Main Menu

ঐক্যফ্রন্টের সাথে রাজনৈতিক সংলাপ- বিএনপি ইন জাপা আউট?

মাহবুবুল আলম (মেল্বোর্ন হতে):

একজন ব্যক্তির কাজ-কর্ম দ্বারা যেমন তার চরিত্র বুঝা যায় তেমনি সম-মনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত দল বা সংগঠনে তাদের সকলের সমন্বনিত চরিত্র ফুটে উঠে দলটির কাজ-কর্মের মাধ্যমে।

ঐক্যফ্রন্ট-এর নেতৃবৃন্দ বুঝতে পেরেছেন শুধু মাঠের রাজনীতিতে কাজ হবেনা। সংলাপে বসতেহ বে। কয়েকদিন আগেই ঐক্যফ্রনটের চিঠির জবাবেপ্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখহাসিনা সংলাপে রাজী হয়েছেন। জননেত্রী শেখহাসিনা সকল দলকে সংলাপে আহবান করে বিশেষ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। পর্যায় ক্রমে তিনি ও তার দল অন্যান্য দল যেমন বিকল্পধারা, জাতীয় পার্টীর সাথেও সংলাপে বসবেন।

আগামীকাল ঐক্যফ্রনটের সাথে বাংলাদেশ সরকার তথা আওয়ামীলগের যে সংলাপ হতে যাচ্ছে তার ফলাফল বুঝার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা দরকার। ঐক্যফ্রন্টের বড় অংশীদার বিএনপি ছাড়া অন্য প্রধান অংশীদার বিশেষ করে গনফোরাম, জে এস ডি, নাগরিক ঐক্য ইত্যাদির সাথে তৃণমূলের তেমন কোন সংযোগ নেই। এরা অনেকেই পূর্ব্ববর্তী নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন। গনতান্ত্রিক সমাজে জনগনই শক্তি। যদি জনগন তাদের সাথে থাকত তাহলে নির্বাচনের ঠিক আগে ঐক্য না করে অনেক আগেই ঐক্য করত কিংবা তাদের কথায় জনগন রাস্তায় নামত। নির্বাচনের ঠিক আগে ঐক্য মানে শর্টকাটে ক্ষমতার ভাগীদার হওয়া, যাকে সোজা কথায় বলা হয় পলিটিক্স অব কনভিনিয়েন্স (সুবিধাবাদের রাজনীতি)।

আওয়ামীলিগ বারবার বলে আসছিল জামাত না ছাড়লে বিএনপির সাথে কোন সংলাপ নয়। বর্তমানে নিষিদ্ধ হওয়ায় জামাতবিহীন বিএনপি-র সাথে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।তাহলে জামাত সংঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য কি আওয়ামীলিগ অপেক্ষা করতেছিল?

রাজনৈকিত সমীকরণটি কেমন দাড়াচ্ছে- বিএনপি বর্তমানে নেতৃত্ব শূন্য থাকায় (দলের মধ্যে ভালো নেতৃত্ত্ব তৈরী না করলে যা হয়, বিএনপি- তা-ই হয়েছে) তার দায়িত্বে আছেন প্রাক্তন আওয়ামীলিগ নেতৃবৃন্দ ও এক সময় আওয়ামীলিগের মন্ত্রি ছিলেন এমন নেতৃবৃন্দ (ড. কামালহোসেন, আ স ম রব)। এরা কি শুধুই আওয়ামী বিরোধিতা করার জন্য ও বিএনপি কে শক্তিশালী করার জন্য ফ্রন্ট গঠন করেছেন? এখন পর্যন্ত বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্যকেউই ঐক্যফ্রন্টের গনসমাবেসে বিএনপি-র শীর্ষ বন্দি নেতাদের ব্যাপারে মুখ খোলেন নি। সমীকরনটি বুঝা কি খুব কঠিন? অংশীদারদের কেউ কেউ যে ক্ষমতার ভাগ ও ভারসাম্য চান তাতো স্পষ্ট করেই বলেছেন। কারন এরা ভালো করেই জানেন, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলেও তাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে না। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতার গেলে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনের বন্দিজীবন থেকে দেশে আসা পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকতে পারে বৈকি।

আগামী কালের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের বড় অংশীদার বিএনপি বাদে কেউ-ই তাদের বন্দি নেতাদের মুক্তি নিয়ে কথা বলবেন বলে মনে হয় না। সবাই বলবেন নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে হতে পারে সে ব্যাপারে। পূর্ব্ববর্তী অনির্বাচিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের কোন মডেল বর্তমান আওয়ামীলিগ কোনভাবেই মেনে নিবে নাবলেবারবারবলেআসছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন (নির্বাচনকালীন) সরকারের প্রস্তাব আসতে পারে যেখানে গনফোরাম, বিকল্পধারা, জেএসডি ও বিএনপি-র কেউ কেউ থাকতে পারে। কাজের কাজ যা হতে তা হলো,যে কোনবিএনপি-কে নির্বাচনে আনা। আর ফলাফল সবার জানা। নতুন মাত্রায় এ টুকু পার্থক্য হতে পারে যে, জাতীয় পার্টির বর্তমান অবস্থানে বিএনপি প্রতিস্থাপিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার মনস্তত্ত্ব বুঝে ও সংবিধান অনুযায়ীযা আদায় করার করতে পারে তবে ভালো হবে ঐক্যফ্রন্টের জন্য। বর্তমানে আওয়ামী লিগের যে অর্জন ও আত্মবিশ্বাস তাতে গত নির্বাচনের মত আরেকটি নির্বাচনের দিকে আওয়ামী লিগকে আওয়ামী-বিরোধীরা ঠেলে দিবে না নিশ্চয়ই।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT