Main Menu

অতিরিক্ত ভাত খাওয়া দেহে নানান রোগের কারণ!

ভাত খাওয়া নিয়ে সমস্যা নেই কিন্তু বৈজ্ঞানিক মতে অতিরিক্ত ভাতের যোগান শরীরে নানা সমস্যা তৈরি করে। যা সম্পর্কে জানা না থাকলে অবশ্যই জেনে নিন। অতিরিক্ত ভাত খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। ভাত বেশি পরিমান খেলে শরীরে ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ধমনীতে রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা দেয় ওজন বেড়ে গেলে। হজম হবার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ঠিক ভাবে হজম হয় না ফলে পাচনপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে না। ওজন বেড়ে গেলে খাবার শরীরের ভিতরে গিয়ে বিভাজিত হয় না ঠিকঠাক, সেই জন্য হজমের সমস্যা দেখা দেয়। ভাত শরীরের কার্বোহাইড্রেট মেটাবোলিজম কমিয়ে দেয় ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

যদি নানান রোগের থেকে বাঁচতে চান তাহলে ভাত খাওয়া কমিয়ে দিন। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তাররা দেখেছেন যে অনেক সময় শুধুমাত্র অতিরিক্তভাত খাওয়ার ফলে নানা রোগের আবির্ভাব হয়। এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও একথা প্রমাণিত।

এশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ জায়গায় ভাত প্রধান খাবার। ৮৫% জায়গায় ভাত প্রধান খাবার হিসেবে মানুষ উপভোগ করে থাকে। ভাত খাওয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, যে ভাত খেতে হলে একেবারে কম পরিমান খাওয়াই উচিত। কিছুদিন ভাত না খেয়ে থাকুন দেখবেন হজমের সমস্যা, ওজন বেড়ে যাওয়া সব কমে যাবে। শরীর ফিট থাকবে।

অতিরিক্ত ভাত শরীরের ভিটামিন, আয়রনের বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করে। আপনার ডায়েটে যদি অধিক মাত্রায় ভাত থাকে তাহলে আপনার শরীরে ভিটামিন বি হ্রাস পাবে। শরীর থেকে জিঙ্ক অপসারিত হতে থাকবে যা শরীরের জন্য ভালো না। যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমান ভাত খাওয়ার অভ্যেস থাকে তাহলে তা একেবারে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ভাত খাওয়ার পরিমান কমানো সম্ভব।

মানবদেহের শক্তির মূল উৎস শর্করা, কার্বোহাইড্রেট, চিনি। কিন্তু অধিক মাত্রায় এগুলি শরীরে থাকলে শরীরে সমস্যা তৈরি হয়। কার্বোহাইড্রেট শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানের বেশি থাকলে শরীর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাত অরিতিক্ত পরিমান খেলে দেহে শর্করা, চিনি, কার্বোহাইড্রেট বেড়ে যায় ফলে নানারকম রোগ চলে আসে শরীরে।

ভাত বেশিমাত্রায় খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা ৯০% মানুষের মধ্যে দেখা দেয়। সার্ভে করে দেখা গিয়েছে গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা ভাত খাওয়ার থেকে বেশি মাত্রায় হয়। অতিরিক্ত চিনি থাকে ভাতে যা থেকে গ্যাসের সমস্যা হয়। এই গ্যাস থেকে অ্যাসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৯০% । যা গ্যাস্ট্রিক আলসারের মত সমস্যার তৈরি করে শরীরে।

চিনি বেশি মাত্রায় শরীরে জমতে শুরু করলে ডায়বেটিস হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শরীরে থাকা বীটাকোষ ইন্সুলিন পর্যাপ্ত পরিমান তৈরি করতে অক্ষম হয়ে যায়। রক্তে চিনির পরিমান বেড়ে যেতে থাকে। ডায়বেটিস হলে মানবদেহ ধীরে ধীরে নানান রোগের মুখোমুখি হতে থাকে।

ভাত আলস্যতা বাড়িয়ে দেয় শরীরে। ফলে পরিশ্রম করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। যারা রুটি খান তারা বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু ভাত খেলে শরীরে আলসেমি তৈরি হয়। কাজ করার উৎসাহ কমে যায়।

বৈজ্ঞানিক মতে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু অধিক মাত্রায় ভাত খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো না।

“পেটপুরে” ভাত খাওয়া কেন ভালো নয়? জেনে রাখুন ৪টি কারণ

“পেটপুরে ভাত খেলাম” বা “ভাত না খেলে মনে হয় পেটই ভরেনি” ইত্যাদি কথাগুলোর সাথে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। পেটপুরে ভাত খাওয়াটা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু আসলেই কি পেটপুরে ভাত খাওয়াটা ভালো? হ্যাঁ, ভাতে তেল নেই বিধায় এটা অনেক স্বাস্থ্যকর খাবার সন্দেহ নেই। কিন্তু পেটপুরে ভাত খাওয়াটা আসলে এমন মারাত্মক একটি অভ্যাস, যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দিকে! কীভাবে? চলুন জেনে নেই!

১. সারাদিনে অনেক ভাজাভুজি খান না আপনি, কোন কোমল পানীয় বা মিষ্টি খাবারও খান না, গুণে গুণে মাত্র ৩ বেলা খান। কিন্তু তবুও কমে না ওজন? এর কারণ হচ্ছে আপনি প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত ভাত খেয়ে ফেলছেন। ভাতে অন্যান্য খাবারের তুলনায় অনেক উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা আপনার শরীরে অযথাই অনেকগুলো ক্যালোরি যোগ করে ফেলে। এই বাড়তি ক্যালোরি বাড়তি ওজন হয়ে জমে যায় শরীরে। চায়ের কাঁপে এক কাপ ভাত, যারা খুব পরিশ্রম করেন তাঁদের জন্য দুই কাপ ভাতই যথেষ্ট। সাথে খেতে হবে প্রচুর সবজি ও প্রোটিন। কিন্তু আমরা কেউ কি এত কম ভাত খাই? খাই না। সুতরাং বলাই বাহুল্য যে হু হু করে ওজন বাড়ে ও ওজন কমে না কিছুতেই।

২. হ্যাঁ, ভাত উপকারী। কিন্তু সাদা চালের ভাতে আসলে কোন পুষ্টিগুণই থাকে না। লাল চাল খাওয়ার অভ্যাস বলতে গেলে আজকাল কারোই নেই, সকলেই ধবধবে সাদা ভাতের ভক্ত। কোন পুষ্টিগুণ তো নেই-ই, উল্টো ভাতের হাই কার্বোহাইড্রেট আপনার মেটাবোলিজম হার কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ খাবার হজম হবার হার কমে যায়। আর দুপুরে বা রাতে পেটপুরে ভাত খাবার পর ঘুমিয়ে গেলে তো কথাই নেই! শরীরের সর্বনাশ হয়ে যায়।

৩. অতিরিক্ত ভাত খাওয়া আপনার রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে। ভাতের হাই কার্বোহাইড্রেট প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট তৈরি করে দেহে, যা আপনার রক্তনালীগুলোকে ক্রমশ সংকুচিত করে ফেলে এবং এক পর্যায়ে ধমনীতে দেখা যায় ব্লক ও বন্ধ হয়ে যায় রক্ত সরবরাহ।

৪. ভাত হচ্ছে chewier substance, অর্থাৎ এমন খাদ্য যেটা হজমে সময় লাগে। হজমে সময় লাগে এমন হাই কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার মেটাবোলিজম রেট কমিয়ে দেয়, যা নানান রকম হার্টের অসুখের অন্যতম কারণ। (এই কথাগুলো কেবল সাদা ভাত নয়, চাল থেকে তৈরি ভাত জাতীয় যে কোন খাবারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।)

তাহলে কী করবেন: পেটপুরে ভাত খেতে পারবেন না মানে এই নয় যে ভাত একেবারেই খারাপ কিছু। ভাত তখনই ভালো, যখন তা খাওয়া হয় পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকরভাবে। যেমন, লাল চালের ভাত খাওয়া অভ্যাস করুন, পরিমাণে অল্প ভাত খান, ভাতের মাড় ফেলে রান্না করুন এবং ভাত খাওয়ার পরই ঘুমিয়ে যাবেন না, বরং হাঁটাহাঁটি করুন। এভাবে ভাত খেয়েও আপনি থাকতে পারবে সুস্থ, সুন্দর ও নীরোগ।

কোন বয়সে কতটুকু ভাত খেতে হবে? জেনে নিন পুষ্টিবিদের হিসাব

যতই আধুনিক খাবার খাওয়া হোক না কেন, দিন শেষে একটুখানি ভাত না খেলে বাঙালির চলে না। দিনে একবার হলেও ভাত খাওয়া চাই-ই চাই। তবে সমস্যা হচ্ছে ওজন বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে। অনেকেই আজকাল মুটিয়ে যাবার ভয়ে ভাত খাওয়া একদম বাদ দিয়েছেন। অনেকে আবার প্রয়োজনের চাইতে বেশি ভাত খেয়ে ফেলছেন নানান কারণে। প্রত্যেক বয়সের মানুষের জন্যই আছে ভাতের নির্দিষ্ট পরিমাপ। যদি প্রত্যেকদিন ভাত খাওয়াটা আপনার অভ্যাস হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই জেনে নিতে হবে এই হিসাবটা। প্রয়োজনের চাইতে বেশি খেলে যেমন মুটিয়ে যাবেন, তেমনই কম খেলে ভুগবেন অপুষ্টিতে। মনে রাখবেন, চালভেদে ভাতের পুষ্টিগুণের তারতম্য হয়। আধা কাপ ভাতে(চাল নয় কিন্তু) ১২৫ থেকে ১৫০ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। এতে আছে ৭ শতাংশ ফ্যাট, ৮৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট এবং ৮ শতাংশ প্রোটিন। ভাতে সোডিয়াম বেশি, পটাসিয়াম খুবই কম। তবে ভাত কোলেস্টেরলবর্জিত খাবার। কিন্তু রক্তের লিপিডের একটি উপাদান রয়েছে ট্রাইগি্লসারাইড। ভাত বেশি খেলে এটা বেড়ে যায়।

কোন বয়সে কতটুকু: সাধারণ অবস্থায় প্রতিটি মানুষের জীবনের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। নবজাতক, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ় ও বার্ধক্য। দেহের চাহিদা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজের ওপর ভিত্তি করে পুষ্টি উপাদান একেক সময় একক রকম হয়। সাধারণত শর্করাজাতীয় খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় কাজের রকমের ওপর। যাঁদের শারীরিক পরিশ্রম বেশি, তাঁদের কার্বোহাইড্রেট বেশি প্রয়োজন হয়। যাঁদের টেবিলে বসে কাজ, তাঁরা ভাত কম খাবেন। আটার রুটি, ওটসসহ চিনি ছাড়া করনফ্লেক্স, পাসতা, স্প্যাগেটি, ম্যাকারনি, জবের ছাতু ইত্যাদি খাবেন।

শৈশব: এ সময় এক থেকে দেড় কাপ ভাত প্রয়োজন। বয়সের সাথে সাথে আস্তে আস্তে বাড়বে।

বাল্য: সারা দিনের জন্য ৩ থেকে ৪ কাপ যথেষ্ট।

বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে: সারাদিনের জন্য ৫ থেকে ৭ কাপ ভাত প্রয়োজন।

কিশোর-কিশোরী: সারা দিনের জন্য ৬ থেকে ৮ কাপ ভাত দরকার।

প্রাপ্তবয়স্ক: এই বয়সে সময় এক দিনের জন্য ৮ থেকে ১২ কাপ ভাত প্রয়োজন।

বৃদ্ধ: এই বয়সে দৈনিক ছয় কাপ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে: ১ কাপ বলতে চায়ের কাপের এক কাপ বোঝানো হয়েছে। মেজারিং কাপ নয়। যারা শর্করা ও শ্বেতসার জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকেন, (যেমন বিস্কুট, নুডুলস, পাস্তা ও অন্যান্য খাবার) তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণটা আরও কমিয়ে দিতে হবে।

যে ১০ টি কারণে আপনার প্রতিদিন দই ভাত খাওয়া উচিত!

দক্ষিণ ভারতে এর কদর রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমরা বাংলাদেশীরা, খুব একটা পছন্দ করেন না এ জিনিস। কিন্তু যদি শরীরিক উপকারিতার কথা বলেন, তাহলে দই ভাতের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বঙ্গ খাদ্যরসিকদের নিয়মিত দইভাত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

এত দূর পড়ার পর যদি প্রশ্ন করেন দই ভাত নিয়ে এত সমর্থনের ঝান্ডা উঠছে কেন? তাহলে উত্তরে বলবো বন্ধু, এই খাবারটির অন্দরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, কিছু পরিমাণ প্রোটিন এবং বেশ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া, যা নানাভাবে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন

১. প্রো-বায়োটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি মেটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত দই ভাত খাওয়া শুরু করলে শরীরে এত মাত্রায় প্রো-বায়োটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে ভিতর থেকে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি বারে বারে সর্দি-কাশি এবং নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

২. হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমে: দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার হাড় শক্তপোক্ত হয়ে উঠলে আর্থ্রাইটিস মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় যে কমে, তা তো বলাই বাহুল্য! তাহলে বন্ধু, এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন রোজের ডেয়েটে দই ভাত থাকা জরুরি কেন!

৩. পেটের যন্ত্রণা কমায় নিমেষে: একটু বেশি খাওয়া-দাওয়ার কারণে কি পেট গুরগুর করছে, সঙ্গে লেজুড় হয়েছে স্টমাক পেন, তাহলে চটজলদি একবাটি দই ভাত খেয়ে নিন। দেখবেন নিমেষে কমে যাবে কষ্ট। আসলে দই ভাতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে পেটের যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে নানাবিধ পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে চোখে পরার মতো: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দই এবং ভাত মিশে যাওয়ার পর এমন কিছু উপাদানের জন্ম হয় যে তা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র একাধিক পেটের রোগ সেরে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বদ-হজমের সমস্যা থাকলে তারও উপশম ঘটে। আসলে দইয়ে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করা মাত্রা তা ধীরে ধীরে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে থাকে। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশন এবং তলপেটে অস্বস্তির মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ থাকায় দই ভাত খাওয়ার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মক উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কাও হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এনার্জির ঘাটিতও পূরণ হয়। তাই তো ইচ্ছা হলে অফিস যাওয়ার আগে এক বাটি দই ভাত খেয়েই যেতে পারেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৬. ভিটামিনের চাহিদা মেটে: খাবারে উপস্থিত নানাবিধ ভিটামিন যাতে ঠিক মতো শরীরের দ্বারা শোষিত হতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে দই। তাই তো প্রতিদিন দই ভাত অথবা এমনি এমনিই দই খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটা করলে শরীরে ভিটামিন এবং খনিজের ঘটতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক রোগ দূরে থাকে।

৭. স্ট্রেসের মাত্রা কমে: দইয়ে উপস্থিত প্রোবায়োটিকস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারি ফ্যাট মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন করে যে চোখের পলকে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বর্তমান সময়ে যুব সমাজ যেখানে স্ট্রেসের কারণে এত ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছে, সেখানে দই যে তাদের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য!

৮. শরীরে পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি মেটে: দইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং উপকারি ফ্যাট। অন্য়দিকে ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। ফলে দই ভাত খেলে একসঙ্গে এতগুলি পুষ্টিকর উপাদান শলরীরে প্রবেশ করে। প্রসঙ্গত, ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তপোক্ত করে। আর কার্বোহাইড্রেট এনার্জির ঘাটতি পূরণ করে।

৯. শরীর ঠান্ডা থাকে: গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখার মাধ্য়মে সান স্ট্রোকের আশঙ্কা কমাতে দই ভাতের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে দইয়ের মধ্যে তাপ বিরোধী উপাদান রয়েছে, যা নিমেষে তাপদাহকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে। তাই তো গরমকালে প্রতিদিনে দই ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে: খেয়াল করে দেখবেন দই ভাত খাওয়ার পর অনেকটা সময় পর্যন্ত পেট ভরে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। সেই সঙ্গে কমে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার আশঙ্কাও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাস পায়। তাই তো যারা অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, তারা আজ থেকে ডায়েটে দই ভাতের অন্তর্ভুক্ত ঘটাতে পারেন, দেখবেন উপকার পাবেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT