Main Menu

অসহযোগ আন্দোলনের ডাক

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অভিন্ন পাঁচ দফা মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। অন্যথায় তারা দাবি আদায়ে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেবেন।

ঢাকায় মহাসমাবেশ করে এ ডাক দেয়া হতে পারে। এর আগে তারা বিভাগীয় ও জেলা শহরে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে সভা-সমাবেশসহ প্রতিটি কর্মসূচি একমঞ্চ থেকেই পালন করবেন দলগুলোর নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্দলীয় সরকার গঠন, সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আটক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে সরকারকে আবারও আলটিমেটাম দেয়ার কথা ভাবছেন দলগুলোর নেতারা।

জাতীয় ঐক্যকে এগিয়ে নিতে তিন পক্ষ (বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া) মিলে নতুন একটি জোট গঠনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার রাতের বৈঠকে তারা একমঞ্চে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন একমঞ্চ থেকেই আন্দোলন, নির্বাচন করার চিন্তাও করছেন দলগুলোর নেতারা।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলে দেশব্যাপী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেব। ঢাকাসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশ করব। জনগণের ঐক্য গড়ে তুলব। আশা করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকার আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিতে বাধ্য হবে। যদি দাবি-দাওয়া না মানে, তাহলে অসহযোগের মতো চূড়ান্ত আন্দোলনে যাব।

রোববার রাতে পাঁচ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন এই তিন পক্ষের নেতারা। এ ক্ষেত্রে তারা জামায়াতে ইসলামীকে বাইরে রেখেই আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গুলশানের বাসায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে একসঙ্গে আন্দোলনে যাওয়া এবং কর্মসূচি ঠিক করা নিয়েও আলোচনা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহর এবং বৃহত্তর জেলাগুলোতে জনসভা করার বিষয়ে নেতারা একমত হন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় আবারও বৈঠক করেন দলগুলোর নেতারা। বৈঠকে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচনের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করেন। এখন এ রূপরেখা ঠিক করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘একমঞ্চ থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। এ ঐক্য এগিয়ে নিতে এবং আমাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে আমরা একের পর এক কর্মসূচি দেব। আমরা জনসভা করব, সভা-সমাবেশ করব, মানববন্ধন করব, প্রয়োজনে সরকারকে বিদায় জানাতে অসহযোগের মতো কঠোর আন্দোলনেও যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য পাঁচ দফা দাবি দিয়েছি। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে একই দাবি দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও যে দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের দাবি-দাওয়ার মিল রয়েছে। এ অবস্থায় তিন পক্ষ মিলে অভিন্ন দাবিতে একমঞ্চে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একমঞ্চ থেকেই আন্দোলন, নির্বাচন করব আমরা।’ মান্না আরও বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হলে আমরা একসঙ্গে দেশ পরিচালনাও করব।’

সূত্র জানায়, ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার পাশাপাশি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যকে এগিয়ে নিতে তিন পক্ষ মিলে নতুন একটি জোট গঠনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। নয়া এ জোটের নামকরণ নিয়েও ভেতরে ভেতরে আলাপ-আলোচনা চলছে। নাম ঠিক করার পাশাপাশি অভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার লক্ষ্য ঠিক করা হবে। ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এটি উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জোটের একটি নতুন নামকরণের চিন্তা-ভাবনা আছে আমাদের মধ্যে। এই জোট আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনা করবে। আন্দোলনের পাশাপাশি আমাদের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হবে। শীর্ষ নেতারা মিলে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেয়, আমরা অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেব; কিন্তু সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা জোর করেই ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্ট পাঁচ দফা দাবি এবং দেশ পরিচালনায় নয় দফা লক্ষ্য উপস্থাপন করে। বিশিষ্ট আইনজীবী, গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এটি উপস্থাপন করেন। ২২ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যা চূড়ান্ত রূপ নেয়। একমঞ্চে এদিন বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্টের নেতারা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন।

সোমবার আ স ম আবদুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ঐক্য আরও এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যুক্তফ্রন্টের পক্ষে জাতীয় জসমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ ও আ ব ম মোস্তফা আমীন অংশ নেন। এ ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT