Main Menu

তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে

মোঃ শফিকুল আলম:কংস তখন যোগমায়াকে পাথরে নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আদেশ দেন, কিন্তু যোগমায়া নিক্ষিপ্ত অবস্থায় আকাশে উঠে গিয়ে বলেন, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।

 

কংস মথুরার প্রজাপীড়ণকারী ভোজবংশীয় রাজা ছিলেন।তিনি মথুরারাজ উগ্রসেনের স্ত্রী পদ্মাবতীর গর্ভে কিন্তু রাক্ষসরাজ দ্রুমিলের ঔরসে জন্মগ্রহন করেন।দ্রুমিল উগ্রসেনের ছদ্দবেশে পদ্মাবতীর ঘরে এসেছিলেন এবং পদ্মাবতী যখন বুঝতে পারেন তখন আর বাধ সাধতে পারেননি।

 

যা’হোক কংসের রাক্ষস চরিত্র তাকে প্রজাপীড়ণকারী রাজায় পরিনত করেছিলো।কংস মগধের রাজা জরাসন্ধের দুই কন্যা অস্তি এবং প্রাপ্তিকে বিবাহ করে জরাসন্ধের সহায়তায় পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে মথুরার রাজা হলেন।

 

এসময়ে কংসের বোন দেবকীর সংগে বসুদেবের বিবাহ হয়। বিবাহানুষ্ঠানে কংস দৈববানীতে জানতে পারলেন দেবকীর অষ্টম সন্তান হবে তার হন্তারক।যথারীতি কংস বন্দী করলেন বসুদেব এবং বোন দেবকীকে। একে একে বন্দীশালায় দেবকীর গর্ভে জন্ম নেয়া ছয় সন্তানকে কংস জন্মের পর পরই হত্যা করলেন।

 

দেবকীর গর্ভে জন্ম নেয়া সপ্তম সন্তান শ্রী বলরাম প্রতিস্থাপিত হলো গোকুলবাসী বসুদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিণীদেবীর গর্ভে।এদিকে দেবকী আবার ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা তিথিতে অষ্টম সন্তান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম দিলেন এবং বসুদেব গোপনে গোকুলের গোপরাজ নন্দের ঘরে রেখে দেন। একই দিনে নন্দের স্ত্রী যশোদার ঘরে মহাশক্তিধর দেবী যোগমায়ার জন্ম হয়। বসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে রেখে যোগমায়াকে নিয়ে প্রাসাদে ফিরেন।কংস অনেক খুঁজে শ্রী শ্রীকৃষ্ণের সন্ধান না পেয়ে যোগমায়াকে পাথর ছুঁড়ে হত্যার নির্দেশ দিলেন। 

 

মহাশক্তিধর দেবী যোগমায়া নিক্ষিপ্তাবস্থায় শূন্যে উড়ে যাচ্ছিলেন এবং বললেন, “তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।”

 

কংস যজ্ঞের নাম করে কৌশলে শ্রীকৃষ্ণকে মথুরায় আনায়ন করে মল্লযুদ্ধের খেলায় হত্যার চেষ্টা করে। বরং শ্রীকৃষ্ণের সাথে অংশগ্রহনকারীরা মৃত্যুবরন করে।এতে কংস ক্ষুব্ধ হয়ে বলরাম এবং শ্রীকৃষ্ণকে নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। নন্দকে বন্দী, পিতা উগ্রসেন এবং ভগ্নিপতি বসুদেবকে হত্যার নির্দেশ দিলেন।এই নির্দেশ শোনার সাথে সাথে শ্রীকৃষ্ণ কংসকে সিংহাসন থেকে ছুঁড়ে মেরে হত্যা করেন। কংসের আট ভাই বাঁধা দিতে গেলে বলরাম তাদের হত্যা করেন।

 

ওপরের এই লেখা কতটা মিথ্ বা কতটা ঐতিহাসিক জানিনা তবে বহুল পঠিত এবং যোগমায়ার আকাশে উড্ডিয়মান সময়ের বানীটির চিরন্তন আবেদন রয়েছে।যদিও যুগে যুগে শাসকরা এই মর্মবানী বুঝতে অক্ষম হন।

 

ভেবেছিলাম বাংলাদেশের চলোমান রাজনৈতিক প্রক্ষাপট নিয়ে কিছু লিখবো। কিন্তু মহাশক্তিধর দেবী যোগমায়ার উদাহরন টানতে গিয়ে এবং শানে-নযুল বর্ননা করতেই লেখা দীর্ঘ হয়ে গেলো।

 

আমার কোনো একটি ফেইসবুক পোষ্টিং-এর শিরোনাম ছিলো ‘তুমি অধম তাই আমি উত্তম হবোনা।’ কোনো লেখা আমি কোথাও সেইভ করে রাখিনা। কারন লেখক হওয়ার যোগ্যতা যে নাই সেটা আমি জানি। তাই ওটি হওয়ার খায়েস নাই। লেখাটি ক্ষমতাসীনদের আচার-আচরনের ওপর। প্রায়শই নানান আলোচনা, বক্তৃতা-বিবৃতিতে তারা পেছনে চলে যান। টকশো-তে অনেকটা জোর করেই পেছনে চলে যান। ‘তা’হলে আমাকে একটু পেছনে যেতেই হবে।’ ক্ষমতাসীন আলোচকদের প্রায় সকলেই এই আপ্ত বাক্যটি উচ্চারন করে দূর বহুদূর চলে যান। কোনোক্রমেই আর প্রসঙ্গে ফেরানো সম্ভব হয়না। একজন তথাকথিত উঠতি বুদ্ধিজীবিসহ (তিনি নাকি নীতিনির্ধারকও বটে) আলোচকবৃন্দ প্রতিপক্ষের ওপর অনেকটা মারমুখী থাকেন।এই আলোচকদের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কোনো উন্নয়ন চিত্র নেই বা বিশ্বাসযোগ্য করে উত্থাপনের ভাষা জানা নেই। এরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন সম্পর্কে হয় স্পষ্ট নয় অথবা গভীরে প্রবেশ করেননি।তাই তারা সুদূর অতীতের গহীনে চলে যান। এই সরকারের কোনো একটি ভুল পদক্ষেপ কিভাবে সংশোধন করবেন তা’ তারা না বলে অতীতে হয়েছে তাই আমরাও করছি এরকমটিই বলে থাকে। অর্থাৎ কোনোক্রমেই তারা সামনে এগোবেননা এবং উত্তম হবেননা। কারন তারাতো অধম ছিলেন আমরা কেনো উত্তম হবো?

 

সমাজের তথা সরকারের বিভিন্ন স্তরে অসংখ্য কংস জন্ম নিয়েছে। এই কংসেরা প্রজানিপীড়ণ অর্থাৎ সাধারন মানুষকে নানাভাবে নিগৃহীত করছে।এতো এতো উন্নয়ন, সরকার প্রধানের ভিষন এবং মিশন স্পষ্ট থাকার পরও এই কংসদের উৎপাতে সাধারন মানুষ মনের দু:খে অনেকটা ফুঁসে রয়েছে।এই কংসদের স্মরণ রাখা প্রয়োজন কংসবধের জন্য শ্রীকৃষ্ণেরও জন্ম হয়েছে গোকুলে।সুতরাং অগনতান্ত্রিক আচরন, ব্যাংক লুটপাট এবং দুর্নীতির জবাব দেয়ার জন্য যজ্ঞের অনুষ্ঠানে শ্রীকৃষ্ণরা কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারেন।

 

ফ্রি মিডিয়ার যুগে যেখানে যখন কোনো তথ্যই আটকে রাখা যায়না তখন প্রতিপক্ষের জনসভা করতে না দেয়ায় লাভ কতটুকু হতে পারে? লাভ এতটুকুই যে জনগন মনে করেন বিরোধী মত প্রকাশে সরকার বাঁধ্ সাধছে।লাভেই যদি না হলো ত’হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে একটি জঘন্য আইন প্রনয়ন করে যুগযুগ ধরে এই দোষ কাঁধে নেয়ার কি প্রয়োজন ছিলো?

 

বিভিন্ন এ্যান্বাসী, হাইকমিশনের কি বাংলাদেশে কি হচ্ছে তা’ অজানা থাকে? এসব নিউজ কি বাইরের মিডিয়ায় যায়না? নানান সামাজিক মাধ্যম কি বহির্বিশ্বে অবস্থানকারী বাংলাদেশীরা ব্যবহার করেননা? তা’হলে এই আইনটি সরকারকে কতটা বেনিফিট দিচ্ছে? তা’হলে সরকার পক্ষের সাংবাদিকরা, রাজনীতিকরা কেনো ইনিয়ে বিনিয়ে এই জঘন্য আইন করার যথার্থতা ব্যাখ্যা করছেন?

 

সরকারের ভেতরে সরকার। প্রশাসনের ভেতরে প্রশাসন।সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে পুলিশ প্রশাসনের অতিউৎসাহিত কর্মকর্তাবৃন্দ নানান মিথ্যা, বানোয়াট এবং তথাকথিত গায়েবানা মামলা দায়ের করছে বিরোধী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই কর্মকাণ্ড সরকারকে কতটা জনপ্রিয় করছে বা অজনপ্রিয় করছে সেটি কেনো কেহ বিবেচনা করতে পারছেননা?

 

নির্বাচনি তফসিল ঘোষনার পর এই সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসনের চরিত্র উন্মোচিত হবে। তখন হয়তো সরকার টের পাবেন স্বাধীনতাবিরোধীচক্র কোথায় লুকিয়ে রয়েছে।তাদের প্রকৃত চরিত্র তখন টের পাবেন।

 

এই কংসের দলের নির্যাতনে ফুঁসে থাকা জনগন যখন সুযোগ পাবে বিস্ফোরিত হওয়ার তখন এদেরকে শ্রীকৃষ্ণরা ছুঁড়ে ফেলে দিবে, সাজানো সিংহাসন তছনছ করে দিবে।

 

যেখানেই অন্যায়, অত্যাচার সেখানেই থাকে এই কংসের দল। আবার তা’ রুখে দেয়ার জন্য গোকুলে জন্ম নেয় শ্রীকৃষ্ণ। তাইতো এই মিথটি সর্বকালে প্রনিধানযোগ্য - “তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।”


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT