Main Menu

দেশে প্রধান বিচারপতি নিজেই বিচার পাননি: এস কে সিনহা

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশে নিজেই বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এই অভিযোগ করেন।

সাক্ষাৎকারে এস কে সিনহা বলেন, ‘আমি যেদিন বাসা থেকে বের হয়ে চলে আসি, আপনারা দেখলে দেখবেন বের হতে পারছিলাম না, হাজার হাজার সাংবাদিক, নিশ্চয় একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি তো অসুস্থ ছিলাম না। আর আমি তো সেদিন বলেছি আমি অসুস্থ না। আমি তো সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেইনি। এতেই কি প্রমাণিত হয় না আমাকে জোর করে পাঠানো হয়েছিল অসুস্থতার ভানে?’

রাষ্ট্রের একজন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এমন করা অপরাধ কি না—এমন প্রশ্নে সিনহা বলেন, ‘এটা তো সভ্য দেশে হয় না, সভ্যতার একেবারে শুরুর দিকেও এমন হয়নি। বাংলাদেশ ছাড়া উপমহাদেশে এমন দেশ ছাড়তে হয়েছিল শ্রীলঙ্কার প্রধান বিচারপতির। তবে তার আমার মতো এমন অবস্থা হয়নি। একমাত্র প্রধান বিচারপতি আমি, যাকে সেনাবাহিনী দিয়ে তাড়া করে দেশ থেকে বের করা হয়েছে।’

এস কে সিনহা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কত অসভ্য! বিচার বিভাগের যে প্রধান তাকে যদি এ রকম পাঠিয়ে দেওয়া হয়!’

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি জানান, সে সময় তার দেশে কথা বলার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি দেশে শুধু এইটুকু বলতে পেরেছিলেন, তিনি অসুস্থ না।

বই লেখার বিষয়ে এস কে সিনহা জানান, তিনি একটি ডকুমেন্ট রাখতে চেয়েছিলেন, যেন পৃথিবীর আর কোনো বিচার বিভাগের প্রধানের সঙ্গে এমন না হয়। বইটি লেখার মধ্য দিয়ে তিনি চেয়েছেন একটি সভ্য দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, নিরপেক্ষ থাকুক।

পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে সরকার উৎখাত বিষয়ে এক প্রশ্নে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। তাদের সাপোর্টে দেশের পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, দেশের জণগণ; তাহলে তাদের আমার মতো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এত ভয় কেন? পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের আর্থিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনেক ভালো। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে হবে না। আর সরকার যদি তুলনা করে, তাহলে সরকারে থাকা উচিত না।’

‘জনগণের সমর্থন থাকলে তারা এত ভয় পেত না। সবসময় তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেত না। সরকার যদি মনে করে থাকে আমি তাদের উৎখাত করব, তাহলে মনে হয় সরকারের ভিত খুব দুর্বল ছিল এবং আছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অবস্থা এখন খুবই হিজিবিজি, যেটা পড়লে যে কেউ কনফিউস হয়ে যাবে। সংবিধান এখন পুনঃরচনা করা দরকার।’

এস কে সিনহা। যুক্তরাষ্ট্রে এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারপ্রধানের উপদেষ্টাদের একটু পড়াশোনা করার উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘দেশের এত বড় একটা রাজনৈতিক দলের উপদেষ্টারা জানেন না ফাদার অব দ্য ন্যাশন আর ফাউন্ডার অব দ্য ন্যাশনের মধ্যে পার্থক্য কী। তারা প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে বুঝিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও সেভাবেই বুঝেছেন। এটা আমার খুবই কষ্ট লাগে, একটা দেশের প্রধানের উপদেষ্টারা এত কম পড়াশোনার হয় কী করে! তারা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়েছেন আমি নাকি বঙ্গবন্ধুকে খাটো করেছি, ছোট করেছি।’

‘তারা যে বঙ্গবন্ধুকে ফাউন্ডার অব দ্য ন্যাশন বানাতে চান। কোথায় জাতির পিতা (ফাদার অব দ্য ন্যাশন) আর তার অধীনে যারা সংবিধান রচনা করেছেন, আর বাকি কাজ করেছেন, তারা হলেন ফাউন্ডার অব দ্য ন্যাশন। আমি হাসব না না কাঁদব আমি নিজেই বুঝে উঠতে পারছি না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এবং ২১ আগস্ট মামলার বিষয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটি একটি চলমান মামলা। এটি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটুকু মন্তব্য করব, যে দেশে প্রধান বিচারপতি নিজেই বিচার পায়নি। যেখানে সরকার দেখিয়ে দিয়েছে আমাকেই বিচার ছাড়াই সরিয়ে দিয়ে। সেই ক্ষেত্রে কীভাবে বিচার হবে সেটা তো আমি বলেতে পারব না।’

প্রিয়


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT