদ্দেশ্য দেয়া এক বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর মধ্যে ইসলামের প্রভাব ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশটির সেনাদের উপর থেকে ইসলামি প্রভাব কমানোর জন্য দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি তার সমর্থকদেরকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে একটি পিটিশন জমা দেয়া আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি এর মাধ্যমে আমাদের সেনা সদস্যগণ কিছুটা হলেও সচেতন হবেন।’

রবিনসনের আসল নাম হচ্ছে স্টিফেন ইয়াক্সলে লেনন যিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে তার বর্তমান পিটিশনটির কার্যক্রম শুরু করেছেন যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর মধ্যে তার কিছু গৌড়া সমর্থক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।

 

তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্রিটিশ আর্মির মধ্যে থেকে উগ্রপন্থী সেনাদের তার দলে ভেড়ানো এবং এ সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে রবিনসনের এ উদ্যোগের ফলে, উগ্রপন্থী নাগরিকদের চাইতেও উগ্রপন্থী সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

লন্ডন ভিত্তিক উগ্রপন্থা-বিরোধী সংগঠন ‘Institute for Strategic Dialogue’ এর গবেষক জ্যাকব ডেভেই বলেন, ‘সেনাবাহিনীর নিকটে যেসব অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে এবং তাদের যে প্রশিক্ষণ রয়েছে তাতে করে তাদেরকে কোনো অতি ডানপন্থী সংগঠন বা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনে যুক্ত করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুতর হুমকির কারণ।’

সেনাদের উদ্দেশ্য টমি রবিনসনের প্রচারণা
টমি রবিনসন তার বর্তমান প্রচারণাটির নাম দিয়েছেন- ‘I am Soldier X’ এবং দেখা যাচ্ছে যে, তার প্রচারণাটি কিছুটা হলেও জনসমর্থন লাভ করেছে। তার পিটিশনটিতে ইতোমধ্যেই ১৯০,০০০ টি সাক্ষর সংগ্রহ করেছে বলে রবিনসনের দাবী। তার দলে যুক্ত হওয়া ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সেনাদের অনেকেই রবিনসনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইটারে হ্যাশ ট্যাগ যুক্ত করে পোস্ট দিচ্ছে। ‘#IAmSoldierX’ এই হ্যাস ট্যাগটি ইতোমধ্যেই ৬৫,০০০ হাজার বার ব্যবহৃত হয়েছে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, ‘টমি মীমাংসিত বিষয়গুলোকে তার প্রচারণায় ব্যবহার করছে এবং এর মাধ্যমে সে তার সমর্থকদের মধ্যে মুসলিম বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলছে।’

‘Veterans Aid’ নামক চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান হুব মিলরোয় ভাইস নিউজকে বলেন, সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যগণ যাতে রবিনসনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হন তার জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি অতি ডানপন্থী কিছু সংগঠনের কাছ থেকে তার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাগণ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ‘আমাদের সেনাদের মধ্যে কোনো ধরনের উগ্রপন্থা আমরা কখনো মেনে নেবো না এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের কিছু কঠিন পন্থা রয়েছে।’

কিন্তু রবিনসনের সমর্থকরা ভিন্ন আরেকটি গল্প শোনায়। আর তা হচ্ছে তারা সেনাসদস্যদের মধ্যে দেশপ্রেম ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন।

যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য জেরেমি স্পেন্সার যিনি গত সপ্তাহে রবিনসনের আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি দাবী করে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর অন্তত অর্ধেকের বেশী সদস্য রবিনসনের সাথে রয়েছেন।’

বিচ্ছিন্নতার একটি রূপ
রবিনসন ২০০৯ সালে ‘English Defence League (EDL)’ নামক মুসলিম বিরোধী একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে যার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের মুসলিম এবং ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

‘English Defence League (EDL)’ প্রতিষ্ঠা হওয়ার চার বছর পরে লন্ডনের একটি ব্যস্ত রাস্তায় কিছু উগ্রপন্থী মুসলিমদের হামলায় লি রগবে নামক একজন সেনা সদস্যের মৃত্যু হলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

সেসময় রবিনসনের উদ্যোগে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রবিনসন বলেন, ‘আমরাই হচ্ছি একমাত্র দল যারা ইসলামি আদর্শের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস রাখি।’

দলটির ‘Armed Forces Division’ ডিভিশন নামের একটি শাখার ফেইসবুক গ্রুপে অন্তত ১৩,০০০ অনুসারী রয়েছে। ‘Veterans Against Terrorism’ নামের অতি ডানপন্থী আরেকটি দলের ফেইসবুক গ্রুপে অন্তত ১৬,০০০ জন সদস্য রয়েছে এবং তারা রবিনসনের সাম্প্রতিক প্রচারণায় ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এধরনের প্রচারণা ব্রিটিশ সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরী করে দিচ্ছে এবং তা বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

রবিনসনের মুসলিম বিরোধী প্রচারণা এতই ছড়িয়ে পড়েছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তার প্রমাণ হচ্ছে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বক্তব্য দেয়ার জন্য রবিনসনের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি আমন্ত্রণপত্র।

গত বছরে লন্ডনের একটি মসজিদের বাহিরে জনসমাগম স্থলে গাড়ি চালিয়ে একজন মুসলিম হত্যা করা হয় এবং আরেকজনকে গুরুতর আহত করা হয়। ডারেন ওসব্রোণ নামের ওই হামলাকারী পরবর্তীতে জানিয়েছিল যে, তিনি রবিনসনের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য সম্প্রতি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তিনি রবিনসনের দলে সেনা সদস্যদের ভেড়ানোর জন্য স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়েছেন। আরেকজন সাবেক সেনা সদস্য রবিনসনের দলের সাথে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে ৮১,০০০ হাজার নিয়মিত সেনা সদস্যের মধ্য থেকে অন্তত ৫ জন সেনা সদস্যকে উগ্রপন্থায় জড়িত থাকার দায়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ার ধোঁয়াশা
নেইল বাসু যিনি যুক্তরাজ্যের একজন উচ্চপদস্থ সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকর্তা একথা স্বীকার করেছেন যে, গত সপ্তাহে তিনি যুক্তরাজ্যের আইনসভায় সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত সেনা ৭০০ জন সেনা সদস্যের ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন।

যদিও ইসলামি উগ্রপন্থীদেরকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করা হয় কিন্তু ৮০ শতাংশ তদন্তে এ বিষয়টি উঠে এসেছে যে, উগ্রপন্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অতি ডানপন্থী সংগঠনগুলোর সাথে যুক্ত রয়েছে।

নেইল বাসু বলেন, সরকারি হিসেব মতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘৃণা ছড়ানো মূলক অপরাধ ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে এবং এগুলোর অর্ধেকের বেশী মুসলিমদের বিরুদ্ধে হয়েছে।

‘আমার মতে এইসমস্ত ঘটনার পেছনে দুটো আদর্শ কাজ করে এবং তারা সকলেই বিপথগামী আর তারা একে অপরকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত রয়েছে।’ -শেষে তিনি এমনটি বলেন।

সূত্রঃ ভাইস ডট কম।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT