Main Menu

অস্ট্রেলিয়ায় কি সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?

মোঃ শফিকুল আলম: না, অস্ট্রেলিয়ায় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হয়না।সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬৮ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।প্রধানমন্ত্রী গভর্নর জেনারেলের সাথে দেখা করে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার অনুরোধ করেন এবং গভর্নর জেনারেল তখন প্রধানমন্ত্রীকে পরবর্তী সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার পরিচালনার অনুরোধ জানান।

গভর্নর জেনারেল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইলেকট্ররাল কমিশনকে লিখিত নির্দেশ দিয়ে থাকেন।ইলেকট্ররাল কমিশন নির্বাচনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে।ভোটার তালিকা প্রনয়ন, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করা, ভোট গ্রহন এবং ফলাফল ঘোষনা এবং গেজেট নোটিফিকেশন পর্যন্ত সকল কাজ ইলেকট্ররাল কমিশনের।

প্রধানমন্ত্রী এবং কেবিনেট সদস্যগন তখনও কি সংসদ সদস্য গন্য হবেন? না, তারাও (অধিকাংশ) যেহেতু পূনর্বার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন সেহেতু তারা আর সংসদ সদস্য গন্য হবেন না। এমনকি স্পীকারও তখন সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন না। কারন স্পিকারও নির্বাচনে অংশগ্রহন করে থাকেন।এই সময়ের সরকারটিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘The government is in caretaker mood.’ তফশীল ঘোষনার দিন বিকাল পাঁচটার পর এই সংসদের কেউ আর সংসদ সদস্য নন।স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রপরিষদ সদস্য এবং অন্যান্য সাধারন সদস্য পূনর্বার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আর কেউ সংসদ সদস্য নন।আইনে বিষয়গুলো স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

সংসদ বলতে এখানে নিম্ন কক্ষ বা হাউজ অব রিপ্রেজেনটিটিভস-কে বোঝানো হয়েছে।হাউজ অব রিপ্রেজেনটিটিভস এর মেয়াদ তিন বছর এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের মেয়াদ ছয়টি স্টেটের জন্য ছয় বছর এবং দু’টি টেরিটরীর জন্য তিন বছর। তবে সিনেট সাধারণত: পুরোপুরি ডিজঅলভ করা হয়না।প্রতিটি হাউজ অব রিপ্রেজেনটিটিভস নির্বাচনের সময় সিনেটের অর্ধেক সদস্যদের নির্বাচন হয়ে থাকে। তবে সরকারী দল যদি সিনেটেও মেজরিটি পেতে চায় তখন প্রধানমন্ত্রী গভর্নর জেনারেলকে ডাবল ডিজলুশনের জন্য অনুরোধ করে থাকেন। অর্থাৎ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ভেঙ্গে দেয়ার অনুরোধ করবেন।তখন সিনেটের সকল অর্থাৎ ৭৬ টি আসন শূন্য ঘোষনা করে সকল আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নিম্ন কক্ষে ১৫০ টি আসন রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমান সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে বলতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ অস্ট্রেলিয়ার উদাহরন দিতে গিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে থাকেন। টকশো-তে বলতে শোনা যায় অস্ট্রেলিয়াতে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।তাছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারটিকে সরকারের ভূমিকা অনুযায়ী তত্বাবধায়ক সরকার বলা হয়। কারন এই সরকার শুধুমাত্র রুটিন ডিউটি পালন করে থাকে এবং এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী বা সদস্যরা কেউ আর সংসদ সদস্য বিবেচিত হননা।কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারটিই গভর্নর জেনারেলের অনুরোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রুটিন দায়িত্ব পালন করে মাত্র।

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীপরিষদ সদস্যগন এবং সংসদ (সাবেক) সদস্যগন কেহই নির্বাচনকালীন ক্যাম্পেইন সময়ে কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেননা। তাদের নির্বাচনী সফর প্রাইভেট সফর হিসেবে গন্য হবে।প্রার্থীদের সকল নির্বাচনী ব্যয় দলীয় তহবিল থেকে ব্যয়িত হয়।দলীয় তহবিলের একটি বড় অংশ প্রত্যেকটি দলের মোট ভোট প্রাপ্তির আনুপাতিক হারে জনগনের ট্যাক্সের পয়সা থেকে দেয়া হয়ে থাকে।এই সুবিধা পাওয়ার জন্য দল বা ব্যক্তি (স্বতন্ত্র) পর্যায়ে টোটাল ভোটের কমপক্ষে ৪% ভোট পেতে হবে।এমনকি একজন অংশগ্রহনকারী নির্বাচিত না হলেও মোট ভোটের ৪% ভোট পেলেই প্রার্থী হওয়ার জন্য জমাকৃত সিকিউরিট মানিও ফেরত পাবেন।রাজনৈতিক দলগুলো ডোনেশনের মাধ্যমেও তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। সেক্ষেত্রে কোন্ কোন্ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কি পরিমান ডোনেশন নেয়া যাবে তা’ নির্বাচন-বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।এক্ষেত্রে নির্বাচন-ব্যয় বা পুরো দল পরিচালন-ব্যয়ের হিসাব সার্টিফাইড এ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক অডিটেড হতে হবে।

বৃটেনে দু’ভাবে পার্লামেন্ট ডিজঅলভড্ হয়ে থাকে। সাধারণত: পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে হাউজ অব কমনস বা নিম্ন কক্ষ বা পার্লামেন্ট বৃটেনের রাষ্ট্র প্রধান বৃটেনের রানী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ভেঙ্গে দেন এবং ইলেকট্ররাল কমিশন নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান করে থাকে। আবার বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে যদি সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে early election করতে চান সেক্ষেত্রে পার্লামেন্টে একটি মোশন আনতে হবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটিতে পাশ হতে হবে এবং সংসদ ভেঙ্গে দেয়া যাবে।কিন্তু সংসদ ভেঙ্গে দিয়েই নির্বাচন করতে হবে।রানীর অনুরোধক্রমে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কেবিনেট আরেকটি সংসদ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত সরকার কন্টিনিউ করে থাকেন। সংসদীয় গনতন্ত্রে জনগন ডাইরেক্টলি সরকার নির্বাচিত করেনা। জনগনের প্রতিনিধি এমপিদের মধ্য থেকে রানী, রাষ্ট্রপতি বা গভর্নর জেনারেল মূলত: মেজরিটি পার্টির নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর কেবিনেট নির্বাচন করে থাকেন।সেক্ষেত্রে the government is considered independent of the member of the parliament. সুতরাং পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার পর আর কেউ পার্লামেন্ট সদস্য বিবেচিত হননা।এবং পারলামেন্টের অনুপস্থিতিতে সরকারের যেহেতু রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমোদন থাকে সেটাকে অনেকটা পারলামেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপ্রধানের অকথিত ordinance এর মতো বিবেচনা করা হয়।

পৃথিবীর মেজর পার্লামেন্টারিয়ান ডেমোক্র্যাসীতে নতুন নির্বান অনুষ্ঠান প্রায় একই রকম।বাংলাদেশে স্থায়ী আইন কমিশন রয়েছে কি-না আমার জানা নেই। থাকলে তারা continuously গবেষনা করে আইনের অস্পষ্টতা (ambiguities) দূর করে আইনগুলোকে অধিকতর স্পষ্ট করতে পারতেন।তা’হলে আইনের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ থাকতোনা।আইনের নিজস্ব নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো।প্রতি বছর নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরীর প্রয়োজনও হতোনা তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা বাইরের দেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সাধারন জনগনকে বিভ্রান্ত করতে পারতেন না।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT