Main Menu

চারিদিকে চাটুকরের দল!

মোঃ শফিকুল আলম:  স্তুতিকরনের মাত্রা বহু পূর্বেই ছাড়িয়েছে।সাংবাদিকরা (জাতির বিবেক!) চাটুকরিতা করছেন।রাজনৈতিক নেতৃত্ব চাটুকরিতা করছেন। সকলে স্তরে চাটুকরিতা চলছে। এমতাবস্থায় যেকোনো মানুষ ভুল করতে পারেন।মানুষ এমনিতেই ভুল করবে এটা স্বত:সিদ্ধ। কিন্তু চাটুকরিতা না থাকলে সংশোধনের সুযোগ থাকে।চাটুকরিতা এমন পর্যায়ে পৌঁচেছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুল করতেই পারেননা। তিনি মানুষ নন। তিনি অতি মানব। ফেরেস্তা জাতীয় কিছু।যা’হোক এ নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে এখনও সামন্জস্যপূর্ণ পুরনো লেখাটি পোষ্ট করলাম।

"প্রধানমন্ত্রী সমালোচনা কিভাবে নেন ?"

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি - প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কঠিন ভাষায় অত্যন্ত positively এবং হাসিমুখে সমালোচনা গ্রহন করেন ।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , সততা ও সাহসের অভাবে তাঁর আশেপাশে কোনো সমালোচক নেই । পদ না পাওয়ার ভয় , পদ হারানোর ভয় , অথবা গঠনমূলক সমালোচনা না করতে পারা । ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তির সৎ , সাহসী এবং গঠনমূলক সমালোচক থাকা অত্যাবশ্যক । এতে করে তিনি তাঁর সকল কর্ম-কান্ডের justification পরিমাপ করতে পারতেন । এখন যা' হচ্ছে তা' হলো - প্রধানমন্ত্রী শুধুই appreciated হচ্ছেন । মানুষ মাত্রেই ভুল করবেন। স্তাবকেরা তাঁর ভুলকেও আর ভুল বলছেন না ।

২০০১ সালে আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারের বিরুদ্ধে একটি হরতালও হয়ে গেলো । দলকে পূনরায় সংগঠিত করতে এবং সারা বাংলাদেশে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার কাজটি খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই শুরু হয়েছিলো। অন্যথায় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে যেভাবে আওয়ামীলীগারদের ওপর আক্রমন শুরু হয়েছিল তা' মোকাবেলা করা অত সহজ হতো না ।

চলোমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২৩ , বঙ্গবন্ধু এ্যাভিন্যূ দলীয় কার্যালয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের একটি সভা ডাকলেন । এই সভায় নেত্রীকে সরকারে থাকাকালীন সময়ের কর্ম-কান্ড নিয়ে সমালোচনা করতে হবে । জনাব ওবায়দুল কাদের এই দায়িত্বটি আমার ওপর অর্পণ করলেন । তিনি বললেন , " তুমি ছাডা় নেত্রীকে সরাসরি সমালোচনা করার কেউ সাহস 
রাখেনা । কাজটি তোমাকেই করতে হবে । " যথারীতি কাদের ভাই সন্চালক হিসেবে ঘোষনা করলেন , " আপা সাবেক ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে আজ শুধু শফিক বলবে।” আপা সহাস্যে বললেন , " বলো শফি কি বলবে” প্রায় ঘন্টা ব্যাপী আমি কঠিন ভাষায় সদ্য ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া প্রধানমন্ত্রী'র নানান কর্ম-কান্ডের সমালোচনা করলাম । অত্যন্ত সহজভাবে আমার সমালোচনার জবাব দিচ্ছিলেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের অকপট স্বীকার করছিলেন ।

কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সেই পরিস্থিতিতে তিনি বিকল্প কি করতে পারতেন বলে আমার কাছে জানতে চাইলেন । এক পর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম , "আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আর হরতাল করবেনা বলেও কেনো এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হরতাল ডাকা হলো ?" আপা বললেন , " যেভাবে সারা বাংলাদেশে নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমন চলছে তাতে হরতালের বিকল্প কি? " আমি বললাম , " যেহেতু আপনি হরতাল না করার কথা বলেছিলেন সেহেতু কেন্দ্রীয় সভায় আপনি হরতালের বিপক্ষে নোট অব ডিসেন্ট রাখতে পারতেন এবং majority ভোটে হরতালের পক্ষে সিদ্ধান্ত হতে পারতো । আপনার কথাও রক্ষা হতো ।" অনেক বিষয়ে সমালোচনা হয়েছিল যা' শুধু ঘরোয়া পরিবেশেই আলোচনা করা যায় । এত সমালোচনার পরেও আমার প্রতি আপাকে বিরাগভাজন হতে দেখিনি । বরং শেষ অবধি আপা আমার অধ্যাপনার খবর নিলেন । আমার কলেজ কেমন চলছে জিজ্ঞেস করলেন ।

সেদিন ঐ সভায় উপস্থিত অনেককে প্রথম দিকে ঘামতে দেখলাম । এস এম কামালসহ দু'একজনকে চাটুকরিতা অব্যাহত রাখতে দেখলাম । শুধু দু'একজন সজ্জনকে আপার গঠনমূলক সমালোচনা করতে অনুরোধ করবো । আপা সমালোচনা positively গ্রহন করেন ।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT