Main Menu

২৯শে সেপ্টেম্বর আমাদের পরিবারের বিশেষ দিন

ড: নওশাদুল হক, মেলবোর্ন:আমার ওয়েলস যাওয়ার মাস কয়েক পর ডিসেম্বরের এক রাতে ট্রেনে লন্ডন গিয়েছিলাম আমার স্ত্রী নিলুকে আনতে। সে বাংলাদেশ থেকে আসছিলো। আমার প্রথম বিমান ভ্রমনের অভিজ্ঞতার কথা খুটিয়ে খুটিয়ে লিখেছিলাম চিঠিতে, পরামর্শ দিয়েছিলাম এই করবে, সেটা করবে না ইত্যাদি। তারপর অন্তত শ চারেকবার বিমানে উঠেছি কিন্ত ওদিনটাই সবচেয়ে পুরোনো হলেও ঐদিনের প্রথম বিমান ভ্রমনের সব মুহুর্ত গুলোই মনে আছে। সে এতটাই মানসিক ভাবে শক্ত আর প্রস্তত হয়েছিলো আমার পরামর্শে, যে বাংলাদেশ বিমানের ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমান বন্দরে চেন্জ ওভারের সময় সেই ই মনে হয় একমাত্র যাত্রী যে বিমানেই বসেছিলো সবাই নেমে গেলেও। 

ডিসেম্বরের সেই একদিন আকাশ(যান) থেকে হিথরোতে পরির মত অসম্ভব সুন্দরী একজন নেমেছিলো। একটুও বাড়িয়ে বা তাকে খুশী করার জন্য বলছি না। বাইরে এসেছিলো প্রবল শীতে কাপুনিরত অবস্থায় যাকে আমি পরম আদরে জড়িয়ে ধরেছিলাম দুইলেয়ার সহ মোটা জ্যাকেটে, যেটা আমি ব্যাংগর থেকে আগের রাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। মোটা প্যান্ট ও পরিয়েছিলাম তার বাংলাদেশী হাল্কা পোশাকের উপরে। তারপর ট্রেনে চেপে বরফ ঢাকা দিগন্ত ছোয়া বিরাট ছড়ানো সাদা মাঠ দেখতে দেখতে, কত গল্প, হাসি আর আনন্দ করতে করতে আমরা একসাথে ফিরেছিলাম। যাহোক আমাদের প্রকৃত সংসার ব্যাংগরেই শুরু হয়েছিলো। আমার অর্ধাংগিনীকে সোয়েটারের উপর জ্যাকেট, জ্যাকেটের উপর জ্যাকেট, টুপি, হাত মোজা যা কিছু মোটামুটি পরানো যায় তা পরিয়ে হাত দুটো ধরে বেড়াতে, ঘুরতে নিয়ে যেতাম ব্যাংগরের সুন্দর সব জায়গাগুলোতে। ঐসময়টা আমাদের জীবনের এখন পর্যন্ত সেরা সময়গুলোর একটা, যদি ফিরে তাকায়।

এরপর আসলো সেইদিন বিশেষদিন আজকের মতোই এক ২৯শে সেপ্টেম্বর। যেদিন আরেকটা ছোট্ট পরি জন্মনিলো আমাদের সংসারে। পরম মমতায় তুলতুলে ওকে কোলে নিয়েছিলাম সেদিন। বুঝতেই কষ্ট হয়, এতটা সময় পেরিয়ে গেছে, যে জন্ম নিয়েছিলো ‘ইসবাইটি’ (ওয়েলস্ ভাষায় ইসবাইটি মানে হাসপাতাল) গিনেড নামে এক হাসপাতালে - সে এখন মনাস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বারান্দায় স্টুডেন্ট ডক্টর হিসেবে সারাদিন কাটায়। তার দেখা পাওয়াই ভার। আমি সন্ধ্যায় ফিরে নীচতলার সোফায় বসে অপেক্ষা করি কখন সে ফিরে গোসল সেরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামবে, তার চাঁদমুখ খানি দেখতে পাবো, তার দ্রুতলয়ে সিঁড়িভেঙে নামার সময়। নামার সাথে সাথে সে তার নিজস্ব স্টাইলে ডিনার তৈরী করবে আমাকে পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞানদান সহ, আমি আগ্রহ নিয়ে দুচোখ ভরে দেখবো আর আমি তাকে যারপরনাই বিরক্ত করা শুরু করবো। তারপর ডাক্তার বড় না ইনি্জিনিয়ার বড় এ নিয়ে দু একটা ‘হাসি আনা কষ্টকর’ এমন কৌতুক বলার চেষ্টা করবো। সে হাসবে, দুএকটা মন্তব্য করবে - ‘ড্যাডি যে জোক ব্যাখা করতে হয় সেটা কোনো জোক না’, ইত্যাদি - আবার পড়তে বা স্কাইপে পড়াতে চলে যাবে খাওয়া শেষ করে অথবা খাবার সাথে নিয়ে।

আজ একুশ বছরে পা দিলো আমার রাজ্যের রাজকুমারী। গতবার এক ভাবী মনে করিয়ে দিতেই চিন্তায় পড়েছি যে কার কাছে যেতে হবে তাকে, থাকতে হবে আমাকে ছেড়ে। আর আমিই বা তাকে না দেখে থাকবো কি করে। চিন্তা করছি আবার পিকু-২ মুভির কাহিনী না তৈরী হয়ে যায়। এই প্রথম সে জাপান যাবে ঘুরতে, অনেক কিছুর পর তার মাকে ও আমাকে রাজি করিয়েছে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছি জাপান যাওয়ার কি দরকার, ওখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয় ইত্যাদি, কিন্ত কে শোনে কার কথা। ভেবে দেখলাম আসলেই সে বড় হয়েছে। আমাকে আস্তে আস্তে তাকে উড়তে দিতে হবে।

তার ছোটবেলার কথা মনে করার চেষ্টা করি, প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষন। বাংলা স্কুলে গিয়ে আমার ছেলেমেয়েদের ছোটবেলা খুঁজে ফিরি অন্য সব ছেলেমেয়েদের মাঝে। মনে হয় আমার ছেলেমেয়েদের - তাদের সেই ছোট্ট বেলা ফিরিয়ে আনি। যাদের ছোট ছেলেমেয়ে আছে তাদের বলি এই সময়ের প্রতিটি মূহুর্ত একসাথে তাদের সাথে উপভোগ করতে।

মনে মনে গুন গুন করি “চন্দ্র যে তুই মোর সূর্য যে তুই, আমার এ আঁখিতে তারা যে তুই”।

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের আখির তারকাগুলো ভালো থাকুক, আরো বড় হোক, ভালো মানুষ হোক। 

সবার কাছে আমার আখির মনি মনীষার (মাহদিয়ার মনি আপু) জন্য দোয়া চাই তার ২১ তম জন্মদিনে। সবার জন্য শুভকামনা আর ধন্যবাদ


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT