Main Menu

ইন্দোনেশিয়ার সুনামির ধ্বংসাত্মক শক্তি অবাক করেছে বিজ্ঞানীদের

৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার পালু শহরে শুক্রবার আঘাত হানা সুনামির শক্তি ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বিস্মিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই মাত্রার ভূমিকম্পে এমন ধ্বংসাত্মক ঢেউয়ের সৃষ্টি হওয়ার কথা না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম দ্বীপ সুলাবেসির পালু শহরে শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর ) ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সেখানে কম্পনের পর আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্করী সুনামির ঢেউ। সুউচ্চ ঢেউ লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলীয় এলাকা। শুক্রবারের কম্পন ও সুনামির পর শনিবার উপকূলে সন্ধান মিলেছে বহু মরদেহের। শুক্রবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৮৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কয়েক দফা আফটার শকের কারণে ভবনের ধ্বংসাবশেষ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় রয়েছেন। আটকে পড়াদের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে চেষ্টা চলছে খাবার আর পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা সহস্রাধিক হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার হাম্বল্ডট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেম্বলরে কাজ করা ভূপদার্থবিদ জ্যাসন প্যাটন বলেন, আমরা ধারণা করছিলাম ভূমিকম্পে হয়ত সুনামি হতে পারে। কিন্তু এতো বড় হবে বলে ধারণা করিনি। এমন ঘটনা যখন ঘটে তখন আমরা এমন নতুন কিছু আবিষ্কার করি যা অতীতে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

ভয়ংকর সুনামি ঘটে সাধারণত তথাকথিত বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর। যখন পৃথিবীর ভূত্বকের বড় অংশে পরিবর্তন ঘটে এবং তা ফল্টের দিকে উলম্বভাবে এগিয়ে যায়। আকস্মিক এই পরিবর্তনে বিশাল আকারের পানি স্থানচ্যুত হয়, সৃষ্টি হয় ঢেউয়ের যা সাগরে তীব্রগতিতে ছুটে যায় উপকূলের দিকে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র হতে এলাকায় কয়েক হাজার মাইলজুড়ে চালায় ধ্বংসযজ্ঞ।

২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের সুনামির সময় ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ১০০ ফুটের মতো। এই সুনামিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যা সৃষ্টি হয়েছিল সুমাত্রাতে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে।

কিন্তু শুক্রবারের ভূমিকম্প ছিল তথাকথিত স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট। এক্ষেত্রে ভূত্বক পরিবর্তিত হয় অনুভূমিকভাবে। এধরনের নড়াচড়ায় সাধারণত সুনামি হয় না।

ড. প্যাটন জানান, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি সাপেক্ষে সুনামি হতেও পারে। স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট হয়ত উলম্বভাবে পৃথিবীকে কিছুটা নাড়া দিয়েছে। ফলে তা সাগরের পানিতে স্থানচ্যুত করেছে। আরেকটা সম্ভাবনা হচ্ছে সুনামি সৃষ্টি হয়েছে পরোক্ষভাবে। ভূমিকম্পের সময় তীব্র ঝাঁকুনি সাগরের নিচে ভূমিধস ঘটিয়েছে। এতে করে পানি স্থানচ্যুত হয়ে ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছে। এধরনের ঘটনা একেবারে বিরল নয়। ১৯৬৪ সালে আলাস্কাতে ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্পে এমনটাই হয়েছিল।

প্যাটন বলেন, সবগুলো ফ্যাক্টরই হয়ত সুনামি সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। সাগরতলের গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ে হয়ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে। এই গবেষণার আগ পর্যন্ত আমরা জানতে পারব না কী কারণে এমনটা ঘটেছে।ইন্দোনেশিয়ার সুনামি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে সমালোচনার মুখে। ভূমিকম্পের পর এক ঘণ্টার মধ্যে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পরে সুনামি আছড়ে পড়ে।

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবুর্গের অধ্যাপক লুইজ কমফোর্ট জানান, সুনামি শণাক্তকরণে ইন্দোনেশিয়া এখনও শুধু সিসমোগ্রাফ, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ডিভাইস ও টাইড গজ ব্যবহার করে। এসবের কার্যকারিতার সামর্থ্যে ঘাটতি রয়েছে।

ড. কমফোর্ট জানান, তিনি ইন্দোনেশিয়ার সরকারের সঙ্গে একটি নতুন ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কাজ করছেন। এই মাসেই একটি নতুন ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করার কোনও উপায় তারা খুঁজে বের করতে পারেনি। তিনি বলেন, যখন প্রযুক্তি রয়েছে, ইন্দোনেশিয়া রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায় এবং সুনামি আবারও ঘটবে তখন তা কাজে লাগাতে না পারাটা দুঃখজনক।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT