Main Menu

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ১ বছর পর ককটেল মেরেছেন বিএনপি নেতা!

ডেঙ্গুতে নিহত বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন পুলিশের উপর ‘ককটেল ছুঁড়েছেন’। আবুধাবি শহরে থেকে নগরীর পাঁচলাইশে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন মঞ্জুরুল আলম। রাত ৪টায় রেললাইনে বসে পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘গুলি ছুঁড়েছেন’ সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডোভোকেট আব্দুস সাত্তার। এমন ভুতুড়ে অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর বিভিন্ন থানায় মামলা করেছে। পুলিশের মামলায় আসামি থেকে বাদ পড়েননি ৯০ বছরের বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিও।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কোনো ঘটনা ছাড়াই গায়েবি মামলা করতে গিয়ে এমন কান্ড করেছে পুলিশ। গত কয়েক মাসে মহানগর এবং জেলায় শতাধিক গায়েবি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি কয়েক হাজার। বাদ যাননি বিএনপির মহানগর, জেলা, থানা, ওয়ার্ড এমনকি ইউনিট পর্যায়ের নেতারাও। এসব মামলায় এরমধ্যে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা গ্রেফতার এড়াতে এখন বাড়িঘর ছাড়া। রাজপথে কোন আন্দোলন নেই। এরপরও থেমে নেই কথিত নাশকতার মামলা। 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের দিন ১০ অক্টোবর বাকলিয়া থানায় ১৮ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়। এজাহারে ১৫ নম্বর আসামি করা হয় জসিম উদ্দিনকে। কিন্তু যেদিন এ মামলা হয় সেদিন ছিল জসিম উদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের ১০ অক্টোবর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন তিনি। মামলার বাদী কোতোয়ালী থানার এসআই এস এম জামাল উদ্দিন এজাহারে উল্লেখ করেন, ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজাখালী এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড করতে জড়ো হয় আসামিরা। তারা সবাই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। খবর পেয়ে সেখানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে আসামিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ সময় গ্রেফতার করা হয় হেলাল উদ্দিন নামে একজনকে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নবাব খান, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনসহ ১৮ জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫-২০ জনকে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এক বছর আগে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনায় প্রমাণ হয় মামলাটি পুরোপুরি মিথ্যা। কারণ ওইদিন ওইসময়ে সেখানে কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে থানার ওসি প্রণব কুমার চৌধুরী দাবি করেন, সেখানে ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা করেছে। মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে যাকে ধরা হয়েছিল তার তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারে আসামিদের নাম দেয়া হয়েছে। কোন আসামি জীবিত না থাকলে তদন্ত শেষে অভিযোগ থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।

গত ১৭ অক্টোবর নগরীর খুলশী থানায় পুলিশের উপর ককটেল হামলা ও গুলি করার অভিযোগে ৫৮ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার অভিযোগে পুলিশ উল্লেখ করে, ওইদিন রাত ৪টায় আসামিরা পলিটেকনিক মোড়ের অদূরে রেললাইনে বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ যেতেই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোঁড়ে। এ মামলার অন্যতম আসামি করা হয় মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও মহানগর আদালতের সাবেক পিপি আব্দুস সাত্তারকে। তিনি ইনকিলাবকে বলেন, কথিত মামলার ঘটনাস্থল আমার বাসা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে। আমরা নাকি পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছুঁড়েছি, গুলিও করেছি। ৫৮ জন আসামির প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। এ মামলাকে গায়েবি মামলার নিকৃষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোন গোপন সংগঠন নয় যে গভীর রাতে নাশকতা করবে। 

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাঁচলাইশ থানায় বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আলমসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ করে পুলিশ। এজাহারে বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় আরাকান হাউজিং সোসাইটির পেছনে চৌধুরি ভিলায় গোপন বৈঠক করছিলেন বিএনপি নেতারা। ১৮ জনের মধ্যে অন্যতম আসামি মঞ্জুরুল আলম তখন ছিলেন আবুধাবি শহরে। ১০ জানুয়ারি তিনি ব্যবসায়িক কাজে আবুধাবি যান, ফেরেন ১৬ ফেব্রুয়ারি। ওই মামলায় অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আদালতের কাছে পাসপোর্ট, ভিসা দেখিয়ে জামিন পেয়েছেন মঞ্জুরুল আলম। 

খালেদা জিয়ার মামলার রায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন থানায় এরকম গায়েবি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলার সবকটি এজাহারে অভিযোগ প্রায় অভিন্ন। এসব মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠক’, ‘পুলিশের উপর ককটেল হামলা’ এবং ‘নাশকতার’ অভিযোগ আনা হয়। ৩ অক্টোবর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় সামনে থেকে ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হেঁটে কাজির দেউড়ি মোড় থেকে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের আটক করে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। 

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, কোন ঘটনা ছাড়াই পুলিশ গায়েবি মামলা দিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত কয়েক মাসে মহানগর ও জেলায় শতাধিক মামলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী এখন কারাবন্দি। বাকিরা গ্রেফতার এড়াতে ঘরবাড়ি ছাড়া। রাজপথে কোন কর্মসূচি নেই, এরপরও গায়েবি মামলা দিচ্ছে পুলিশ। মৃত ব্যক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এমনকি বিদেশে রয়েছে এমন লোকজনকেও এসব গায়েবি মামলায় আসামি বানিয়েছে পুলিশ। তবে নগর পুলিশের কর্মকর্তারে দাবি, গায়েবি মামলা বলে কিছু নেই, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তদন্তে যারা নির্দোষ তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

উৎসঃ   ইনকিলাব


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT