Main Menu

অস্ট্রেলিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশন

মোঃ শফিকুল আলম:অস্ট্রেলিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশন (Independent Commission Against Corruption or ICAC) কিভাবে কাজ করে?যেহেতু প্রত্যেকটি স্টেট এবং টেরিটরীর আলাদা কমিশন আছে সেহেতু আমি নিউ সাউথ ওয়েলস্ (NSW - New South Wales) যার রাজধানী সিডনি সেই স্টেটের কমিশন সম্পর্কে আলোকপাত করবো।

 

ICAC এর প্রধান লক্ষ্য এবং দায়িত্ব হচ্ছে NSW এর জনগনের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।নিউ সাউথ ওয়েলস্-এর সরকারী প্রশাসনের ওপর বিভিন্ন দুর্নীতির প্রেক্ষাপটে সাধারন মানুষের উদ্বিগ্নতার অবসান কল্পে ১৯৮৮ সালে প্রথম এই কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালের এমেন্ডমেন্টের মাধ্যমে এই কমিশনের তদন্তের পরিধি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

সংক্ষেপে এই কমিশন সরকারী প্রশাসন, কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী,বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট, সরকার-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তাবৃন্দ, কাউন্সিল, কাউন্সিলর,মেয়র ইত্যাদি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থিত দুর্নীতির তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করে থাকে। 

 

এই কমিশন দুর্নীতি বন্ধের ব্যাপারে কন্টিনিউয়াস গবেষনাপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের এবং আইন প্রনয়নের জন্য সরকারকে advice এবং assistances দিয়ে থাকে।জনগন এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগনকে দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে educate করে তোলা এবং দুর্নীতির ফলে সমাজে বা রাষ্ট্রে কি কি প্রভাব ফেলতে পারে সে সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়াও ICAC-এর কাজ।

 

নিউ সাউথ ওয়েলস্ সরকারের ক্রাইম কমিশনের কর্মকর্তা, পুলিশ ফোর্সের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই কমিশন তদন্ত করেনা বা এই কমিশনের আওতাধীন নয়।

 

প্রশ্ন হচ্ছে Independent Commission Against Corruption কিভাবে সরকারী অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন? Freedom of Information Act 1989, The Government Information Public Access (GIPA) Act 2009 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।এই আইন বলে জনগনের পক্ষে জনগনের বিধিবদ্ধ এজেন্সী ICAC সরকারী তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে পারবে এবং এই তথ্য সংগ্রহে ICAC এর open access থাকবে।আবার নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে access application করতে হতে পারে যা’ নির্দিষ্ট করে বলা আছে। তবে ICAC জনগনের বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে সব ধরনের তথ্যই সংগ্রহ করতে পারবে।

 

ICAC এর আবার right to Information অফিসার রয়েছে এবং সলিসিটর টু কমিশনও রয়েছে।তাদের কাছে সংগৃহীত তথ্যের access ও একই প্রক্রিয়ায় right to Information অফিসারের কাছে access application করে সলিসিটর টু কমিশন এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

 

ICAC কি দুর্নীতি দমনে কারও ফোন টেপ করতে পারে? সরাসরি উত্তর হবে ‘না’।পুলিশ বা ICAC বা কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে ফোনালাপ রেকর্ড করতে পারেনা যদি না অপর পক্ষের অনুমতি থাকে। যেকোনো ফোনালাপ অন্যের অনুমতি ব্যতিরেকে রেকর্ড করা আইনবিরোধী এবং তার জন্য জেইল এবং জরিমানা দু’টি প্রভিশন রয়েছে।

 

কখন পুলিশ বা Independent Commission Against Corruption ফোনালাপ রেকর্ড করতে পারবে? এই ধরনের আইনসঙ্গত প্রতিষ্ঠান যখন নিশ্চিত হতে পারবে ফোনালাপ দুর্নীতি বা অপরাধ সংঘটনের মাধ্যম হয়েছে এবং তা’ প্রমানের অন্য কোনো উপায় নেই তখন আদালতে অনেকটা ওয়ারেন্টের মতো আদালত ইস্যুকৃত লিখিত আদেশের ভিত্তিতে গোপনে ফোনালাপ রেকর্ড করতে পারে যা’ আদালতে evidence ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা প্রকাশ করা যাবেনা।আদালতের এই আদেশটি অবশ্যই সেক্রেট আদেশ হয়ে থাকে।

 

বর্তমান সময়ে নিউ সাউথ ওয়েলস্ এ রাজনীতিক এবং সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ ICAC কর্তৃক গোপন ফোন ট্যাপিং এর শিকার হয়ে আসছেন।ICAC’র ফোন ট্যাপিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ছে যা’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে লক্ষনীয়।

 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ICAC অন্তত: ১৬ টি ফোনালাপ রেকর্ড করেছে (অবশ্যই আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে) যা’ ২০১৬-১৭-তে মাত্র ৫ টি-তে সীমাবদ্ধ ছিলো।তবে ২০১৩-১৪-তে সর্বোচ্চ ২১ টি কোর্ট-ওয়ারেন্ট বা আদেশ সংগ্রহ করতে হয়েছিলো।অধিকহারে ফোন রেকর্ডিং এর আদেশ সংগ্রহকরন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশনের কার্যক্রম বৃদ্ধির স্বাক্ষর বহন করে।কমিশন তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছে গত বছর সেস্টেম্বরে সংস্কার কার্যকর হওয়ার পর কমিশন এখন কঠোরতর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হয়েছে।একজন কমিশনারের জায়গায় তিনজন কমিশনার হওয়ায় কাজের ক্ষমতা এবং আওতা বৃদ্ধি পেয়েছে।কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দুর্নীতি তদন্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গত জুনের শেষে কমিশনের প্রাথমিক তদন্তের সংখ্যা গতবছরের এই সময়ের তুলনায় ১৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ণ তদন্তের সংখ্যা ৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

যখন প্রকাশ্যে তদন্তের ভিত্তিতে দুর্নীতি প্রমান করা সম্ভব হবেনা প্রতীয়মান হয় এবং গোপনে ফোনালাপ রেকর্ডিং করে সন্দেহাতীতভাবে দুর্নীতি প্রমান করার evidence আদালতে উপস্থাপন করা যাবে এই মর্মে কমিশন নিশ্চিত তখনই কেবল আদালত ফোন রেকর্ডিং এর আদেশ দিয়ে থাকেন। তারপরও এই evidence আদালত গ্রহন করবে বা করবেনা তা’ একমাত্র আদালতের এখতিয়ার।

 

সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস্ এর ওয়াগা ওয়াগার এমপি একটি প্রপার্টি লেনদেনে প্রভাব বিস্তার করেছেন যা’ একজন এমপির জন্য conflict of interest প্রমানের জন্য প্রপার্টি ডেভলপার এবং তাঁর ফোনালাপ্র ট্যাপ ICAC তদন্তের সময় বাজিয়ে শোনান এবং তাঁর রাজনীতির ইতিবৃত্তি ঘটে।কমিশন পাবলিক হিয়ারিং করতে চাইলে এমপি ডেভলপারের সাথে তাঁর কথপোকথনের কথা অস্বীকার করেছিলেন এবং তখনই না পারতে তাঁর চ্যালেন্জের মুখেই ফোন-ট্যাপ বাজাতে হয়েছে।

 

কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে গত অর্থবছরে অনেকগুলো বড় এবং জটিল বিষয় তারা তদন্ত করেছে যার অনেকগুলোর পাবলিক ইনকোয়ারী হয়েছে এবং অনেকগুলো তদন্তনাধীন।

 

যদিও কমিশনের বাজেট ২০১৪-১৭ এর মধ্যে ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে কমানো হয়েছিলো ২৩ মিলিয়ন ডলারে কিন্তু বাজেট আবার বৃদ্ধি করে এখন ২৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।

 

কমিশনের কাছে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ৪০% স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত এবং কমিশন তার মোট তদন্তের প্রায় ৫০% এখন স্থানীয় সরকারের ওপর নিবন্ধ রাখছে।

 

বাংলাদেশে সর্বশেষ আইনে সরকারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে যে protection দেয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য কিভাবে তদন্ত করবে বা evidence তৈরী করতে পারবে তা’ আমি নিশ্চিত নই। অস্ট্রেলিয়ার সমতুল্য The Government Information Public Access Act 2009 এর সম মানের আইন যে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের কারনে আর কার্যকর নয় সেটা অনেকটা বোঝা যায়।যেখানে তথ্য সংগ্রহেরই সুযোগ নেই সেখানে দুর্নীতির তদন্ত বিশেষ করে সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কতটা অর্থবহ হবে?

 

অন্যদিকে ফোন-ট্যাপিং এর মতো জঘন্য অপরাধ সোস্যাল মিডিয়ার নিত্যদিনের খোরাক।কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান গোপনে ফোনালাপ বা ভিডিও ট্যাপ করে তা’ প্রকাশ বা প্রচার করতে পারেনা। দেশের প্রচলিত Privacy Act বিরোধী এবং বর্তমানে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বিরোধী।ফোনালাপ কেনো, কখন এবং কিভাবে করা যাবে তা’ উপরোক্ত লেখায় রয়েছে।এই প্রকাশিত ফোনালাপ নিয়ে আবার বিজ্ঞজনেরা টকশোতে রসিয়ে রসিয়ে আলাপ করছেন।সরকার সমর্থক বিজ্ঞজনদের কাকেও বলতে শোনা যায়নি এটা আইনসঙ্গত নয় এবং মেইন stream media তে আলোচনা করা উচিত নয়।

 

যা’হোক এখানে Independent Commission Against Corruption এর মূল লক্ষ হচ্ছে সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিক, বিচারক, কাউন্সিলর, মেয়র যখন বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের টার্গেট হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কোনো চুনোপুঁটি।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT