Main Menu

কেনো অস্ট্রেলিয়াকে আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে প্রতিকুল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে হবে?

অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড পরিমান অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্বেও আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় বহি:স্থ প্রতিকুল অবস্থার ঝুঁকি মোকাবেলায় এক ধরনের কঠিন লড়াই করতে হবে।

 

গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্যানেল ডিসকাশন ছিলো।বিষয়বস্তু ছিলো কিভাবে বহি:স্থ প্রতিকুল অবস্থা মোকাবেলা করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা থেকে অস্ট্রেলিয়া রক্ষা পেতে পারে।অন্য সকল বিষয়ের থেকে এটি এখন প্রধান আলোচনা।এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপনার চেয়ারপার্সন Heather Ridout, শ্যাডো ট্রেজারার Chris Bowen (নির্বাচনী জরিপে যিনি আগামী সরকারের ট্রেজারার বা বাংলাদেশে যাকে অর্থমন্ত্রী বলা হয়) এবং ফিক্সড ইনকাম এ্যান্ড কারেন্সি স্ট্রাজিস এর স্থানীয় প্রধান Sally Auld উপস্থিত ছিলেন।

 

তাঁরা প্রধানত: যে সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন তা’হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসছে।চীন-মার্কিন বানিজ্যিক বিরোধ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে মুষ্টাঘাত করবে।এমনকি চায়নার পূনর্বার প্রনোদনামূলক কর্মসূচীও কোনো ফল বহন করবেনা যেটি এক দশক পূর্বে হয়তো কাজ করেছিলো।Chris Bowen সিডনির ব্লুমবার্গ অফিসে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে তাঁর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন বর্তমানের চীন-মার্কিন বিচ্ছিন্ন বানিজ্যিক বিরোধ যদি স্থায়ী রূপ নেয় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পরিমান হবে অকল্পনীয়।

 

বিগত ২৭ বছর অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।যথাযথ ফিসকেল পলিসির কারনে এবং চায়নার বিশাল বাজারে অস্ট্রেলিয়ার পন্যের চাহিদার অনেকটা ঢেউ তুলে ২০০৯-এ অস্ট্রেলিয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা কোনো রকমে পাশ কাটিয়েছিলো।সেক্ষেত্রে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রনোদনা প্যাকেজ অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলো।

 

আলোচকদের মতে, বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অস্ট্রেলিয়া বিশাল চায়নার বাজারের ওপর নির্ভরশীল এবং একই সাথে গত ৭০ বছর ধরে মার্কিন বানিজ্যের বৃহত্তম পার্টনার অনেকটা স্যান্ডউইচের ভেতরের মাংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে - যেহেতু চীন-মার্কিন বানিজ্যিক লড়াই চরমে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Sally Auld বলেন গত দু’দশকের চীন-মার্কিন বানিজ্যিক টানাপোড়েন ছিলো এই যুগে অকল্পনীয়।তিনি মাত্র মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ঘুরে এলেন এবং তাঁর মতে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা অবশ্বম্ভাবী হয়ে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্যাক্স-কাট পলিসির ফলে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে।কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতি তার থেকে বেশি হারে বাড়ছে।ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।অন্যদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি করে যাচ্ছে কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমছেনা।ফেডারেল রিজার্ভ যদি অব্যাহতভাবে সুদের হার বাড়াতে থাকে তবে মার্কিন অর্থনীতিতে বিনিয়োগ কমবে যা’ খুব শীঘ্রই এবং দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

অস্ট্রেলিয়ান সুপার ফান্ড ব্যবস্থাপনার চেয়ারপার্সন এবং সাবেক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড মেম্বার Heather Ridout এর মতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ লক্ষ্য অতিক্রম করবে যখন বিশেষজ্ঞগন বলছেন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি বন্ধ করা উচিত; কারন দীর্ঘ সময়ের জন্য মনিটরি পলিসি কাজ করবেনা।

 

প্যানেলের সবাই একমত যে একই সাথে চীন-মার্কিন বানিজ্যিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ যারা অর্থনীতির বিভিন্ন রেগুলেনস এর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে তাদের মধ্যে মতভিন্নতা যুগপৎভাবে অর্থনৈতিক মন্দা ত্বরান্বিত করবে।

 

চায়না এককভাবে অস্ট্রেলিয়ান রপ্তানির ৩৫% কিনে থাকে যা’ অস্ট্রেলিয়ার মোট অভ্যন্তরীণ (GDP - Gross Domestic production) উৎপাদনের ৮%।চায়নায় রপ্তানিকৃত দ্রব্যের মধ্যে আয়রন ওর এবং এডুকেশন অন্যতম প্রধান দু’টি পন্য।

 

Chris Bowen বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন গত এক শতাব্দীতে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ট বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সাথে যতটুকুন না বানিজ্য হয়েছে তার থেকে অধিক পরিমান হয়েছে বন্ধু হিসেবে পরিচিত নয় এমন রাষ্ট্রের সাথে।

 

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি বানিজ্য নির্ভর।এক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যা তৈরী হলে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।২০০৮/৯ এর গ্লোবাল রিসেসনের সময় চায়না তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৭% প্রনোদনা দিয়েছিলো যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার মোট রপ্তানির ৩৫% পন্য চায়না তখনও ক্রয় অব্যাহত রেখেছিলো এবং অস্ট্রেলিয়া রিসেসন এসকেপ করতে পেরেছিলো।এবারে চায়না নিশিচয়ই সেটা করবেনা বা করতে সক্ষম হবেনা।সুতরাং অস্ট্রেলিয়াকে তার নিজস্ব কৌশলে আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

ব্লাকরক বিশ্বের অন্যতম ঋণদান কোম্পানী যার নগদ তহবিলের পরিমান 6.4 trillion মার্কিন ডলারেরও অধিক।ব্লাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারী ফিংক বিশ্বের ফাইনান্সিং জগতের অন্যতম আলোচিত নাম, দেখতে পাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন হয়তো পুরোমাত্রায় ট্রেডওয়ারে লিপ্ত হবে।ট্রাম্প আমেরিকা থেকে চায়নায় রপ্তানিকৃত ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের পন্যের ওপর ট্যারিফ আরোপ করেছেন এবং বিপরীতে চায়না ১১০ বিলিয়ন ডলারের পন্যের ওপর ডিউটি আরোপ করেছে।

 

অবশ্য ট্রাম্প গত বৃষ্পতিবারে ট্যুইটারে বলেছেন যে তাঁর সাথে চাইনিজ প্রেসিডেন্ট জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং এ মাসের শেষে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য G-20 সম্মেলনে দু’দেশের সাথে আলোচনা হবে।

 

ফিংকের মতে আমেরিকা যেহেতু চাইনিজ আমদানির ওপর লেভি ধার্য করেছে সেহেতু চায়না যেকোনো সময়ে মার্কিন ট্রেজারী বন্ড ক্রয় বন্ধ করে দিতে পারে।এর ফলে আমেরিকার বর্ধিত ঋণ পরিশোধ করা অবশ্যই কষ্টকর হবে; কারন বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ আমেরিকাকে ঋণ পরিশোধে নগদ অর্থের যোগান দিয়ে থাকে।

 

প্যানেল আলোচকগণ আমেরিকা এবং চীনের বানিজ্যিক যুদ্ধ এবং ফলস্বরূপ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়াকে পদক্ষেপ হিসেবে এশিয়া , ইউকে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশসমূহের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক ঘনিষ্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT