Main Menu

বিলের পানিতে ডুব দিলেই বুড়ো ফিরে পাবে যৌবন!

এক রাত না ঘুমিয়ে ঢাকা হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে চেচুয়া বিলে পৌঁছেছেন দিনাজপুরের বাসিন্দা হাবিব মিয়া। সঙ্গে এনেছেন স্ত্রী ও দুই ছেলেকে। উদ্দেশ্য চার বছরের প্রতিবন্ধী শিশু ছেলের রোগমুক্তি। অনেক আশা নিয়ে কাদামাটি মাড়িয়ে ছেলেকে কাঁধে করে নামেন চেচুয়া বিলে। ছেলেকে নিয়ে গুনে গুনে বিলের পানিতে তিনটি ডুব দেন তিনি। কিন্তু ডুব দেয়ার পর বারবার ছেলের হাত-পা পরখ করে দেখছিলেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের অনেক পুরনো এই বিলের পানিতে ডুব দিলেই সেরে যায় কঠিন সব রোগ। এমন খবরে দু’সপ্তাহ যাবৎ হাবিব মিয়ার মতো প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করছে বিলের পাড়ে। জন্ম থেকেই কারো দু’পা বাঁকা, কারো হাত, অনেকে আবার বাক প্রতিবন্দি। এমন সব রোগীদের নিয়ে স্বজনরা অন্ধ বিশ্বাসে নেমে পড়ছে নোংরা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। শুধু ডুব দেয়া নয়, কেউ কেউ খাচ্ছে সেই পানি। আবার বাড়িও ফিরছে সেই নোংরা পানি নিয়ে।

 

কিন্তু রোগমুক্তিতো দূরের কথা, উল্টো বিলের পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। তবুও রোগমুক্তির এমন গুজবে পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে পুলিশ লাঠিচার্জ করেও ফেরাতে পারছে না মানুষদের।

জানা যায়, কে বা কারা ফেসবুকে ও লোকমুখে বিলের পানিতে ডুব দিলেই সারবে রোগ এমন গুজবের প্রচার চালিয়েছে। কাদামাটি খেলে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে, বুড়ো ফিরে পাবে যাবে যৌবন। এমন গুজব ছড়িয়ে যাওয়ায় সময় যত অতিবাহিত হচ্ছে মানুষে ভিড় তত বাড়ছে। ব্যাপক ক্ষতি মুখে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। পায়ের তলে পিশে গেছে ফসলি জমি, বাড়িতে প্রবেশ করে কাদা দিয়ে নষ্ট করছে আঙিনা। লোক সামলাতে একেবারে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনকে। তবে এখান থেকে ভালো হয়ে ফিরেছে এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারো কাছে জানতে চাইলে বলেন অমুকের কাছ থেকে শুনেছেন কিন্তু দেখেননি।

বুড়োদেরও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ডুব দেয়াতে : নয়া দিগন্ত

 

পাবনা থেকে আসা প্রতিবন্দি শামসুল হক জানান, ফেসবুকে দেখিছি এই বিলের পানিতে ডুব দিলে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে যায়।

ময়মনসিংহ আবাসন থেকে আসা আরতি রানি জানান, বিভিন্নজনের কাছ থেকে জেনেছেন এই বিলে ডুব দিলে, পানি খেলে রোগমুক্তি হয়। এ খবর শুনেই তারা চলে এসেছেন বিলে।
ডুব দেবার পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মাহাবুব নামের একজন বলেন, এখনো পরিবর্তন হয়নি। তবে পানি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি, বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে আবারো খাওয়াব। তবুও যদি আল্লাহ সুস্থ করেন।

স্থানীয়রা বলছেন সুস্থ হওয়ার কোনো খবর এখনো মিলেনি। সাধারণ মানুষকে বিলে না আসার আহ্বান জানিয়ে রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল সরকার বলেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি গুজব। পানি পড়া নিয়ে কেউ ভালো হয়েছে এমন কাউকেই আমরা পাইনি।

এদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সামাল দিতে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দৈনন্দিন কাজ ফেলে মাঠে নেমেছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হবার পাশাপাশি গুজব ছড়িয়েছে যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন, জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন মাঠে রয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতার জন্য তাদের বুঝানো হচ্ছে। আমরা মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি যাতে করে সত্য বিষয়টা উঠে আসে। এমন কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরছি। সেই সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে রোগের জন্য যে নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, সেটিই আসল পদ্ধতি। বিকল্প উপায়ে রোগ ভালো হয়ে যাবার ঘটনা শুধুই কাল্পনিক।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT